প্রধান মেনু খুলুন

চালতা বা চালিতা বা চাইলতে (বৈজ্ঞানিক নাম: Dillenia indica ইংরেজী নামঃ Elephant Apple) এক রকমের ভারতবর্ষীয় উদ্ভিদ। চালতার ফল খুব আদরণীয় নয়। এই ফল দিয়ে চাটনিআচার তৈরি হয়।[১] গাছটি দেখতে সুন্দর বলে শোভাবর্ধক তরু হিসাবেও কখনো কখনো উদ্যানে লাগানো হয়ে থাকে।

চালতা
Dillenia indica
Dillenia indica, West Bangal, India.jpg
চালতা গাছ ও ফল
Dillenia indica fruit.jpg
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Plantae
(শ্রেণীবিহীন): Angiosperms
(শ্রেণীবিহীন): Eudicots
(শ্রেণীবিহীন): Core eudicots
বর্গ: unplaced
পরিবার: Dilleniaceae
গণ: Dillenia
প্রজাতি: D. indica
দ্বিপদী নাম
Dillenia indica
L.

উৎপত্তিসম্পাদনা

আকারসম্পাদনা

চালতা গাছ মাঝির আকারের চিরহরিৎ বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। এ গাছ উচ্চতায় ১৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। গাছের গায়ে লালচে রঙের চকচকে বাকল থাকে[২]। পাতার কিনারা খাঁজ কাটা, শিরা উঁচু সমান্তরাল। চালতার সাদা রঙের ফুল দেখতে সুন্দর ; এটি সুগন্ধযুক্ত। ফুলের ব্যাস ১৫-১৮ সেন্টিমিটার। ফুলে পাঁচটি মোটা পাঁপড়ি বেষ্টিত কেন্দ্রে প্রচুর হলুদ পুংকেশর থাকে ; বৃতিগুলো সেসব পাঁপড়িকে আঁকড়ে ঘিরে রাখে। বছরের মে-জুন মাসে ফুল ফোটার মৌসুম।[৩]

ব্যবহার্য অংশসম্পাদনা

ফল টক বলে চালতার আচার, চাটনি, টক ডাল অনেকের প্রিয় খাদ্য।[৩] পাকা ফল পিষে নিয়ে নুন-লংকা দিয়ে মাখালে তা বেশ লোভনীয় হয়। গ্রাম এলাকায় সাধারণত জঙ্গলে এ গাছ জন্মে ; কখনো কখনো দু’একটি গাছ বাড়ির উঠানে দেখা যায়। চালতা ফলের যে অংশ খাওয়া হয় তা আসলে ফুলের বৃতি। প্রকৃত ফল বৃতির আড়ালে লুকিয়ে থাকে। ফল বাঁকানো নলের মত ; ভিতরে চটচটে আঠার মধ্যে বীজ প্রোথিত থাকে।[৩][৪] চালতা অপ্রকৃত ফল; মাংসল বৃতিই ভক্ষণযোগ্য।

রোপনের সময়সম্পাদনা

বর্ষার পর ফল পাকে, শীতকাল পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। পাকা ফলের বীজ থেকে চারা তৈরি করা যায়। গাছে ফল পাকলে যদি তা না পাড়া হয় তবে সে ফল থেকে বীজ আপনাআপনি মাটিতে ঝরে পড়ে ; অনুকূল পরিবেশে তা থেকে চারা গজায়। এজন্য চালতা তলায় প্রায়শ: ছোট ছোট অনেক চারা দেখা যায়। এসব চার তুলে বাগানে লাগিয়ে দিলেও গাছ হয়। তবে বীজ থেকে করা চারার গাছ ফল ধরতে ৬-৭ বছর লেগে যায়। গাছ বাঁচে কম-বেশি ২৫-৩০ বছর। শাখা কলম বা কাটিং করেও চালতার চারা তৈরি করা যায়। সেসব কলমে দ্রুত ফল ধরে।[৩]

গুনাগুণসম্পাদনা

  • ঠান্ডা লেগে জ্বর হলে এর রস অনেক উপকারে লাগে।
  • বাতের ব্যথাতে কচি চালতার রস জলের সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
  • রক্ত আমাশয়ের জন্য চলতার কচি পাতার রস উপকার।
  • কফ ও সর্দির জন্য গাছের ছালেত গুঁড়া নিরাময়ের কাজ করে।[৫]

শ্রেণীবিন্যাসসম্পাদনা

ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রথম ১৭৫৯ সালে তার বই Systema Naturae তে উল্লেখ করেন।[৬]

চিত্রশালাসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Germplasm Resources Information Network: Dillenia indica ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে
  2. মৃত্যুঞ্জয় রায়, লেখক; দিব্য প্রকাশ ; বাংলার বিচিত্র ফল; ফেব্রুয়ারি, ২০০৭; পৃষ্ঠা-১৫৮-৫৯, আইএসবিএন ৯৮৪-৪৮৩-২৬৬-৭
  3. Huxley, A., ed. (1992). New RHS Dictionary of Gardening. Macmillan আইএসবিএন ০-৩৩৩-৪৭৪৯৪-৫.
  4. Flora of Pakistan: Dillenia indica
  5. আঃ খালেক মোল্লা সম্পাদিত;লোকমান হেকিমের কবিরাজী চিকিৎসা; আক্টোবর ২০০৯; পৃষ্ঠা- ১৩৫-৩৬
  6. Linnaeus, Carl (১৭৫৮)। Systema Naturae per Regna Tria Naturae, Secundum Classes, Ordines, Genera, Species, cum Characteribus, Differentiis, Synonymis, Locis (Latin ভাষায়)। Vol. 2 (10th revised সংস্করণ)। Holmiae: (Laurentii Salvii)। পৃষ্ঠা 1082।