উজ্জা (আরবি: العزى‎‎, al-ʻUzzá) হল প্রাক-ইসলামিক যুগে কাবাঘরে সংরক্ষিত দেবতামূর্তিসমূহের মধ্যে তিনটি প্রধান দেবীমূর্তির মাঝে একটি। উজ্জা ছিল লাতমানাত সহ তিনটি দেবীমূর্তির একটি, যাদেরকে আল্লাহর তিন কন্যা হিসেবে ধারণা করা হত। হুবাল দেবতার মতই উজ্জাকেও সমৃদ্ধি ও কল্যাণের আশায় কুরাইশরা পূজা করত। মক্কা বিজয়ের পর মুহাম্মদ এর নির্দেশে খালিদ বিন ওয়ালিদ তার একটি অভিযানের মাধ্যমে নাখলা নামক স্থানে উজ্জার প্রতি উৎসর্গীকৃত একমাত্র মন্দির ও তার ভেতরে অবস্থিত উজ্জার মূর্তি দুটোই ধ্বংস করে দেন।[১][২]

আল উজ্জা
সুরক্ষা ও প্রেমের দেবী
Al-Uzza.png
A temple relief at nearby Khirbet et-Tannur, Jordan
প্রধান অর্চনা কেন্দ্রমক্কা
প্রতীকতিনটি গাছ
সহোদরআললাত, মানাত
গ্রিক সমমানআফ্রোদিতি
রোমান সমমানভেনাস
অঞ্চলআরব

খালিদ বিন ওয়ালিদের অভিযানসম্পাদনা

মক্কা বিজয়ের অব্যবহিত পর নবী মুহাম্মদ মক্কার আশেপাশে মূর্তিপুজা প্রথা বিলোপের ব্যবস্থা নিলেন। মক্কার অদুরে নাখলা নামক স্থানে উজ্জার মূর্তিসহ একটি মন্দির ছিল যেখানে কুরাইশ ও অন্য একটি গোত্র উজ্জার পূজা করত। মুহাম্মদ খালিদ বিন ওয়ালিদকে নির্দেশ দিলেন সেটিকে ধ্বংস করে দিতে। ৮ই হিজরী রমজান মাসে খালিদ বিন ওয়ালিদ ৩০ জন ঘোড়াসওয়ারী সৈন্যসহ সেখানে যান। পূরাহিতরা তাকে বাধা দিতে চাইলে তাদের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে খালিদ ও তার সেনারা মন্দির ও মূর্তিটিকে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে ফিরে আসেন। ফিরে এসে নবী মুহাম্মদকে সব কথা বললে নবী মুহাম্মদ খালিদকে প্রশ্ন করেন সেখানে সে কিছু দেখতে পেয়েছে কি না। খালিদ না সূচক উত্তর দিলে তিনি খালিদকে আবার ফিরে গিয়ে কিছু খুঁজে দেখতে বলেন। নির্দেশমতে খালিদ ফিরে গেলে এক জীর্ণাকৃতি চুলের কৃষ্ণাঙ্গ নগ্ন মহিলাকে সেখানে দন্ডায়মান দেখতে পান। তখন খালিদ বিন ওয়ালিদ মহিলাটিকে তার তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে সরাসরি মাথা থেকে পা পর্যন্ত চিরে দ্বিখন্ডিত করে ফেলেন। ফিরে এসে নবী মুহাম্মদকে ঘটনা বললে নবী বলেন যে, হ্যা এবার ঠিক আছে এবং তিনি আরও বললেন যে, "ঐ মহিলাটিই ছিল আসল উজ্জা। এখন থেকে আর কখনোই সে তোমাদের এলাকায় পূজিত হবে না।"[১][২]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. The sealed nectar, By S.R. Al-Mubarakpuri, Pg256। Books.google.co.uk। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০২-০৩ 
  2. ""He sent Khalid bin Al-Waleed in Ramadan 8 A.H", Witness-Pioneer.com"। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০১৫ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা