কির্গিজস্তানের ইতিহাস

ইতিহাসের বিভিন্ন দিক

কিরগিজ জাতি ও বর্তমান কির্গিজস্তান হিসেবে পরিচিত এলাকার ইতিহাস ২,০০০ বছরের বেশি পুরনো। পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ার কারণে ভৌগলিকভাবে বিচ্ছিন্ন হলেও ঐতিহাসিক সিল্ক রোড বাণিজ্য পথের অংশ হিসেবে অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। স্বশাসন ছাড়াও অঞ্চলটি বিভিন্ন সময় গোকতুর্ক, উইঘুর সাম্রাজ্য ও খিতানদের শাসনাধীন ছিল। ত্রয়োদশ শতকে মঙ্গোলরা এটি জয় করে। পরবর্তীতে এটি স্বাধীনতা লাভ করলেও কালমিক, মাঞ্চু ও উজবেকদের আক্রমণের শিকার হয়। ১৮৭৬ সালে এটি রুশ সাম্রাজ্যের অংশে পরিণত হয়। রুশ বিপ্লবের পরে এটি সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ হিসেবে কিরগিজ সোভিয়েত সোশ্যালিস্ট রিপাব্লিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সোভিয়েত ইউনিয়িনে মাইকেল গর্ভাচেভের গণতান্ত্রিক সংস্কারের পর ১৯৯০ সালে স্বাধীনতাপন্থী নেতা আসকার আকায়েভ কিরগিজ সোভিয়েত সোশ্যালিস্ট রিপাব্লিকের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের ৩১ আগস্ট তারিখে কির্গিজস্তান মস্কো থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয় এবং শেষ পর্যন্ত একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রাথমিক ইতিহাসসম্পাদনা

তিয়েন শান পর্বতমালায় খুঁজে পাওয়া পাথরের অস্ত্র থেকে ধরে নেওয়া যায়, ২, ০০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ বছর আগেও বর্তমান কির্গিজস্তান হিসেবে পরিচিতি এলাকায় মানব সমাজের অস্তিত্ব ছিল। বর্তমান কির্গিজস্তান অঞ্চলের সভ্যতার প্রথম লিখিত নথি পাওয়া যায় চীনা ঘটনাপঞ্জিতে, যার সূচনা ঘটেছিল প্রায় খৃষ্টপূর্ণ ২,০০০ অব্দে।

কির্গিজ জাতির উদ্ভবসম্পাদনা

মূল নিবন্ধ: কিরগিজ জাতি

ইয়েনিসেই কিরগিজরা মধ্য-সাইবেরিয়ার ইয়েনিসেই নদীর উঁচু উপত্যকায় বসবাস করত। খৃষ্টপূর্ব দ্বিতীয় অব্দের চীনা উৎস ও সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতকের মুসলিম উৎসসমূহে কিরগিজদেরকে লাল-চুলো, উজ্জ্বল চেহারা ও সবুজ (নীল) চোখ বিশিষ্ট বলা হয়েছে। তাদের সম্পর্কে সবচেয়ে প্রাচীন তথ্য পাওয়া যায় চীনাদের রেকর্ডস অব দ্য গ্র্যান্ড হিস্টোরিয়ান সংকলনে, যেখানে তাদেরকে গেকুন বা জিয়ানকুন নামে অভিহিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে তিয়েলে গোত্রের অংশ হিসেবে তারা গোকতুর্ক ও উইঘুরদের দ্বারা শাসিত হয়। বৌদ্ধধর্মের সময়ে কির্গিজস্তান কুশন সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। ৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে উইঘুর খাগানাতকে পরাজিত করার পর কির্গিজ রাজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করে। পরবর্তীতে কির্গিজরা তিয়েন শান পর্বতমালা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। পরের প্রায় ২০০ বছর ধরে তারা অঞ্চলটির কতৃত্ব নিজেদের হাতে রাখে। তবে দ্বাদশ শতকে মঙ্গোলদের ক্রমাগত বিস্তারের কারণে কির্গিজদের আধিপত্য কমে আলতাই ও সায়ান পর্বতমালায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মঙ্গোল সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটলে কির্গিজরা আরও দক্ষিণে সরে আসে। পাপাল রাজ্যের দূত প্লানো কারপিন ও ফ্রান্সের দূত উইলিয়াম রুব্রুক মঙ্গোলদের অধীনে কির্গিজদের জীবনযাপন নিয়ে লিখেছেন। ১৬৮৫ সাল পর্যন্ত তুর্কদের অনেকেই তাদেরকে শাসন করেছে। এরপর তারা ঐরাত জাতির অধীনে আসে।

আধুনিক কির্গিজ পুরুষদের ৬৩% হাপলোগ্রুপ আর১এ১ (ওয়াই-ডিএনএ) বহন করেন, যা তাজিকদের বহন করা হাপলোগ্রুপের উপস্থিতির সাথে তুলনীয় (৬৪%)।

প্রাথমিক মধ্য যুগসম্পাদনা

তুর্কিদের মধ্যে গোকতুর্ক বা কোক-তুর্করা সর্বপ্রথম মধ্য এশিয়া অঞ্চলে (কির্গিজস্তানসহ) একটি রাজ্য গঠন করে। মধ্যযুগীয় চীনা উৎসে গোকতুর্কদেরকে তুজুয়ে বলে অভিহিত করা হয়েছে। বুমিন খান (মৃত্যু ৫৫২) ও তার ছেলেদের নেতৃত্বে গোকতুর্করা ৫৫২ সালে প্রথম জানা তুর্ক রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। এ রাজ্যের সাধারণ অবস্থান ছিল আগে জিয়ংনুদের দখলে থাকা এলাকা। পরে তারা রাজ্যটিকে আরও সম্প্রসারিত করে মধ্য এশিয়ার আরও বিপুল অংশ শাসনের আওতায় নিয়ে আসে। গোকতুর্করা বিভক্ত হয়ে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী খানাত তৈরি হয়, যার পশ্চিম অংশ ৭৪৪ সালে ভেঙে যায়।

গোকতুর্ক খানাত আবির্ভূত প্রথম রাজত্ব হলো বৌদ্ধদের উইঘুর সাম্রাজ্য। ৭৪০ থেকে ৮৪০ খ্রিষ্টাব্দ সময়কালের মধ্যে মধ্য এশিয়া অঞ্চলে এটি সমৃদ্ধি লাভ করে।

উইঘুর সাম্রাজ্যের ভাঙনের পর উইঘুরদের একটি শাখা তারিম অববাহিকার মরূদ্যান ও গাওচাং ও হামি শহরের মতো কানসুগুলোর বসতিতে চলে আসে। এখানে এসে তারা কারা-খোজা নামে বিকেন্দ্রীকৃত বৌদ্ধ রাজ্যগুলোর একটি সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করে। অন্যরা দশম শতকের আগেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। উইঘুরদের (কারলুক জাতি) এদের খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এদের অবস্থান ছিল তারিম অববাহিকার পশ্চিম অংশ, ফরগানা উপত্যকা, জুংগারিয়া, এবং মুসলিম তুর্ক-তাজিক সালতানাতের পার্শ্ববর্তী আধুনিক কাজাখস্তানের অংশ বিশেষ। এরা কারা-খানলিক নামক মুসলিম সংস্থাগুলোর সাথে একটি জোট গঠন করে। এই রাজবংশকে বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ কারাখানি বলে অভিহিত করেছেন। এর রাজধানী বালাসগুন সংস্কৃতি ও অর্থনীতির কেন্দ্র হিসেবে সমৃদ্ধি লাভ করেছিল।

মঙ্গোল আধিপত্যসম্পাদনা

তৈমুরি ও উজবেকসম্পাদনা

রুশ সাম্রাজ্য: ১৮৭৬-১৯১৭সম্পাদনা

সোভিয়েত যুগ: ১৯১৭-১৯৯১সম্পাদনা

স্বাধীনতার পথে: ১৯৮৫-১৯৯১সম্পাদনা

স্বাধীনতা ও আকায়েভের রাষ্ট্রপতিত্ব: ১৯৯১-২০০৫সম্পাদনা

টিউলিপ বিপ্লব: ২০০৫সম্পাদনা

টিউলিপ বিপ্লব প্রথম কিরগিজ বিপ্লব নামে পরিচিত।২০০৫ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট একায়েডের কর্তৃত্ববাদ ও দুর্নীতির ফলে এ বিপ্লব শুরু হয়।এই বিপ্লবের ফলে প্রেসিডেন্ট একায়েড পদত্যাগ করে এবং নিকোলাই টানাইয়েও সরকার পতন ঘটে।

বাকিয়েভের রাষ্ট্রপতিত্ব: ২০০৫-২০১০সম্পাদনা

২০১০ বিপ্লবসম্পাদনা

আতামবায়েভের রাষ্ট্রপতিত্ব: ২০১১-২০১৭সম্পাদনা

জিনবেকভের রাষ্ট্রপতিত্ব: ২০১৭-বর্তমানসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা