তুষারকান্তি ঘোষ

তুষারকান্তি ঘোষ (২১ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৮ -  ২৯ আগস্ট, ১৯৯৪) ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন  ভারতীয় বাঙালি সাংবাদিক ও লেখক।[১] ষাট বৎসরের বেশি সময় ধরে আমৃত্যু কলকাতার ইংরাজী দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তিনি। তিনি বিশ্বের প্রখ্যাত সাংবাদিকতার সংস্থা - 'ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউট'  এবং 'কমনওয়েলথ প্রেস ইউনিয়ন'-এর অন্যতম নেতা ছিলেন। [২] তুষারকান্তি ঘোষ ভারতের সাংবাদিকতা জগতে "গ্রান্ড ওল্ড ম্যান অব ইন্ডিয়ান জারনালিজম" [৩] এবং দেশের মুক্ত সংবাদমাধ্যমে তার অবদানের জন্য "ডিন অব ইন্ডিয়ান জারনালিজম" নামে পরিচিত ছিলেন।

তুষারকান্তি ঘোষ
TusharKantiGhosh.png
জন্ম২১ সেপ্টেম্বর , ১৮৯৮
কলকাতা , বৃটিশ ভারত
মৃত্যু২৯ আগস্ট ১৯৯৪ (বয়স ৯৬)
কলকাতা , পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
পেশাসাংবাদিক , ঔপন্যাসিক, শিশুসাহিত্যিক
জাতীয়তাভারতীয়
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানবঙ্গবাসী কলেজ
সন্তান

তুষারকান্তি ঘোষ কলকাতার টাউন স্কুল, হিন্দু স্কুল ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ বঙ্গবাসী কলেজে পড়াশোনা করেছেন। [৪] তার পিতা অমৃতবাজার পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা খ্যাতনামা সাংবাদিক শিশির কুমার ঘোষ ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে বি.এ পাশের পর তিনি অমৃতবাজার পত্রিকায় যোগ দেন এবং ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে তার সম্পাদক হয়ে আমৃত্যু এই পদে অধিষ্ঠিত থাকেন।[১] ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে  তিনি বাংলা দৈনিক "যুগান্তর" প্রতিষ্ঠা করেন [৫] এবং ১৯৭৭/৭৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে তিনি তার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ষাটের দশকের গোড়ার তারই সম্পাদনায় সাপ্তাহিক "অমৃত" প্রকাশিত হয়। [১]

ঘোষ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে সাংবাদিক হিসাবে সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তিনি মহাত্মা গান্ধী এবং অহিংস আন্দোলনের সমর্থক ছিলেন।১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে বিচার ও শাসনবিভাগ সংক্রান্ত একটি সম্পাদকীয় লিখে কারাবরণ করেন। [৬]

১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে সাংবাদিক হিসাবে তিনি সারা পৃথিবী ঘুরেছেন বার বার। দেশ বিদেশের বহু বিখ্যাত রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল।

সাংবাদিকতা ছাড়াও তিনি কাল্পনিক উপন্যাস, ছোটদের পড়ার বই রচনা করেছেন। প্রাচীন বাংলা গান, বিশেষত টপ্পা ও কীর্তন গানে তার যথেষ্ট দক্ষতা ছিল। তার রচিত গ্রন্থ -

  • বিচিত্র কাহিনী
  • আরও বিচিত্র কাহিনী
  • চিত্র-বিচিত্র

[১][৬]  সাহিত্য ও শিক্ষায় তার অবদানের জন্য  ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি ভারত সরকারের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ লাভ করেন। [৭] তুষারকান্তি ঘোষ  হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং স্বল্পদিনের অসুস্থতায় ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দের ২৯ শে আগস্ট  পরলোক গমন করেন। [৮]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, দ্বিতীয়  খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, জানুয়ারি   ২০১৯ পৃষ্ঠা ১৫৬,১৫৭ আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-২৯২-৬
  2. The Baltimore Sun। "Tushar Kanti Ghosh, 96, a newspaper baron..."baltimoresun.com (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-১৬ 
  3. Wolpert, Stanley A. (১ জানুয়ারি ১৯৬২)। Tilak and Gokhale: Revolution and Reform in the Making of Modern India (ইংরেজি ভাষায়)। University of California Press। পৃষ্ঠা 359 
  4. "The Story of the Bangabasi College"। ১২ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুন ২০১৩ 
  5. "Without the Raj: State Control and the English-Language Press in India" (PDF)Shodhganga (শোধগাঙ্গা)। পৃষ্ঠা 237–324। 
  6. "Tushar Kanti Ghosh, Independence Crusader, Dies at 96"AP NEWS। ১৫ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-১৬ 
  7. "Padma Awards" (PDF)। Ministry of Home Affairs, Government of India। ২০১৫। ১৫ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৫ 
  8. Reuters (১৯৯৪-০৮-৩০)। "Tushar Kanti Ghosh, Indian Journalist, 95"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। ১৫ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-১৬