প্রধান মেনু খুলুন

উইকিপিডিয়া β

জরথুস্ত্র/জরাথুস্ত্র, জরাথুস্ট্র/জরাথ্রুস্ট (অবেস্তাই ভাষায়: Zaraθuštra,জরথুশ্ত্র), জরোয়াস্টার (গ্রিক ভাষায়: Ζωροάστρης, জরোয়াষ্ট্রিস), অথবা জরতোশ্ত (ফার্সি ভাষায়: زرتشت‎ ​), ছিলেন একজন প্রাচীন পারসিক ধর্ম প্রচারক এবং জরথুস্ত্রীয় ধর্ম মতের প্রবর্তক। জরথুস্ত্রের ধর্ম এক সময় হয়ে ওঠে হাখশামানেশী [১], পার্থীয় এবং[২]সাসানীয় রাজত্বকালে প্রাচীন পারস্যের জাতীয় ধর্ম, যা মূলত বর্তমানে আধুনিক ইরান ও ভারতের জরথুস্ত্রীয় সম্প্রদায় কর্তৃক পালিত হয়।

জরথুস্ত্র
Zoroaster
𐬰𐬀𐬭𐬀𐬚𐬎𐬱𐬙𐬭𐬀 Zaraθuštra
যে জন্য পরিচিত জরাথ্রুস্টবাদ ধর্মের প্রবর্তক
দাম্পত্য সঙ্গী হভভি (ঐতিহ্য অনুসারে)
সন্তান ফ্রেনি, পরুসিস্তা, ট্রিটি;
ইসাত ভাসটার, উরুভাত-নারা, হভেরে সিϑরা (ঐতিহ্য অনুসারে)
পিতা-মাতা পরুসাস্পা স্পিতামা, দুগদভা (ঐতিহ্য অনুসারে)

ধর্ম প্রচারক জরথুস্ত্র সাধারনভাবে স্বীকৃত একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, কিন্তু তার সমসাময়িক কাল সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে তেমন কিছুই জানা যায়না। অনেক পন্ডিতের মতানুসারে তিনি আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ১২০০ শতাব্দীর প্রাচীন ধর্মমত প্রবর্তকদের অন্যতম একজন, যদিও অন্য অনেকের মতে তিনি খ্রীষ্টপূর্ব ১৮০০ শতাব্দীর অথবা খ্রীষ্টপূর্ব ৭ম হতে ৬ষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যবর্তী মহান কুরুশের সমকালিন একজন ধর্ম প্রচারক ছিলেন।

পরিচ্ছেদসমূহ

নামসম্পাদনা

জরথুস্ত্রের নামটি মূলত দুটি অবেস্তাই ভাষার শব্দ সমষ্টি, যা নিম্নোক্ত উপায়ে ব্যাখ্যা করা যায়ঃ

  • জর(নত) ("পুরাতন") + উস্ত্র ("উট/উষ্ট্র")" অর্থাৎ "বৃদ্ধউষ্ট্র ওয়ালা"
  • অবেস্তাই জরাৎ/ আধুনিক পারসিক জরেদ্ ("হলুদ" বা "সোনালী") + উস্ত্র ("উট"), অর্থাৎ "হলুদ উটওয়ালা" বা সম্ভবত "সোনালী উটওয়ালা; যিনি উটের মাধ্যমে পণ্য ফেরী করে সম্পদশালী হয়েছেন"
  • জরা ("উজ্জ্বল", "স্বর্ণ", "আলো") + তুস্ত্র ("তুষ্ট", "প্রেমিক"), অর্থাৎ "যে আলো ভালবাসে"
  • জরাৎ ("সোনালী") + উসা ("ঊষা", "ভোর"), ভুল অনুমানে অবেস্তাই পারসিক যা বৈদিক সংস্কৃত অনুরূপ অর্থ "সোনালী ভোর আনয়নকারী"।

জীবনকালের সম্ভাব্য সময়সম্পাদনা

বিভিন্ন সূত্রানুসারে জরথুস্ত্রের জীবৎকাল সম্পর্কে বিভিন্ন মতভেদ প্রচলিত রয়েছে।

  • খ্রীষ্টপূর্ব ১৪০০ হতে ১০০০ শতাব্দী - বর্তমানের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতানুসারে মেরি বয়েস তার এ হিস্ট্রি অব জরোয়াস্ট্রিয়ানিজ্ম (১৯৮৯) গ্রন্থে এই সময়কাল উল্লেখ করেন।
  • খ্রীষ্টপূর্ব ৪৫৮ এর পূর্বে - এইচ. এস. নাইবার্গ তার গ্রন্থ যার অনুবাদ “প্রাচীন ইরানের ধর্ম” এতে এই সময়কালের উল্লেখ করেন।
  • বুন্দহিশন ("সৃষ্টি ") নামক পারসিক ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ লিখনিতে উল্লেখ পাওয়া যায় যে মহান আলেকজান্ডারের পারস্য আক্রমণের ২৫৮ বছর পূর্বে জরথুস্ত্র বর্তমান ছিলেন, অর্থাৎ তদানুসারে খ্রীষ্টপূর্ব ৫৮৮ জরথুস্ত্রের সময়কাল। ঊনবিংশ শতাব্দীর অনেক পন্ডিত জরথুস্ত্রের এই ঐতিহাসিক সময়কালের সাথে একমত পোষন করেন, যাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন তাগিজাদেহ এবং ডব্লিউ. বি. হেনিং।

যদিও ডার্মেসটিটারের মত কিছু কিছু পন্ডিত এর সাথে দ্বিমত পোষন করেন এবং যুক্তি দেখান যে জরথুস্ত্র মূলত খ্রীষ্টপূর্ব ১০০ শতাব্দীর সমসাময়িক। যদিও এই মতবাদ এখন ব্যাপক আকারে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত।

ভাষাগত প্রমাণসম্পাদনা

পূর্ব হতেই বার্তোলোমিয়া এবং ক্রিস্টেনসেনের মতো পণ্ডিতগণ “গতানুগতিক সময়” নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেন, মূলত যা ভাষাগত সমস্যা হতে উৎসরিত। দেখা যায় জরথুস্ত্র ১৮ টি কবিতা লিখেন, যার সমন্বয়ে অবেস্তার পুরাতন খণ্ড গাথা গ্রথিত হয়েছে। গাথার ভাষা এবং রচনা, বিশেষ করে “যস্ন হপ্তমগাইতি” ("যস্ন সপ্তম অনুচ্ছেদ")-রকে লেখনিকে বলা হয় আদি অবেস্তাই বা গাথাইক অবেস্তাই যা অবেস্তার পরবর্তী খণ্ডগুলোর ভাষা হতে অনেকটাই সেকেলে। শব্দের ব্যুৎপত্তিগত দিক থেকে গাথাইক অবেস্তাই ভাষার সঙ্গে ঋগ্বেদীয় সংস্কৃত ভাষার প্রচুর মিল রয়েছে।

যদিও ঋগ্বেদের ভাষা গাথার ভাষার চেয়ে কিছুটা বেশি মাত্রায় রক্ষণশীল, ধারণা করা হয় যে অবেস্তা ঋগ্বেদের কয়েক শতক পরে গ্রথিত হয়েছে। ধারণা করা হয় ঋগ্বেদ গ্রথিত হয়েছে খ্রীষ্টপূর্ব ১৫০০ হতে ১২০০ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে। সে অনুসারে গাথা গ্রথিত হয়েছে খ্রীষ্টপূর্ব ১০০০ শতাব্দী হতে ২০০ বছর সময়কালের এর মধ্যে।

ঐতিহাসিক নিদর্শনসম্পাদনা

ঐতিহাসিক অনুসন্ধানে সাধারণত গাথায় বর্ণিত সামাজিক রীতি-নীতি ব্যাখ্যার মাধ্যমে সময় নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়ে থাকে। যেহেতু গাথার ভাষা দুর্বোধ্য এবং ব্যাখ্যা করার জন্য উন্মুক্ত, সেহেতু এর থেকে আনুমানিক সময় নির্ধারণ করার সুযোগ রয়েছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসম্পাদনা

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ হতে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কোনো চুড়ান্ত ফলাফল নয়। যদিও, রাশিয়ান প্রত্নতাত্ত্বিক ভিক্টর সারিয়ানিদি দেখান যে জরথুস্ত্র আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ২০০০ শতাব্দীর সময়কালের এবং তা তিনি ব্যাকট্রিয়া-মারগিয়ানা প্রত্নতাত্ত্বিক কমপ্লেক্সের খনন হতে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন (আসগারভ,১৯৮৪)।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Boyce, M., "Achaemenid Religion", Encyclopaedia Iranica LINK; accessed April 21, 2007.
  2. Boyce, M., "Religion of Arsacids", Encyclopaedia Iranica LINK; accessed April 21, 2007.