দ্বিখণ্ডিত (অর্থাৎ দুই ভাগে বিভক্ত) উপন্যাস ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয়। এই বইটি উপন্যাসিক ও কবি তসলিমা নাসরিনের একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। এটি মেয়েবেলার তৃতীয় খণ্ড। বইটি প্রথম বাংলাদেশে প্রকাশিত হয়েছিল। বইটি প্রকাশ করায় আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়।[১] ধর্মীয় বিশ্বাস ও অপমানের অভিযোগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও বইটি দুইবছরের জন্য নিষিদ্ধ ছিল।[২] মার্চ ২০১৮ সালে বইটি ইংরেজিতে অনুবাদ হয়েছিল। লাইফ এ স্প্লিট নামে বইটি পেঙ্গুইন হাউস থেকে প্রকাশ করা হয়।[৩][৪]

দ্বিখণ্ডিতো
লেখকতসলিমা নাসরিন
দেশভারত
ভাষাবাংলা ভাষা
ধরনআত্মজীবনী
প্রকাশিত২০০৩
প্রকাশকপিপলস বুক সোসাইটি
আইএসবিএন৯৭৮৮১৮৫৩৮৩৪৭৭

বিতর্কসম্পাদনা

লেখক দাবি করেছিলেন যে বইটি তার অভিজ্ঞতা থেকে লেখা। দ্বিখণ্ডিত বইটি ঢাকা আদালত নিষিদ্ধ করেছিলো। প্রবীণ বাঙালি কবি ও উপন্যাসিক সৈয়দ শামসুল হক মানহানির মামলা করার পরে এর কপিগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।[১] তারপর কলকাতা ভিত্তিক বুদ্ধিজীবীরা কলকাতা খেলাফত কমিটির নির্দেশে সাম্প্রদায়িক স্বার্থে বিতর্কিত বইটি নিষিদ্ধ করার জন্য রাজ্য সরকারকে অনুরোধ করেছিলেন। একই সাথে এই বই লেখার জন্য তার বিরুদ্ধে পাঁচটি ফতোয়া জারি করা হয়েছিল। [৫][৬] সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কলকাতায় বলেছিলেন, দ্বিখণ্ডিত সাহিত্য নয়। আপনি যদি কিছু লেখকের কেলেঙ্কারী সম্পর্কে আগ্রহী হন, তবে এটি পড়তে ভাল লাগতে পারে। তবে এটি সাহিত্য নয়। এছাড়া দিব্যেন্দু পালিত মন্তব্য করেছিলেন যে, এই বইটি সাম্প্রদায়িক বিভেদ বাড়িয়ে তুলতে পারে। তার সাথে সাথে মুসলিম বুদ্ধিজীবীরাও আবেদন করেছিলেন নিষেধাজ্ঞা জারি করার জন্য। [৭] ঢাকা এবং কলকাতার কবি ও লেখক বেশ কয়েকজন নাসরিন কে বলেছিলেন, তার বইটিতে যৌন মিলন সম্পর্কে একটি কল্পিত কল্পনা লিখেছেন। এরপর [৮] এই বইটি বিতর্কে আসার পর সরকার ২০০৩ সালে ২৮ নভেম্বর সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে এই ভয়ে বইটি নিষিদ্ধ করেছিল। তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বুদ্ধিজীবীদের সাথে পরামর্শের পরে বইটি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। [৯] সিপিআই (এম) নেতা অনিল বিশ্বাস বলেছিলেন যে, দ্বিখণ্ডিত পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করতে পারে।[১০] কলকাতা পুলিশ স্থানীয় প্রকাশকের কাছ থেকে বইটির প্রায় তিন হাজার কপি জব্দ করেছে। সরকার জানিয়েছিল যে এটিতে ৪৯ এবং ৫০ পৃষ্ঠায় এমন বিষয় রয়েছে যা ধর্মের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা, অশুভ ইচ্ছা এবং বিদ্বেষকে উৎসাহিত করতে যা পারে ১৫৩ ধারায় দণ্ডনীয়[১১] হযরত মোহাম্মদ সম্পর্কে এই বইয়ে নাসরিনের বক্তব্য মুসলিম সম্প্রদায়ের মনোভাবকে আঘাত করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। [২] ১৮ নভেম্বর ২০০৩-এ কবি সৈয়দ হাসমত জালাল নাসরিনের বিরুদ্ধে ১১ কোটি টাকার আইএনআর মানহানির মামলা দায়ের করার পরে কলকাতা হাইকোর্ট এ প্রকাশনার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ২২ সেপ্টেম্বর ২০০৫-এ মাননীয় বিচারপতি দিলীপ শেঠের বিভাগ বেঞ্চ এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। [১২]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Mini Chandran। "The Writer, the Reader and the State: Literary Censorship in India"। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২১, ২০১৯ 
  2. "WB govt bans Taslima Nasreen's book"rediff.com। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২১, ২০১৯ 
  3. "Nasreen book Dwikhandito, once banned by Bengal govt, now in English"business-standard.com। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২১, ২০১৯ 
  4. "Taslima book once banned by Bengal now in English"indiatoday.in। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২১, ২০১৯ 
  5. "Politicians in India appease Muslims which annoys Hindus: Taslima Nasreen"। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২১, ২০১৯ 
  6. "Taslima: Indian writers guilty of double standards"। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২১, ২০১৯ 
  7. "Red rag in Taslima, red carpet for Deepa"telegraphindia.com। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২১, ২০১৯ 
  8. "A shocker from Taslima"। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২১, ২০১৯ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  9. Ramachandra Guha। "Democrats and Dissenters"। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২১, ২০১৯ 
  10. "দ্বিখণ্ডিত নিষিদ্ধ করেছি বাধ্য হয়ে, বললেন বুদ্ধ"। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২১, ২০১৯ 
  11. "Bengal bans Taslima's book"thehindu.com। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২১, ২০১৯ 
  12. "Sujato Bhadra vs State Of West Bengal"। সেপ্টেম্বর ২২, ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২১, ২০১৯