পাপড়ি বসু হলেন একজন বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সমাজকর্মী ও নারী অধিকার কর্মী। তিনি ২০১৯ সালে বেগম রোকেয়া পদক লাভ করেন।

পাপড়ি বসু
জন্ম (1956-03-02) ২ মার্চ ১৯৫৬ (বয়স ৬৪)
জাতীয়তাবাংলাদেশি
মাতৃশিক্ষায়তনচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
পুরস্কারবেগম রোকেয়া পদক (২০১৯)

জীবনীসম্পাদনা

পাপড়ি বসু ১৯৫৬ সালের ২ মার্চ কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।[১] তার পিতার নাম প্রমথ চন্দ্র ধর ও মায়ের নাম মায়া ধর। তিনি অষ্টম শ্রেণীতে পড়াকালীন সময়ে একটি পাঠ্যপুস্তক প্রত্যাহার করার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের সামনে অনশনে বসেছিলেন।[১]

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি সীমান্ত অতিক্রম করে ত্রিপুরা গমন করেন। সেখানে তিনিসহ অন্যরা মিলে একটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী গঠন করেন। তারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে অর্থ আয় করতেন ও সেই অর্থ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য দিতেন।[১]

পাপিয়া বসুর মামা নীতিশ রায় চৌধুরী আকাশবাণীর সংবাদদাতা ছিলেন।[২] তিনি তার মামাকে খবর সম্পাদনায় সাহায্য করতেন। তিনি সে সময়ে নিবন্ধও লিখেছেন। তার লেখা মানবিকতার প্রশ্নে ইন্দিরাজি শিরোনামের একটি নিবন্ধ আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।[২]

দেশ স্বাধীন হলে পাপড়ি বসু বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ১৯৭২ সালে তিনি মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৭৪ সালে তিনি কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।[২] এরপর, তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি সেখান থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা গ্রহণ করেন।[২] এরপর, তিনি কুমিল্লার ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন ও সমাজের কল্যাজে কাজ শুরু করেন।[২] তিনি ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (পরিবার পরিকল্পনা সমিতি বাংলাদেশ) ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া নারী অধিকার নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।

সন্মাননাসম্পাদনা

পাপড়ি বসু ২০১৯ সালে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার অবদানেত জন্য বেগম রোকেয়া পদক লাভ করেন।[৩][৪][৫]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "কুমিল্লার বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা পাপড়ি বসু"ডয়েচে ভেলে। ৪ জুলাই ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  2. "সমাজসেবায় রত নারী মুক্তিযোদ্ধা পাপড়ি বসু"ডয়েচে ভেলে। ১১ জুলাই ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  3. "5 eminent women to get Begum Rokeya Padak 2019"ঢাকা ট্রিবিউন (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ ডিসেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  4. "PM distributes Begum Rokeya Padak"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ৯ ডিসেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  5. "বেগম রোকেয়া পদক দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা"btv.gov.bd। বাংলাদেশ টেলিভিশন। ৯ ডিসেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯