মফিজুল ইসলাম

বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য

মফিজুল ইসলাম (১৯২৬–২৫ ডিসেম্বর ১৯৯১) বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক যিনি তৎকালীন কুমিল্লা-১৩ আসনের আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।[১][২]

অধ্যাপক

মফিজুল ইসলাম
কুমিল্লা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য
কাজের মেয়াদ
১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ – ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২
পূর্বসূরীআব্দুল হাকিম
উত্তরসূরীআসন বিলুপ্ত
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম১৯২৬
কুমিল্লা
মৃত্যু২৫ ডিসেম্বর ১৯৯১
রাজনৈতিক দলন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি
প্রাক্তন শিক্ষার্থীঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম কলেজ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ

প্রাথমিক জীবনসম্পাদনা

মফিজুল ইসলাম ১৯২৬ সালে কুমিল্লা জেলার বুড়িচংয়ের বাকশীমূল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বন্দে আলী মিয়া এবং মাতা আতারুন্নেসা। তিনি ১৯৪৩ সালে ইউসুফ বহুমুখী কারিগরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে ১৯৪৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে তিনি স্নাতক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।[২]

রাজনৈতিক ও কর্মজীবনসম্পাদনা

মফিজুল ইসলাম কর্মজীবনের শুরুতে চট্টগ্রামের আবু তোরাব হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ১৯৫৪ সালে চট্টগ্রাম সিটি কলেজের উপধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[২]

তিনি ১৯৪৬ সালে চট্টগ্রাম জেলা মুসলিম ছাত্রলীগ সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫০ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।[২]

তিনি লাহোর থেকে প্রকাশিত ‘দি পাকিস্তান টাইমসের’ এর চট্টগ্রাম সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৫২ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সরকার বিরোধী বাংলা দৈনিক ‘আমার দেশ’ ঢাকা থেকে প্রকাশ করেন। যদিও তা ৬ মাস পর বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৫৪ সালে তিনি ‘পাকিস্তান অবজারভার’ পত্রিকার চট্টগ্রাম সংবাদপত্রদাতার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[২]

১৯৫৩ সালে তিনি ভাসানীর নেতৃত্বাধীনে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হলে তিনি কুমিল্লা জেলার সভাপতি মনোনীত হন। পরবর্তীতে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে জাতীয় লীগ গঠিত হলে তাতে যোগদান করে সহসভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫৪, ১৯৫৮ ও ১৯৭০ সালের তৎকালীন পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনি পরাজিত হন।[২]

১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন কুমিল্লা-১৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[১][৩] এরপর রাজনীতির বাহিরে ছিলেন।[২]

মৃত্যুসম্পাদনা

মফিজুল ইসলাম ২৫ ডিসেম্বর ১৯৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।[২]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "২য় জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (PDF)জাতীয় সংসদবাংলাদেশ সরকার। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  2. এডভোকেট গোলাম ফারুক (২৫ অক্টোবর ২০১৯)। "কুমিল্লার দুই কৃতী রাজনীতিবিদ গুরু শিষ্য অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ও অধ্যাপক মফিজুল ইসলাম"কুমিল্লার কাগজ। ২৬ অক্টোবর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০২০ 
  3. The Election Archives (ইংরেজি ভাষায়)। Shiv Lal। ১৯৮১।