প্রধান মেনু খুলুন

জর্জ সিম্পসন-হেওয়ার্ড

ইংরেজ ক্রিকেটার

জর্জ হেওয়ার্ড টমাস সিম্পসন-হেওয়ার্ড (ইংরেজি: George Simpson-Hayward; জন্ম: ৭ জুন, ১৮৭৫ - মৃত্যু: ২ অক্টোবর, ১৯৩৬) ওয়ারউইকশায়ারের কেনিলওয়ার্থ এলাকার স্টোনলেইয়ে জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯১০ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

জর্জ সিম্পসন-হেওয়ার্ড
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামজর্জ হেওয়ার্ড টমাস সিম্পসন-হেওয়ার্ড
জন্মকেনিলওয়ার্থ, ওয়ারউইকশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যুআইকম প্লেস, গ্লুচেস্টারশায়ার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি লব বোলার
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৬৭)
১ জানুয়ারি ১৯১০ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট১১ মার্চ ১৯১০ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ২০০
রানের সংখ্যা ১০৫ ৫৫৫৬
ব্যাটিং গড় ১৫.০০ ১৮.৫৮
১০০/৫০ -/- ৩/৯
সর্বোচ্চ রান ২৯* ১৩০
বল করেছে ৮৯৮ ২০০৬২
উইকেট ২৩ ৫০৩
বোলিং গড় ১৮.২৬ ২১.৩৯
ইনিংসে ৫ উইকেট ৩১
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ৬/৪৩ ৭/৫৪
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ১৩৩/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৯ জুন ২০১৯

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি লব বোলার ছিলেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকরী ব্যাটিং করতেন জর্জ সিম্পসন-হেওয়ার্ড

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসম্পাদনা

ম্যালভার্ন কলেজে অধ্যয়ন শেষে কেমব্রিজের ক্লেয়ার কলেজে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন জর্জ সিম্পসন-হেওয়ার্ড।[২] ১৮৯৫ থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও ১৮৯৯ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলেন। তন্মধ্যে, ১৯১১ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত ওরচেস্টারশায়ারের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। নিয়মিতভাবে ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ৩৪ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনয়ন লাভ করেন।

১৮৯৫ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত জর্জ সিম্পসন-হেওয়ার্ডের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯০২ সাল পর্যন্ত ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে তেমন খেলতে পারেননি। ১৯০৮ সালে যথেষ্ট সফলতা পান। ১৮.৬১ গড়ে ৬৮ উইকেট দখল করেন। ব্যাটসম্যান হিসেবেও যথেষ্ট সফল ছিলেন। অক্সফোর্ডে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে আশি মিনিটে ১৪০ বল মোকাবেলান্তে ১০৫ রান তুলেন। এরপর বল হাতে ৬/১৩ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। ১৮৯৯ সালের গ্রীষ্মে জেন্টলম্যানের সদস্যরূপে খেলেন। লর্ডসে প্লেয়ার্সের বিপক্ষে ঐ খেলায় ৬/২১ পান।

অল-রাউন্ডার হিসেবে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখায় ১৯০৯ সালে ওরচেস্টারে সফররত অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে খেলেন। কাউন্টি দলের পক্ষে ৫১ রান তুলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। এরপর বল হাতে নিয়ে সংগৃহীত ৩৮৯ রানের বিপরীতে তিনি ৬/১৩২ লাভ করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। ১ জানুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহেন্সবার্গে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১১ মার্চ, ১৯১০ তারিখে কেপটাউনের একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নিয়েছেন তিনি। ১৯১০ সালে ৫ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯০৯ সালে এইচ. ডি. জি. লেভেসন গাওয়ারের নেতৃত্বে ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। সেখানকার ম্যাটিং পিচে নিজস্ব পঞ্চম বলেই উইকেট লাভের কৃতিত্বে দেখান। লেগ ব্রেক বোলিং করার ভঙ্গীমা নিয়ে অফ ব্রেক বোলিং করতেন। পাঁচ টেস্টের ঐ সিরিজে ১৮.২৬ রান গড়ে ২৩ উইকেট সংগ্রহ করেন। জোহেন্সবার্গ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬/৪৩ পান। ম্যাটিং পিচে ব্যতিক্রমধর্মী স্পিনারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন ও বিস্ময়করভাবে তার বোলিংয়ের কার্যকারিতা দেখা যায়।

অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট লাভ করেছিলেন জর্জ সিম্পসন-হেওয়ার্ড।[৩]

খেলার ধরনসম্পাদনা

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আন্ডারআর্ম কিংবা লব বোলিং করা সর্বশেষ ক্রিকেটার ছিলেন তিনি। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায়ও পারদর্শী ছিলেন তিনি। ১৮৯৬ থেকে ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত অক্সফোর্ডের সদস্যরূপে ফুটবল খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ক্রিকেট ও ফুটবল - উভয়ে ক্রীড়াতেই কেমব্রিজ ব্লুধারী হন।

২ অক্টোবর, ১৯৩৬ তারিখে গ্লুচেস্টারশায়ারের আইকম প্লেস এলাকায় ৬১ বছর বয়সে জর্জ সিম্পসন-হেওয়ার্ডের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. [১] ESPNcricinfo, ESPN, সংগ্রহের তারিখ: ২৭ জুন ২০১৯
  2. "Simpson (post Simpson-Hayward), George Hayward Thomas (SM894GH)"A Cambridge Alumni Databaseকেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় 
  3. "1st Test: South Africa v England at Johannesburg, Jan 1-5, 1910"espncricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১২-১৩ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা