মিত্র ওয়েতিমুনি

শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার

মিত্র ডি সিলভা ওয়েতিমুনি (তামিল: மித்திர வெத்தமுனி; জন্ম: ১১ জুন, ১৯৫১ - মৃত্যু: ২০ জানুয়ারি, ২০১৯) কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা শ্রীলঙ্কান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১] শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৮৩ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন মিত্র ওয়েতিমুনি[২] তবে, ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে খেলেননি তিনি। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন।

মিত্র ওয়েতিমুনি
මිත්‍ර වෙත්තමුනි
মিত্র ওয়েতিমুনি.jpeg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামমিত্র ডি সিলভা ওয়েতিমুনি
জন্ম(১৯৫১-০৬-১১)১১ জুন ১৯৫১
কলম্বো
মৃত্যু২০ জানুয়ারি ২০১৯(2019-01-20) (বয়স ৬৭)
কলম্বো
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২২)
৪ মার্চ ১৯৮৩ বনাম নিউজিল্যান্ড
শেষ টেস্ট১১ মার্চ ১৯৮৩ বনাম নিউজিল্যান্ড
একমাত্র ওডিআই
(ক্যাপ ৩১)
২ মার্চ ১৯৮৩ বনাম নিউজিল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা
রানের সংখ্যা ২৮ ২৬৮ ৪৯
ব্যাটিং গড় ৭.০০ ২.০০ ১৭.৮৬ ১৬.৩৩
১০০/৫০ -/- -/- –/১ –/–
সর্বোচ্চ রান ১৭ ৫৫ ৪৬
বল করেছে - - ৩০
উইকেট - - - -
বোলিং গড় - - - -
ইনিংসে ৫ উইকেট - - -
ম্যাচে ১০ উইকেট - - - -
সেরা বোলিং - - - -
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/- -/- ৭/– –/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

খেলোয়াড়ী জীবনসম্পাদনা

সম্মিলিত সিলন বিদ্যালয়ের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন মিত্র ওয়েতিমুনি। দলটিকে নিয়ে ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে ভারত গমন করেন। ঐ দলটিতে ভবিষ্যতের টেস্ট অধিনায়ক বান্দুলা ওয়ার্নাপুরাদিলীপ মেন্ডিসের অংশগ্রহণ ছিল। ১৯৮২ সালে শ্রীলঙ্কা দল টেস্ট মর্যাদায় আসীন হয়। এ সময় তার বয়স ত্রিশোর্ধ্ব ছিল। ওয়েতিমুনির পুরো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা ১২৭ দিনে চারটি দেশের সাথে নয় খেলায় সম্পন্ন হয়। নভেম্বর, ১৯৮২ সালে বুলাওয়েতে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন।

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য হয় তার। তবে কোন টেস্টই নিজ দেশে খেলে যেতে পারেননি। ৪ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে মিত্র ওয়েতিমুনি’র। নিউজিল্যান্ড গমনে শ্রীলঙ্কা দলের সদস্যরূপে তাকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল। ঐ সফরের দুই টেস্টে অংশ নিয়ে চার ইনিংসে মোটে ২৮ রান তুলেছিলেন। ঐ খেলাগুলোর প্রথমটিতে সহোদর কনিষ্ঠ ভ্রাতা সিদাথের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন যা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের কেবলমাত্র তৃতীয় ঘটনারূপে বিবেচ্য। একই দলের বিপক্ষে এর পূর্বেই ২ মার্চ তারিখে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক হয় তার। এটিই তার একমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ ছিল।

খেলার ধরনসম্পাদনা

তার খেলোয়াড়ী জীবন স্বল্পকালীন ছিল। সর্বমোট নয়টি প্রথম-শ্রেণীর খেলার মধ্যে দুটিই টেস্ট ছিল। কেবলমাত্র একটি খেলা শ্রীলঙ্কার মাটিতে খেলতে পেরেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর অভিষেক খেলাতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করেন। কিন্তু, এরপর নিজেকে আর মেলে ধরতে পারেননি।

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

শ্রীলঙ্কার পক্ষে প্রতিনিধিত্বকারী ওয়েতিমুনি ভ্রাতাত্রয়ের অন্যতম ছিলেন। তারা প্রত্যেকেই ব্যাটিং উদ্বোধনে মাঠে নামতেন। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা সুনীল ওয়েতিমুনি টেস্ট মর্যাদা লাভের পূর্বে শ্রীলঙ্কার পক্ষে খেলেছেন। ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছিলেন সুনীল। অন্যদিকে, কনিষ্ঠ ভ্রাতা সিদাথ ওয়েতিমুনি শ্রীলঙ্কার পক্ষে প্রথম টেস্ট শতক করার গৌরব অর্জন করেছেন।

২০ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে ৬৮ বছর বয়সে কলম্বোয় মিত্র ওয়েতিমুনি’র দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Former Test Cricketer Mithra Wettimuny passes away"The Papare। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০১৯ 
  2. "Mithra, second of illustrious Wettimuny brothers passes away"Daily News। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০১৯ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা