অ্যানথ্রাসাইট

অ্যানথ্রাসাইট একটি শক্ত ও অখণ্ড বৈচিত্র্যের কয়লা, যা উপধাতব দীপ্তিযুক্ত। এটি প্রায়শই শক্ত কয়লা হিসাবে পরিচিত। এটিতে সর্বোচ্চ কার্বন, অল্প অশুচিতা এবং সমস্ত ধরনের কয়লার সর্বাধিক শক্তি ঘনত্ব রয়েছে এবং এটি কয়লার সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কিং।

অ্যানথ্রাসাইট কয়লা
কালো কয়লা, কঠিন কয়লা, পাথর কয়লা, কালো হীরে
রূপান্তরিত শিলা
Anthracite coal
অ্যানথ্রাসাইট কয়লা
মিশ্রণ
কার্বন, ৯২–৯৮%

অ্যানথ্র্যাসাইট হ'ল সর্বাধিক রূপান্তরিত ধরনের কয়লা (তবে এখনও নিম্ন-গ্রেডের রূপান্তরকে উপস্থাপন করে), যেখানে কার্বনের পরিমাণ ৯২% থেকে ৯৮% এর মধ্যে থাকে।[১][২] এই শব্দটি সেই ধরনের কয়লার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, যা জ্বলনের বিন্দুর নীচে গরম হয়ে যাওয়ার পরে ট্যারি বা অন্যান্য হাইড্রোকার্বন বাষ্প উৎপন্ন করে না।[৩] অ্যানথ্র্যাসাইটের অসুবিধা সহ-জ্বলনশীল এবং একটি সংক্ষিপ্ত, নীল এবং ধোঁয়াবিহীন শিখায় পোড়ে।

অ্যানথ্র্যাসাইটকে আদর্শ শ্রেণি, উচ্চ শ্রেনি (এইচজি) এবং অতি উচ্চ শ্রেনি'তে (ইউএইচজি) শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, যার মধ্যে আদর্শ শ্রেণির অ্যানথ্র্যাসাইট প্রধানত বিদ্যুৎ উৎপাদনে এবং উচ্চ শ্রেনি ও অতি উচ্চ শ্রেনির অ্যানথ্র্যাসাইট প্রধানত ধাতুবিদ্যা খাতে ব্যবহার হয়। অ্যানথ্র্যাসাইট বিশ্বব্যাপী কয়লা মজুতের প্রায় ১%,[৪] এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশে এর উত্তোলন করা হয়। অ্যানথ্র্যাসাইটের বৈশ্বিক উৎপাদনের বেশিরভাগ চিন করে থাকে; অন্যান্য উৎপাদক হল রাশিয়া, ইউক্রেন, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভিয়েতনাম, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০১০ সালে মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬৭০ মিলিয়ন টন।[৫]

উত্তোলন ও ব্যবহারের ইতিহাসসম্পাদনা

দক্ষিণ-পশ্চিম ওয়েলসে, কমপক্ষে মধ্যযুগীয় সময় থেকে অ্যানথ্র্যাসাইটকে গৃহস্থালির জ্বালানী হিসাবে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে,[৬] যখন সানডারসফুটের কাছে এটি খনন করা হত। অতি সাম্প্রতিককালে, বিশ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত দক্ষিণ-ওয়েলস কয়ল খনি অঞ্চলের পশ্চিম অংশ জুড়ে অ্যানথ্র্যাসাইটের বৃহত আকারের খনি ছিল। বর্তমান সময়েও খনির কাজ চলমান, তবে এখন আর কম পরিমাণে উত্তোলন করা হয়।

১৭৯০ সালে, শিকারি নেচো অ্যালেন দ্বারা পেনসিলভেনিয়ার পটসভিলে অ্যানথ্র্যাসাইট কয়লা আবিষ্কারের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অ্যানথ্র্যাসাইট কয়লার ইতিহাস শুরু হয়, যা বর্তমানে কয়লা অঞ্চল হিসাবে পরিচিত। জনশ্রুতিতে রয়েছে যে অ্যালেন ব্রড পর্বতের পাদদেশে ঘুমিয়ে পড়েছিল এবং একটি বড় অগ্নি কাণ্ডের জন্য জেগে ওঠেন, কারণ তার ক্যাম্পফায়ারে অ্যানথ্র্যাসাইট কয়লা ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৭৯৫ সালের মধ্যে, শিউলকিল নদীর তীরে একটি অ্যানথ্র্যাসাইট কয়লা দ্বারা চালিত লৌহ চুল্লি তৈরি করা হয়।

বর্তমানে অ্যানথ্র্যাসাইটসম্পাদনা

 
অ্যানথ্র্যাসাইট থেকে তৈরিকৃত আমেরিকান ফুটবল ট্রফি

অ্যানথ্র্যাসাইট সাধারণত সাধারণ কয়লার চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামী। ২০০৮ সালের জুনে অ্যানথ্র্যাসাইটের পাইকারি মূল্য ছিল $১৫০/শর্ট টন।[৭]

আজ অ্যানথ্র্যাসাইটের প্রধান ব্যবহার হস্তচালিত চুলা বা স্বয়ংক্রিয় স্টোকার চুল্লিগুলিতে গৃহস্থালির জ্বালানীর জন্য। এটি তার ওজন অনুযায়ী উচ্চ শক্তি সরবরাহ করে এবং সামান্য ঝুল তৈরি করে পরিষ্কারভাবে পোড়ার জন্য এটি আদর্শ। এর উচ্চ মূল্য এটিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য ব্যয়বহুল করে তোলে। অন্যান্য ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে ফিল্টার মিডিয়া এবং কাঠকয়ালের গুলে সূক্ষ্ম কণা হিসাবে ব্যবহৃত। ১৯৯৩ সালের যুক্তরাজ্যের ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট অনুসারে অ্যানথ্র্যাসাইট হ'ল একটি অনুমোদিত জ্বালানী[৮], এর অর্থ এটি কেন্দ্রীয় লন্ডন বোরোর মতো একটি নির্দিষ্ট ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ অঞ্চলে ব্যবহার করা যেতে পারে।

উত্তোলনসম্পাদনা

চীন আজ বিশ্বব্যাপী অ্যানথ্র্যাসাইট উৎপাদনের সবচেয়ে বড় অবদান রাখে, যার পরিমাণ বিশ্বব্যাপী মোট উৎপাদনের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি বিশ্বব্যাপী।

বর্তমান আমেরিকার অ্যানথ্র্যাসাইট উৎপাদন বছরে গড়ে প্রায় ৫ মিলিয়ন টন। এর মধ্যে পেনসিলভেনিয়া রাজ্যে প্রায় ১.৮ মিলিয়ন টন উত্তোলন করা হয়।[৯] পূর্ব পেনসিলভেনিয়ায় অ্যানথ্র্যাসাইট কয়লার উত্তোলন আজও অব্যাহত রয়েছে এবং এটি মোট স্থূল রাজ্য উৎপাদনের ১% অবদান রাখে। ১৯৯৫ সালে অ্যানথ্র্যাসাইট কয়লা খনির কাজে ২,০০০ জনেরও বেশি লোক নিযুক্ত ছিল। সেই সময়ের উত্তোলনের বেশিরভাগ অংশটি নিকটবর্তী বন্ধ খনিগুলিতে স্ল্যাগ হ্যাপ (অতীতের কয়লা খনির জঞ্জাল স্তূপ) থেকে কয়লা পুনরুদ্ধারের সাথে জড়িত। কিছু ভূগর্ভস্থ অ্যানথ্র্যাসাইট কয়লাও খনন করা হচ্ছে।

প্রধান মজুদসম্পাদনা

বর্তমান উৎপাদকদের মধ্যে, রাশিয়া, চীন এবং ইউক্রেনের এ্যানথ্র্যাসাইটের সর্বাধিক আনুমানিক পুনরুদ্ধারযোগ্য মজুদ রয়েছে। উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মজুদের অন্যান্য দেশগুলির মধ্যে ভিয়েতনাম এবং উত্তর কোরিয়া অন্তর্ভুক্ত।[১০]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "MIN 454: Underground Mining Methods handout; from course at the University of Alaska Fairbanks"। ২৬ মার্চ ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৫-০৫ 
  2. R. Stefanenko (১৯৮৩)। Coal Mining Technology: Theory and Practice। Society for Mining Metallurgy। আইএসবিএন 0-89520-404-5 
  3. Bauerman 1911, পৃ. 105।
  4. "World Coal Association – The Coal Resource" (PDF)। অক্টোবর ১৫, ২০০৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ মে ১১, ২০২০ 
  5. "International Energy Statistics"www.eia.gov 
  6. Owen, George, The Description of Pembrokeshire, Dillwyn Miles (Ed), Gomer Press, Llandysul, 1994, আইএসবিএন ১-৮৫৯০২-১২০-৪, pp. 60, 69–70, 90–95, 139, 255
  7. Urbina, Ian (জুন ১০, ২০০৮)। "King Coal Country Debates a Sacrilege, Gas Heat"The New York Times। সংগ্রহের তারিখ জুন ২১, ২০০৮ 
  8. "uksmokecontrolareas.co.uk"। ২০০৯-০২-০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  9. "retrieved January 3, 2011"। Coaldiver.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০১-২৪ 
  10. "Marston – Anthracite production and exports: A world map" (PDF) 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা