কলিযুগ (১৯৮১-এর চলচ্চিত্র)

কলিযুগ (এজ অব ভাইস) হলো ১৯৮১ সালে মুক্তি পাওয়া শ্যাম বেনেগল পরিচালিত ভারতীয় হিন্দি ভাষায় অপরাধ নাট্য চলচ্চিত্র। এটি ভারতীয় মহাকাব্য মহাভারতের আধুনিক সংস্করণ হিসাবে পরিচিত, এটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়িক পরিবারের মধ্যে প্রত্নতাত্ত্বিক দ্বন্দ্বকে চিত্রিত করা হয়েছে। কলিযুগ ১৯৮২ সালে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতে নেয়।[১][২]

কলিযুগ
কলিযুগ (১৯৮১-এর চলচ্চিত্র) পোস্টার.jpg
চলচ্চিত্রের পোস্টার
পরিচালকশ্যাম বেনেগল
প্রযোজকশশী কাপুর
রচয়িতাশ্যাম বেনেগল
সত্যদেব দুবে
গিরিশ কারনাড
শ্রেষ্ঠাংশেশশী কাপুর
রেখা
রাজ বাব্বর
অনন্ত নাগ
সুরকারভানরাজ ভাটিয়া
চিত্রগ্রাহকগোবিন্দ নিহালানি
সম্পাদকভানুদাস দিবাকর
মুক্তি
  • ২৪ জুলাই ১৯৮১ (1981-07-24)
দৈর্ঘ্য১৫২ মিনিট
দেশভারত
ভাষাহিন্দি

চিত্রনাট্য এবং কাহিনী মহাভারত থেকে অনেক আলাদা। তবে মহাকাব্যটির সাথে বৈশিষ্ট্য এবং গুরুতর ঘটনাসমূহের মধ্যে লক্ষণীয় মিল রয়েছে। শশী কাপুর, রেখা, রাজ বাব্বর, সুপ্রিয়া পাঠক, অনন্ত নাগ, কুলভূষণ খরবান্দা, সুষমা শেঠ, আকাশ খুরানা, ভিক্টর ব্যানার্জি, রিমা লাগু, এবং এ.কে. হাঙ্গাল প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন এছাড়া শিশু শিল্পী হিসাবে উর্মিলা মাতন্ডকর কিছু সময় উপস্থিত ছিলেন।

কাহিনী সংক্ষেপসম্পাদনা

এটি একটি ষড়যন্ত্রের গল্প এবং দুটি পরিবারের মধ্যে অবশ্যম্ভাবী লড়ায়ের কাহিনী।

রামচাঁদ ও ভীষমচাঁদ ছিলেন ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে দু'জন অগ্রণী ভাই। আজীবন অবিবাহিত পুরুষ ভীষমচাঁদ রামচাঁদের মৃত্যুর পর তার দুই পুত্রকে লালন-পালন করে। তিনি পারিবারিক ব্যবসাকে একটি মজবুত অবস্থানে দাঁড় করান। রামচাঁদের বড় ছেলে খুবচাঁদের (বিনোদ দোশি) দুই পুত্র ধনরাজ (ভিক্টর ব্যানার্জি) এবং সন্দীপরাজ (আকাশ খুরানা)। খুবচাঁদের ছোট ভাই পুরানচাঁদ কয়েক বছর আগে মারা গিয়েছে। তাঁর তিন পুত্র হলো ধর্মরাজ (রাজ বাব্বর), বলরাজ (কুলভূষণ খরবান্দা) এবং ভরতরাজ (অনন্ত নাগ)। খেলার আর এক কুশীলব হলো ভীষমচাঁদের লালিত অনাথ করণ (শশী কাপুর)।

ধারাবাহিক ঘটনায় দুটি পরিবারের মধ্যে দীর্ঘ-গুপ্ত কলহের বিষয়টি আলোকপাত করা হয়েছে। ভীষমচাঁদের দুপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ঘটনা এক দুঃখজনক মোড় নেয়। ধনরাজের লোকেরা দুর্ঘটনাক্রমে বলরাজের ছোট ছেলেকে হত্যা করে এবং প্রতিশোধ নিতে ভরতরাজ করণকে হত্যা করে। পারিবারিক আলমারি থেকে বেশ কয়েকটি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয় যা কেবল উত্তেজনা এবং ঘৃণা বাড়িয়ে দেয়, শেষ পর্যন্ত দুটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। ছবিটির মাধ্যমে আমাদের নৈতিক কাঠামোর ভঙ্গুরতা দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়াসম্পাদনা

অনিল ধরকার ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম গাইড এ একটি ইতিবাচক পর্যালোচনায় এটিকে "উচ্চাকাঙ্ক্ষী" বলে উল্লেখ করেন এবং এটিকে "এখন পর্যন্ত বেনগালের চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে সবচেয়ে জটিল" যা "সাবধানে কদমে চলা" এবং "দক্ষতার সাথে একত্রিত করা" হিসাবে উল্লেখ করেন। ধরকার সিনেমাটোগ্রাফিক কাজ এবং অভিনয়ের প্রশংসা করেন: "বেনেগলের নিয়মিত চিত্রগ্রাহক গোবিন্দ নীহালানি দক্ষ দীপ্তির সাথে প্রতিটি পরিবর্তীত ক্রিয়াকলাপ তুলে ধরেছেন। বেশিরভাগ বেনগলের নিয়মিত অভিনেতারা দক্ষ, ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শশী কাপুর... দুর্দান্ত অভিনয় করেছে"[৩] কলিযুগ দ্বাদশ মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করে।[৪]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Shyam Benegal at filmreference
  2. "Kalyug - 1981"cinemasangeet। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০১৯ 
  3. Dharker, Anil (১৯৮১)। Peter Cowie, সম্পাদক। International Film Guide। Tantivy Press: 178। আইএসবিএন 0-498-02568-3  |শিরোনাম= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  4. "12th Moscow International Film Festival (1981)"MIFF। ২১ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০১-২৭ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা