প্রধান মেনু খুলুন

মুলতান সূর্য মন্দির

ইতিহাসসম্পাদনা

প্রচলিত কিংবদন্তি অনুসারে, কৃষ্ণের পুত্র শাম্ব কুষ্ঠ রোগ থেকে মুক্ত হতে মুলতানের আদি সূর্যমন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন।[৩][৪][৫]

গ্রিক নৌপ্রধান সাইল্যাক্স এই সূর্যমন্দিরের উল্লেখ করেছিলেন। তিনি ৫১৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এই অঞ্চলের পাশ দিয়ে গিয়েছিলেন। মুলতান শহরের প্রাচীন নাম ছিল কাশ্যপপুর। এই শহর ও তার সূর্যমন্দিরের উল্লেখ হেরোডোটাসও করেছিলেন।[৬]

কথিত আছে, ৬৪১ খ্রিষ্টাব্দে হিউয়েন সাং এই মন্দিরে এসেছিলেন। তার বর্ণনা থেকে জানা যায়, এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত বিগ্রহটি ছিল সোনার তৈরি ও বিগ্রহের চোখদুটি ছিল লাল চুনি দিয়ে তৈরি।[৭] মন্দিরের দরজা, স্তম্ভ ও চূড়ায় সোনা, রুপো ও রত্নের অনেক ব্যবহার ছিল। প্রতিদিন সহস্রাধিক হিন্দু এই মন্দিরে পূজা দিত। তিনি এই মন্দিরে কিছু দেবদাসীও দেখেছিলেন।[৮][৯] তিনি আরও বলেছিলেন, এই মন্দিরে শিববুদ্ধের মূর্তি ছিল।[১০]

অষ্টম শতাব্দীতে মুহাম্মদ বিন কাশিমের নেতৃত্বে উমায়াদ খলিফা বাহিনী মুলতান দখল করেন। অনুপ্রবেশকারীরা এই মন্দির লুণ্ঠন করে।[১১][১২] কাশিম মন্দিরের রক্ষকদের বন্দী করে ধনসম্পদ লুঠ করেন। শুধু কাঠের বিগ্রহটি লুঠ করা হয়নি। তবে হিন্দুধর্মকে উপহাস করতে এক টুকরো গোমাংস মুর্তিটির গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।[১৩][১৪][১৫] বাজারের কাছে কাশিম একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। পরে মুলতান আক্রমণকারী হিন্দু রাজাদের সঙ্গে দরাদরি করার জন্য এই মন্দিরটিকে ব্যবহার করা হত। যেকোনো হিন্দু রাজা মুলতান দখল করতে চাইলেই, মন্দিরটি ধ্বংস করার হুমকি দেওয়া হত। এর ফলে হিন্দু রাজারা মুলতান আক্রমণ থেকে বিরত থাকতেন।[১৩][১৬][১৭] দশম শতাব্দীতে ইসমাইলিরা মুলতান দখল করে মূর্তিটি ভেঙে ফেলে ও পুরোহিতদের হত্যা করে। তারা মন্দিরের জায়গায় একটি মসজিদ তৈরি করে। উমায়াদ মসজিদটির বদলে এটি ব্যবহৃত হতে থাকে। পরে গজনির মামুদ নতুন মসজিদটি বন্ধ করে শুক্রবারের প্রার্থনার জন্য পুরনো মসজিদটিই চালু রাখেন। এর ফলে ইসমাইলি মজজিদটি জীর্ণ হয়ে পড়ে। আল বিরুনি লিখেছিলেন, একাদশ শতাব্দীতে হিন্দু তীর্থযাত্রীরা মুলতানের সূর্যমন্দিরে আসতেন না। কারণ সেই সময় মন্দিরটি পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল। তারপর আর মন্দিরটি তৈরি হয়নি।[১৩][১৮][১৯]

আল বিরুনি এই মন্দিরের বর্ণনাও দিয়েছিলেন।[৩] যদিও কথিত আছে গজনির মামুদই ১০২৬ সালে মন্দিরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেন।[৮][৯][১২]

মুলতানের যে অংশে মন্দিরটি অবস্থিত ছিল “মূলস্থান”। সম্ভবত এই নাম থেকেই মুলতান শহরের নামের উৎপত্তি হয়েছিল।[২০][২১] এই স্থানটি সঠিক কোথায় ছিল, তা আর জানা যায় না। এই নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতান্তর আছে।

পাদটীকাসম্পাদনা

  1. Journal of Indian history: golden jubilee volume। T. K. Ravindran, University of Kerala. Dept. of History। ১৯৭৩। পৃষ্ঠা 362। 
  2. [১] ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে Survey & Studies for Conservation of Historical Monuments of Multan. Department of Archeology & Museums, Ministry of Culture, Government of Pakistan.
  3. Bhagawan Parashuram and evolution of culture in north-east India। ১৯৮৭। পৃষ্ঠা 171। 
  4. Region in Indian History By Lucknow University. Dept. of Medieval & Modern Indian History। ২০০৮। পৃষ্ঠা 79। 
  5. Ancient India and Iran: a study of their cultural contacts by Nalinee M. Chapekar, pp 29-30
  6. Islamic culture, Volume 43। Islamic culture Board। ১৯৬৩। পৃষ্ঠা 14। 
  7. A Religious History of Ancient India, Up to C. 1200 A.D.: Smarta, epic-Pauranika and Tantrika Hinduism, Christianity and Islam by Srirama Goyala, 1986, pp 339
  8. Divine Prostitution By Nagendra Kr Singh। ১৯৯৭। পৃষ্ঠা 44। 
  9. Encyclopaedia of Indian Women Through the Ages: The middle ages By Simmi Jain। ২০০৩। পৃষ্ঠা 132। 
  10. Sun-worship in ancient India। ১৯৭১। পৃষ্ঠা 172। 
  11. Schimmel pg.4
  12. A glossary of the tribes and castes of the Punjab and North-West ..., Volume 1 By H.A. Rose। ১৯৯৭। পৃষ্ঠা 489। 
  13. Wink, André (১৯৯৭)। Al- Hind: The slave kings and the Islamic conquest. 2, Volume 1। BRILL। পৃষ্ঠা 187–188। আইএসবিএন 9789004095090 
  14. Al-Balādhurī। Futūh al-Buldān। পৃষ্ঠা 427। 
  15. Al-Masʿūdī। Muruj adh-dhahab wa ma'adin al-jawahir, I। পৃষ্ঠা 116। 
  16. Al-Masʿūdī। Muruj adh-dhahab wa ma'adin al-jawahir, I। পৃষ্ঠা 167। 
  17. De Goeje। Ibn Hauqal। পৃষ্ঠা 228–229। 
  18. Sachau। Alberuni's India, I। পৃষ্ঠা 116–117। 
  19. Sachau। Alberuni's India, II। পৃষ্ঠা 148। 
  20. Multān City - Imperial Gazetteer of India, v. 18, p. 35.
  21. Hindu History BY Akshoy K Majumdar Published by Rupa and CO PAGE 54