দাশরথি রায়

বাংলা সঙ্গীতজ্ঞ, পাঁচালিকার ও কবি

দাশরথি রায় ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি স্বভাবকবি এবং পাঁচালিকার।[১]

দাশরথি রায়
জন্ম
দাশরথি রায়

১৮০৬
মৃত্যু১৮৫৭
অন্যান্য নামদাশু রায়
পেশা
  • কবি
  • গীতিকার

প্রাথমিক জীবনসম্পাদনা

১৮০৫ খিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার বাঁধমুড়া গ্রামে ব্রাহ্মণ পরিবারে দাশরথি রায় জন্ম নেন। তার পিতার নাম দেবীপ্রসাদ রায় এবং মাতার নাম শ্রীমতী দেবী। শুরুতে গ্রামের পাঠশালায় বাল্যশিক্ষা এবং পরবর্তীকালে মাতুলের প্রচেষ্টায় বাংলা এবং ইংরেজি ভাষা শিখে তিনি স্থানীয় নীলকুঠিতে কিছুকাল কেরানির চাকরি করেন। তিনি আকা বাঈর (অক্ষয় কাটানী) কবিয়াল দলে যোগ দেন এবং কবিয়াল নিধিরাম শুঁড়ির সাথেও কবির লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেন। এই ধরনের প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত আক্রমণে অপমানিত ও বীতশ্রদ্ধ হবার পর দাশরথি রায় কবিগান ছেড়ে দেন এবং ১৮৩৬ সালে আখড়া গঠন করে ছড়া ও পাঁচালি রচনায় মনোনিবেশ করেন।

সাহিত্যকর্মসম্পাদনা

তিনি বিভিন্নবিষয়ক ৬৪টি পালাভুক্ত প্রায় ৬৭৫টি গান রচনা করেছিলেন।[১]

দাশরথি কাব্য রচনায় তেমন আগ্রহী হন নি, পাঁচালি রচনাতেই তার প্রতিভার বিকাশ। যমক এবং অনুপ্রাস অলঙ্কার তার রচনার অন্যতম দুটি বৈশিষ্ট্য। তার রচনাশৈলী সম্পর্কে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেন "দাশরথি রায় অনুপ্রাস যমকে বড় পটু—তাই তাঁর পাঁচালি লোকের এত প্রিয় ছিল। দাশরথি রায়ের কবিত্ব না ছিল, এমন নহে, কিন্তু অনুপ্রাস যমকের দৌরাত্ম্যে তাহা প্রায় একেবারে ঢাকা পড়িয়া গিয়াছে ; পাঁচালিওয়ালা ছাড়িয়া তিনি কবির শ্রেণীতে উঠিতে পান নাই।"[২] তিনি রামায়ণ, মহাভারত, শ্রীমদ্ভাগবত, হরিবংশ, ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণ, রাধাতন্ত্র, চৈতন্যচরিতামৃত এর কাহিনি পাঁচালীর ছন্দে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি সমকালীন সামাজিক ঘটনাবলি, যেমন বিধবা বিবাহ, অবলম্বনেও পাঁচালী রচনা করেছিলেন। আজও গ্রাম বাংলার অনেক স্থানে লোকের মুখে দাশু রায়ের পাঁচালী গান শোনা যায়।

মৃত্যুসম্পাদনা

১৮৫৭ সালের ১৭ অক্টোবর (২রা কার্তিক ১২৬৪ বঙ্গাব্দ) দাশরথি রায় মুত্যু বরণ করেন।[১]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সিরাজুল ইসলাম, সম্পাদক (জানুয়ারি ২০০৩)। "রায়, দাশরথি"। [[বাংলাপিডিয়া]]ঢাকা: এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশআইএসবিএন 984-32-0576-6। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৫  ইউআরএল–উইকিসংযোগ দ্বন্দ্ব (সাহায্য)
  2. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫