জুলিয়েন ওয়াইনার

অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার

জুলিয়েন মার্ক ওয়াইনার (ইংরেজি: Julien Wiener; জন্ম: ১ মে, ১৯৫৫) ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮০ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

জুলিয়েন ওয়াইনার
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামজুলিয়েন মার্ক ওয়াইনার
জন্ম (1955-05-01) ১ মে ১৯৫৫ (বয়স ৬৫)
মেলবোর্ন, ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩০৭)
১৪ ডিসেম্বর ১৯৭৯ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১৮ মার্চ ১৯৮০ বনাম পাকিস্তান
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৫৮)
৮ ডিসেম্বর ১৯৭৯ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ ওডিআই১৮ জানুয়ারি ১৯৮০ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৭৭/৭৮ - ১৯৮৪/৮৫ভিক্টোরিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৬৬ ২৭
রানের সংখ্যা ২৮১ ১৪০ ৩৬০৯ ১১৪৩
ব্যাটিং গড় ২৫.৫৪ ২০.০০ ৩০.৩২ ৪৫.৭২
১০০/৫০ –/২ –/১ ৭/১৩ ১/১১
সর্বোচ্চ রান ৯৩ ৫০ ২২১* ১০৮*
বল করেছে ৭৮ ২৪ ২৫৩২ ১৫২
উইকেট ১৭
বোলিং গড় ৬৮.৪৭ ১৪৩.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ২/১৯ ১/৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪/– ২/– ৪/– ৭/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৪ অক্টোবর ২০১৯

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন জুলিয়েন ওয়াইনার

শৈশবকালসম্পাদনা

জুলিয়েন ওয়াইনারের মাতা ও পিতা যথাক্রমে বেলা ও সশা পোলীয় ও অস্ট্রীয় ইহুদি বংশোদ্ভূত। হলোকস্ট চলাকালে নাৎসি জার্মানদের হাতে উভয়ে আটক হয়েছিলেন। সশা’র জন্মস্থান ভিয়েনা থেকে ওয়াইনার নামটি এসেছে। অস্ট্রেলিয়ায় শরণার্থী হিসেবে আসার পর তার পিতা টেক্সটাইল ব্যবসা পরিচালনা করে বেশ সফল হন। ফলশ্রুতিতে, ব্রাইটন গ্রামার স্কুলের ন্যায় ব্যক্তিগত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশুনো করার সুযোগ পান।

টেবিল টেনিসে পিতার শুরুরদিকের সফলতা পুত্রকে ক্রিকেটের দিকে নিয়ে যেতে ধাবিত করে। মেলবোর্নের গ্রেড ক্রিকেটে প্রাহরান দলের পক্ষে খেলেন। রয়েল মেলবোর্ন টেকনোলজি ইন্সটিটিউট থেকে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন সমাপন করে ক্রিকেট জীবন শুরু করার লক্ষ্যে ইংল্যান্ডে চলে যান।[১][২]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসম্পাদনা

১৯৭৭-৭৮ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত জুলিয়েন ওয়াইনারের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনি। এছাড়াও দলের প্রয়োজনে মাঝে-মধ্যে স্পিন বোলারের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হতেন।

১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে ভিক্টোরিয়ার সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক খেলাতেই ১০৬ রানের দূর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন। দুই মৌসুমে বেশ ভালোমানের খেলা উপহার দেন। এ পর্যায়ে তিনটি সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯ সালের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়া দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ পান।

১৯৮১-৮২ মৌসুমে জংশন ওভালে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি ও জেফ মস ৩৯০ রানের জুটি গড়েছিলেন।[৩] অদ্যাবধি অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তৃতীয় উইকেট জুটিতে রেকর্ড হিসেবে টিকে আছে স্ব-মহিমায়। ঐ সময়ে তিনি অপরাজিত ২২১ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও ঐ মৌসুমের তিন সেঞ্চুরির এটি একটি ছিল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

আন্তর্জাতিক খেলাগুলোয মাত্র চারমাসের মধ্যে অংশ নিয়েছিলেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ছয়টিমাত্র টেস্ট ও সাতটিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন জুলিয়েন ওয়াইনার। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে পার্থে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৮ মার্চ, ১৯৮০ তারিখে লাহোরে স্বাগতিক পাকিস্তান দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

ডিসেম্বর, ১৯৭৯ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন। উভয়ে খেলাতে যথাক্রমে ৭ ও ২৭ রান তুলেন। তাসত্ত্বেও, অল্প কয়েকদিন পর ওয়াকায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় জুলিয়েন ওয়াইনারের। প্রথম ইনিংসে ১১ রানে তুলে রান আউটের শিকার হন। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৮ রান তুলে দলের জয়ে সবিশেষ ভূমিকা পালন করেন।[৪] ঐ গ্রীষ্মে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একাধারে দুইটি করে চারটি টেস্টে অংশ নেন। সিরিজের শেষ টেস্টে অংশগ্রহণ করা থেকে তাকে বিরত রাখা হয়।[৫] এছাড়াও, আরও পাঁচটি ওডিআইয়ে অংশ নেন তিনি। সিডনিতে গ্রুপ পর্বের শেষ দুই খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৩ ও ৫০ রান সংগ্রহ করেন। গড়ে মাত্র ২০ রান তোলায় চূড়ান্ত খেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়। ওডিআইয়ে খেলোয়াড়ী জীবন শেষ হবার পূর্বে তার স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ৪২।[৬]

১৯৮০ সালের শুরুতে পাকিস্তান গমনের উদ্দেশ্যে তাকে দলে রাখা হয়। ফয়সালাবাদ ও লাহোরে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন তিনি। তন্মধ্যে, তৃতীয় টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯৩ রানের ইনিংস খেলেন। এ ইনিংসই তার খেলোয়াড়ী জীবনের সর্বশেষ ইনিংসে পরিণত হয়। এরপর আর তাকে জাতীয় দলে খেলানো হয়নি। ২৫.৫০ গড়ে ২৮১ রান তুলতে পেরেছেন।[১][৫]

মাইকেল ক্লিঙ্গারের আবির্ভাবের পূর্ব-পর্যন্ত একমাত্র ইহুদি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।[১]

অবসরসম্পাদনা

১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে অবসর গ্রহণের পূর্ব-পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেছিলেন। এ পর্যায়ে ৬৬ খেলায় অংশ নিয়ে সাত সেঞ্চুরি করেন। এছাড়াও স্পিন বোলিং করে ১৭ উইকেট লাভ করেন। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোন উইকেট পাননি।[১][২]

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কর্পোরেট খাতে কাজ করেন।[২] বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিক্রয়কর্মীর দায়িত্ব পালনের পর ২০১৫ সালে নিজস্ব কনসাল্টিং প্রতিষ্ঠান গঠন করেন।[৭]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Cashman, Richard (১৯৯৭)। The A-Z of Australian cricketers 
  2. Harms, John (১৯ ডিসেম্বর ২০০৪)। "The Opener"The Age। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০০৬ 
  3. https://trove.nla.gov.au/newspaper/article/126861735
  4. "Australia v England, 1979/80, 1st Test W.A.C.A. Ground, Perth"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০০৬ 
  5. "Statsguru – JM Wiener – Tests – Innings by innings list"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০০৬ 
  6. "Statsguru – JM Wiener – ODIs – Innings by innings list"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০০৬ 
  7. Julien Wiener profile, LinkedIn

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা