প্রধান মেনু খুলুন

মরুতীর্থ হিংলাজ বাঙলা ভাষায় রচিত একটি আত্মজৈবনিক কাহিনী। এটির রচয়িতা অবধূত তথা দুলালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়[১] বইটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। পাকিস্তানে বেলুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত মরু এলাকা 'হিংলাজ' হিন্দুদের একটি তীর্থস্থান। ৫১ শক্তিপীঠের এক পীঠ।

মরুতীর্থ হিংলাজ
লেখকদুলালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়
ধরনআত্মজৈবনিক কাহিনী
প্রকাশককলকাতার মিত্র এণ্ড ঘোষ
পৃষ্ঠাসংখ্যা১৭৬

মন্দিরের নামেই গ্রামটির নাম হিংলাজ ৷ বাংলা, হিন্দী, অসমীয়া ও সিন্ধি ভাষায় দেবীর নাম হিংলাজ হলেও মূল সংস্কৃত শব্দটি হল "হিঙ্গুলা"৷

হিংলাজের তীর্থযাত্রীরা সেকালে যেতেন উটের পিঠে চড়ে৷ যাত্রা শুরু হত করাচী শহরের কাছে হাব নদীর ধারে৷ সঙ্গে থাকত এক মাসের রসদ, যেমন শুকনো খাবার, মরুদস্যুদের প্রতিরোধ করার জন্য অস্ত্র, পানীয় জল ইত্যাদি৷ এছাড়া সঙ্গে থাকত হিংলাজ মাতার প্রসাদের জন্য শুকনো নারকেল, মিছরি, বাতাসা ইত্যাদি৷ এক মাসের অত্যন্ত কঠোর যাত্রার পর শ্রান্ত তীর্থযাত্রীরা পৌঁছতেন হিংলাজে৷ অঘোর নদীতে স্নান সেরে তাঁরা দর্শন করতে যেতেন হিংলাজ মাতাকে৷ এই মন্দির স্থানীয় বালুচ মুসলমানদের কাছেও পরম আদরণীয়৷ তাদের কাছে এটি "নানী কী হজ" নামে পরিচিত৷

হিংলাজের মন্দিরটি একটি গুহার মধ্যে অবস্থিত৷ এটি আসলে একটি অগ্নিকুণ্ড৷ অগ্নিজ্যোতিকেই হিংলাজদেবীর রূপ বলে মানা হয়৷

বাঙালী ঔপন্যাসিক কালিকানন্দ অবধূত-রচিত 'মরুতীর্থ হিংলাজ' এবং 'হিংলাজের পরে' উপন্যাস-দুটিতে হিংলাজ ও কোটেশ্বর তীর্থদ্বয়ের বিস্তৃত ও অনুপুঙ্খ বিবরণ রয়েছে। '

বইটি কেবল হিংলাজে গমনাগমনের কাহিনী নয়, এতে আছে একজন সংসারবিরাগী মানুষের জীবনদর্শন। চমৎকার গদ্যের জন্য এর সাহিত্যমূল্যও উঁচু। ১৭৬ পৃষ্ঠার গ্রন্থটির প্রকাশক কলকাতার মিত্র এণ্ড ঘোষ। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর দুলালচন্দ্র সন্ন্যাস ব্রত গ্রহণ করেন এবং উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দিরে গিয়ে অবধূত হন। তাঁর নতুন নাম হয় কালিকানন্দ অবধূত। অবধূত বলতে একরূপ সাধক বোঝায়।

হিংলাজ যাত্রা শুরু হয় বাংলা ১৩৫৩ সনের আষাঢ় মাসে। এই উপন্যাসটি অবলম্বনে ১৯৫৯ সালে একটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়, যার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন বিকাশ রায় ও উত্তমকুমার

  1. বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সাহিত্য সংসদ, ২০০২, পৃ. ২১৪