অমিতাভ রেজা চৌধুরী

বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক

অমিতাভ রেজা চৌধুরী বাংলাদেশী বিজ্ঞাপন নির্মাতা, এবং টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র পরিচালক।[১][২] তিনি প্রায় হাজার খানেক টেলিভিশন বিজ্ঞাপন নির্মাণ করেছেন। এছাড়া তিনি অসংখ্য টিভি নাটকও নির্মাণ করেন। আয়নাবাজি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন, যার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারশ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া তিনি একটি ফোন করা যাবে, প্লিজ... (২০০৮) ও সারফেস (২০১৪) টিভি নাটকের জন্য দুইবার শ্রেষ্ঠ নাট্য নির্দেশক বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কার অর্জন করেন।

অমিতাভ রেজা চৌধুরী
Amitabh Reza in January 2023.jpg
২০২৩ সালে অমিতাভ রেজা
জন্ম (1976-10-01) ১ অক্টোবর ১৯৭৬ (বয়স ৪৬)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
অন্যান্য নামঅমিতাভ রেজা
নাগরিকত্ববাংলাদেশী
পেশাচলচ্চিত্র নির্মাতা
কর্মজীবন২০০১–বর্তমান
প্রতিষ্ঠানহাফ স্টপ ডাউন
দাম্পত্য সঙ্গীনওরিন হাসান খান জেনি (বিচ্ছেদ) জাকিয়া রশিদ মিম (২০১৫-২০১৭) বিচ্ছেদ) ()
সন্তান১ মেয়ে
পিতা-মাতামা : হামিদা রেজা চৌধুরী বাবা : হারুন রেজা চৌধুরী
আত্মীয়মাহজাবিন রেজা

প্রাথমিক জীবনসম্পাদনা

অমিতাভ রেজার পৈতৃক বাড়ি কিশোরগঞ্জে। তিনি ১৯৭৬ সালের ১লা অক্টোবর বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তার নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই প্রচুর চলচ্চিত্র দেখতেন এবং বড় হয়ে চিত্র পরিচালক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু পরিবারে চাপে তিনি পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ভারতের ফার্গুসন কলেজে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। চলচ্চিত্রের প্রতি প্রচন্ড আগ্রহের কারণে তিনি অর্থনীতির পাঠ চুকিয়ে দেশে ফিরে আসেন।

কর্মজীবনসম্পাদনা

 
২০১৫ সালে অমিতাভ রেজা চৌধুরী

অমিতাভ রেজা বাংলাদেশ টেলিভিশনের 'হাওয়া ঘর' নাটক নির্মাণের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।[৩] একই বছর তিনি একুশে টিভির অপেক্ষায় বৃষ্টি আরেকটি গোল্ডফিশের অপমৃত্যু নির্মাণ করেন।[৩] এরপর তিনি গ্রামীনফোন, বাংলালিংক, সিটিসেল, তোশিবা, ল্যাবএইড, অ্যাপোলো হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য বিজ্ঞাপনচিত্র এবং টেলিভিশন নাটক নির্মাণ করেছেন। তার তৈরিকৃত গ্রামীনফোনের একুশে ফেব্রুয়ারি, গ্রামীনফোন ভাষা আন্দোলন মুম্বই থেকে সম্মানসূচক পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া বাংলালিংকের ঐ দিন কি আর আছে গ্লোবাল মোবাইল পুরস্কার-২০০৭-এর মনোনয়ন লাভ করে।[৩]

তিনি ২০০৮ সালের একটি ফোন করা যাবে, প্লিজ... টিভি নাটকের জন্য সেরা নাট্য নির্দেশক বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কার অর্জন করেন।[৪] পরের বছর ইজ ইকুয়াল টু নাটকের জন্য সেরা নাট্য নির্দেশক বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। ২০১৪ সালের সারফেস টিভি নাটকের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ নাট্য নির্দেশক বিভাগে তার দ্বিতীয় মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অর্জন করেন।[৫] এই বছর বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের প্রযোজনায় অমিতাভ ল্যান্ড অব স্টোরিজ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। এতে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ও দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য চিত্রিত করা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি জাগরেব পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্রের পুরস্কার লাভ করে।[৬]

২০১৬ সালে তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র আয়নাবাজি মুক্তি পায়।[৭] চঞ্চল চৌধুরীমাসুমা রহমান নাবিলা অভিনীত চলচ্চিত্রটি সে বছর রেকর্ডসংখ্যক ব্যবসা করে। চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের কাছে প্রশংসিত হয় এবং অমিতাভ শ্রেষ্ঠ পরিচালক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসেরা চলচ্চিত্র পরিচালক বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কার অর্জন করেন।[৮][৯]

২০১৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে তিনি টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম ডিরেকশন কোর্সের ক্লাস নেন।[১০] ২০১৭ সালের মার্চ মাসে শুটিং টিভি নাটকের জন্য সেরা নাট্য নির্দেশক বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। এরপর তিনি ঢাকা মেট্রো নামের একটি ওয়েব নির্মাণ করেন।[১১] জাজ মাল্টিমিডিয়ার চলচ্চিত্র "মাসুদ রানা"য় ক্রিয়েটিভ প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।[১২]

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

২০০৭ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন অভিনেত্রী নওরিন হাসান জেনিকে। চার বছর সংসার করার পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীকালে তিনি ২০১৪ সালে তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মী জাকিয়া রশিদ মিমকে বিয়ে করেন।[১৩] ২০১৬ সালে মিমের সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।[১৪]

চলচ্চিত্রের তালিকাসম্পাদনা

চলচ্চিত্রসম্পাদনা

বছর শিরোনাম পরিচালক প্রযোজক চিত্রনাট্যকার টীকা
২০১৬ আয়নাবাজি হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ
২০২১ মুন্সিগিরি হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ ওয়েব চলচ্চিত্র
২০২৩ রিকশা গার্ল হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ

টেলিভিশনসম্পাদনা

বছর শিরোনাম পরিচালক প্রযোজক চিত্রনাট্যকার চ্যানেল/প্ল্যাটফর্ম
২০০১-২০০২ বন্ধন হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ
২০১৬ ঢাকা মেট্রো হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ হইচই
২০২২ বোধ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ হইচই

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Amitabh Reza"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৮-৩১। ২০১৯-০৯-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-০৩ 
  2. "new age" (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২১-০৩-৩০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-০৩ 
  3. কমল, এরশাদ (২৬ জানুয়ারি ২০০৭)। "In Conversation Amitabh Reza: Ad-maker with an eye on filmdom"দ্য ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২৩ 
  4. "Meril-Prothom Alo Award ceremony held"দ্য ডেইলি স্টার। ১১ এপ্রিল ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১৭ 
  5. "মেরিল–প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কার ২০১৪"দৈনিক প্রথম আলো। ৩০ এপ্রিল ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০২০ 
  6. "Documentary film awarded"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (ইংরেজি ভাষায়)। ২০ মে ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২৩ 
  7. "Amitabh Reza debuts as film director"। newagebd.net। ২০১৫-১০-০২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৮-২০ 
  8. "জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬" (পিডিএফ)তথ্য মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ সরকার। ৪ এপ্রিল ২০১৮। ৫ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ এপ্রিল ২০১৮ 
  9. "সমালোচক পুরস্কার ২০১৬"দৈনিক প্রথম আলো। ২১ এপ্রিল ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৭ 
  10. "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেন অমিতাভ রেজা"এনটিভি অনলাইন (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ জুলাই ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২৩ 
  11. "'ঢাকা মেট্রো গ-৯১০৬' নিয়ে ফিরছেন অপি"। ittefaq.com। ২০১৮-০১-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৪-২৬ 
  12. ""মাসুদ রানা"য় যুক্ত হলেন অমিতাভ"। প্রথম আলো। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  13. "আবারো বিয়ে করলেন অমিতাভ রেজা"JagoNews24.com। ৭ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  14. Samakal, Daily (২০১৮-০১-২৮)। "বিয়ে করছেন ইরেশ-মিম"দৈনিক সমকাল। Dhaka। ২০১৮-০৫-০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৪-২৬ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

বাংলা মুভি ডেটাবেজে অমিতাভ রেজা চৌধুরী