প্রধান মেনু খুলুন

কাজী এবাদুল হক (জন্ম: ১ জানুয়ারি ১৯৩৬) হলেন বাংলাদেশের সুপ্রিম আদালতের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি। বাংলা ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১৬ সালে তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।[১]

কাজী এবাদুল হক
জন্ম (1936-01-01) ১ জানুয়ারি ১৯৩৬ (বয়স ৮৩)
শিক্ষাএলএলবি
যেখানের শিক্ষার্থীঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পেশাআইনজীবী
কার্যকাল১৯৫৯-২০০১
পুরস্কারএকুশে পদক (২০১৬)

পরিচ্ছেদসমূহ

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

এবাদুল হক ১৯৩৬ সালের ১লা জানুয়ারি ফেনী জেলার বালীগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কাজী আবদুল হক এবং মাতা হুরেনেছা বেগম। তিনি ফেনী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৫১ সালে মাধ্যমিক পাস করেন। পরে তিনি ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন এবং ছয়মাস সেখানে পড়াশোনা করেন। এই সময়ে তিনি কলেজের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ঢাকা কলেজ থেকে তিনি ফেনী কলেজে স্থানান্তরিত হন এবং ১৯৫২ সালে ফেনী কলেজের ছাত্র সংসদের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে তিনি ফেনী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন।[২] ১৯৫২ সালে তিনি ফেনী শহরে বাংলা ভাষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫৪ ও ১৯৫৫ সালে ফেনী ভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ছিলেন।[৩] পরবর্তী কালে তিনি ১৯৫৫ সালে স্নাতক এবং ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।[২]

কর্মজীবনসম্পাদনা

হক ১৯৫৯ সালে ফেনী মহকুমা আদালতে আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি ঢাকা জেলা আদালতে যোগদান করেন। ১৯৬৬ সালে ঢাকা উচ্চ আদালতের এডভোকেট নিযুক্ত হন এবং ১৯৭২ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৯০ সালে তিনি উচ্চ আদালত বিভাগের বিচারপতি পদে যোগদান করেন। উচ্চ আদালত বিভাগের বিচারপতি থাকাকালীন ১৯৯৮ সালে "নজরুল ইসলাম বনাম রাষ্ট্র" মামলার রায়টি বাংলায় প্রদান করে নজির সৃষ্টি করেন। তার এবং বিচারপতি হামিদুল হক সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চটিই প্রথম বাংলা ভাষায় রায় দেয়, যা আইন সাময়িকীকে (ঢাকা ল' রিপোর্টার্স ৫০ ও ৫১ ডিএলআর) প্রকাশিত হয়।[৪][৫] ২০০০ সালে তিনি আপিল বিভাগে বিচারপতি পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ২০০১ সালে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতির পদ থেকে অবসর নেন।[২]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "একুশে পদক পাচ্ছেন কাজী এবাদুল হক"দ্য ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৯ 
  2. "কাজী এবাদুল হক"দৈনিক ভোরের কাগজ। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৯ 
  3. সাদেক, সাইফুল্লাহ (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)। "একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সংগ্রামী দম্পতির স্বর্ণালি দিনের কথা"চ্যানেল আই অনলাইন। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৯ 
  4. রায়, কুন্তল (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬)। "উচ্চ আদালতে এখনো অবহেলিত বাংলা"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৯ 
  5. "উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষা উপেক্ষিত: ৮৪ বিচারপতির মধ্যে ব্যতিক্রম মাত্র দু'জন"দৈনিক সমকাল। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৯ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা