প্রধান মেনু খুলুন

কুতুপালং শরনার্থী শিবির হল বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত একটি শরণার্থী শিবির, যেখানে প্রতিবেশী মায়ানমারে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা মুসলিমরা আশ্রয় নিয়েছে।[২][৩] কক্সবাজারে বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত দুটি শরণার্থী শিবিরের মধ্যে এটি একটি, অন্যটি হচ্ছে নয়াপাড়া শরণার্থী শিবির[৪]

কুতুপালং শরণার্থী শিবির
বাংলাদেশে কুতুপালং শরণার্থী শিবির (ছবিটি নিয়েছেন মাজ হুসাইন/ভিওএ)
বাংলাদেশে কুতুপালং শরণার্থী শিবির
(ছবিটি নিয়েছেন মাজ হুসাইন/ভিওএ)
কুতুপালং শরণার্থী শিবির বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
কুতুপালং শরণার্থী শিবির
কুতুপালং শরণার্থী শিবির
বাংলাদেশে অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২১°১২′৪৫″ উত্তর ৯২°০৯′৪৮″ পূর্ব / ২১.২১২৬° উত্তর ৯২.১৬৩৪° পূর্ব / 21.2126; 92.1634
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
জেলাকক্সবাজার জেলা
উপজেলাউখিয়া উপজেলা
জনসংখ্যা (১৯ অক্টোবর ২০১৭)[১]
 • মোট২২,২৪১

কুতুপালংয়ের ইউএনএইচসিআর কার্যালয়টি সাতটি আন্তর্জাতিক সংঘ দ্বারা পরিচালিত হয়: ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, ফিনল্যান্ড, সুইডেন এবং আইকেইএ ফাউন্ডেশনের প্রধান।[৫][৬]

নামকরণসম্পাদনা

"কুতুপালং শরনার্থী শিবিরকে" সরকার-পরিচালিত শিবিরের পাশে অবস্থিত একটি অস্থায়ী শিবির হিসেবেও উল্লেখ করা হয়, যদিও এটি কোন সরকারি শরণার্থী শিবিরের অংশ নয়। কুতুপালংয়ের অস্থায়ী শিবির এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় বছরের পর বছর ধরে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীরা এটাকে বড় করে তুলছে। ২০১৭ সালে কুতুপালং অস্থায়ী শিবির এবং ঘুমদুম, বালুখালী, থংখালী এবং অন্যান্য এলাকার আশেপাশের শিবিরগুলি দ্রুতগতিতে জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে এবং শরণার্থীতে ভরতে থাকে। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন কুতুপালং-বালুখালিকে সম্প্রসারণ স্থান হিসেবে সমষ্টিগতভাবে উল্লেখ করে।[৭] ২৫ আগস্ট ২০১৭ থেকে আনুমানিক ৭,০০,০০০ রোহিঙ্গা মুসলমান ও হিন্দুরা মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে, যখন মায়ানমারের সামরিক বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে।

ইতিহাসসম্পাদনা

এই শরণার্থী শিবিরটি ১৯৯১ সালে অস্থায়ীভাবে যাত্রা শুরু করেছিল, যখন বার্মার সামরিক বাহিনী কর্তৃক অপারেশন পিয়ি থায়ার (অপারেশন পরিষ্কারকরণ ও সুন্দর জাতি) শিকার হয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী পালিয়ে এসেছিল।[৮][৯]

জুলাই ২০১৭ অনুযায়ী উভয় শরণার্থী শিবির মিলিয়ে প্রায় ৩৪,০০০ শরণার্থী অবস্থান করছে।[১০] ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে, জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) বলেন যে উভয় শরণার্থী শিবির মিলিয়ে উদ্বাস্তুর সংখ্যা ৭৭,০০০ ছাড়িয়ে গেছে।[১১] ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি অনুযায়ী, এই সম্প্রসারিত এলাকার জনসংখ্যা ছিল ৫,৪৭,৬১৬ জন, যা এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির হিসেবে পরিণত করে, এরআগে কেনিয়ার দাদাবে অবস্থিত শরনার্থী শিবিরটি ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ২,৪৫,১২৬জন শরনার্থী নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল।[১][১২]

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "How Suu Kyi sees the Rohingya crisis"BBC News। ২৫ জানুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১৮ 
  2. "The young and the hopeless in Bangladesh's camps"UNHCR (ইংরেজি ভাষায়)। United Nations High Commissioner for Refugees। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই ২০১৭ 
  3. "Rohingya huddled in Bangladesh camps fear plan to move them on"Reuters। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই ২০১৭ 
  4. "Stories from the Rohingya Camps in Bangladesh"। ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই ২০১৭ 
  5. Marra, Tatiana। "Diary book - 12 May 2014 - Our work at the Refugee camps near Coxs bazaar"Ikea foundation blog। Ikea foundation। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০১৮ 
  6. "Vital UNHCR aid arrives in Cox's Bazar, additional emergency staff deployed"UNHCR USA website। UNHCR। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০১৮ 
  7. "Cox's Bazar: Kutupalong-Balukhali expansion sites Footpath and Access road as of 05 Dec 2017" (PDF)। International Organization for Migration। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  8. "Bangladesh: Rohingya refugees moved from Kutupalong camp to new site"। UNHCR। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০১৮ 
  9. "Workign at the Rohingya camp"। Blog - IKEA Foundation। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০১৮ 
  10. "Two camps of thought on helping Rohingya in Bangladesh"UNHCR (ইংরেজি ভাষায়)। United Nations High Commissioner for Refugees। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই ২০১৭ 
  11. Judah, Jacob (১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। "Rohingya influx strains camp resources in Bangladesh"UNHCR (ইংরেজি ভাষায়)। United Nations High Commissioner for Refugees। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০১৭ 
  12. "Rohingya Refugee Crisis Response"IOM। International Organization for Migration। ২২ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৭