হরিবোল (চলচ্চিত্র)

রেজা ঘটক পরিচালিত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র

হরিবোল একটি বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এটা নদী, পরিবেশ এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের উপর নির্মিত একটি বিশেষায়িত চলচ্চিত্র।[১] চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও মতুয়া সম্প্রদায়ের একটি নিগৃহীত পরিবারের কাহিনীর উপর নির্মিত।[২] আনিসুজ্জামান নিবেদিত ও বলেশ্বর ফিল্মস প্রযোজিত[২] এই চলচ্চিত্রের গল্প, সংলাপ, চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনা করেছেন রেজা ঘটক[৩][৪][৫] চলচ্চিত্রের মুখ্য চরিত্র গুলিতে অভিনয় করেছেন কাজী ফয়সল, ইকতারুল ইসলাম, তৃপ্তি সরেন, ইমরান হোসেন, সেলিম হায়দার, লিয়াকত লিকু, প্রণব দাস প্রমুখ।[৪] এটা রেজা ঘটকের নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র।[৬]

হরিবোল
পরিচালকরেজা ঘটক
প্রযোজকবলেশ্বর ফিল্মস
রচয়িতারেজা ঘটক
চিত্রনাট্যকাররেজা ঘটক
কাহিনিকাররেজা ঘটক
শ্রেষ্ঠাংশে
  • কাজী ফয়সল
  • ইকতারুল ইসলাম
  • তৃপ্তি সরেন
  • ইমরান হোসেন
  • সেলিম হায়দার
  • প্রণব দাস
  • লিয়াকত লিকু
  • ইউসুফ ববি
  • জাহিদ হাসান
  • চিন্ময় চক্রবর্তী
সুরকারঅংশুমান
চিত্রগ্রাহকমাহফুজ ইসলাম
সেলিম হায়দার
জাহিদ হাসান
প্রণব দাস
রেজা ঘটক
সম্পাদকপ্রণব দাস
প্রযোজনা
কোম্পানি
বলেশ্বর ফিল্মস
দৈর্ঘ্য৯০ মিনিট
দেশ বাংলাদেশ
ভাষাবাংলা

গল্পসূত্রসম্পাদনা

"ফারাক্কা বাঁধের পর পদ্মা নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বলেশ্বর নদ ও তার শাখা-প্রশাখাগুলো ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে। বলেশ্বর নদের তীরবর্তী জনপদের সেই দুঃখ-দুর্দশা, হতাশা-প্রত্যাশা, ভালোবাসা ও প্রচলিত জীবনযাপন ‘হরিবোল’ ছবি’র প্রেক্ষাপট। একটি সংখ্যালঘু প্রান্তিক পরিবার সমাজ কর্তৃক নিগৃহীত হয়ে কীভাবে ধীরে ধীরে মরা বলেশ্বরের মত নিঃস্ব হয়ে যায়, সেই কাহিনী এই ছবিতে ফুটে ওঠে"

—বিডিনিউজ২৪ কে দেয়া রেজা ঘটকের সাক্ষাৎকার[৭]

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পঁয়ত্রিশ বছর পর, বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী এক জনপদে স্বাধীনতা যুদ্ধে নির্যাতিত এক নারীর জীবনে ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনা নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে আসেন একজন তরুণ চলচ্চিত্র পরিচালক। চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে এসে পরিচিত হন এক প্রান্তিক কৃষক পরিবারের সাথে। পরিবারটি প্রচলিত গ্রামীণ সমাজে মোড়ল স্থানীয় লোকদের হাতে নিপীড়িত। তরুণ পরিচালক মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের উপর নেমে আসা দুর্দশা ও পাক বাহিনীর নির্যাতনের ঘটনাবলীর সমান্তরালে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ঐ প্রান্তিক পরিবারের উপর আধিপত্য বিস্তারকারী গ্রামীণ সমাজের নিপীড়নের সমরূপতা খুঁজে পান। গল্পে দুঃখ-দুর্দশার পাশাপাশি মতুয়া সম্পদায়ের প্রাত্যহিক জীবন-যাপন, সংস্কৃতি, বলেশ্বর নদীর সাথে জীবন ধারণের সম্পর্ক আলাদা করে উপস্থাপিত হয়।[৮]

নির্মাণসম্পাদনা

দেড় ঘণ্টা ব্যাপ্তির 'হরিবোল'-এর চিত্রগ্রহণ শুরু হয় ০২ এপ্রিল, ২০১৭ তারিখে। পিরোজপুরে চলচ্চিত্রটির অধিকাংশ চিত্রগ্রহণ করা হয়। মে, ২০১৭ নাগাদ চলচ্চিত্রটির ৭৫ শতাংশ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।[৬] অক্টোবর, ২০১৯-এ ডাবিং, শব্দ সম্পাদনা, 'কালার কারেকশন', ভিএফএক্স, টাইটেল, সাব-টাইটেল, ডিসিপি সম্পাদনা শেষে চলচ্চিত্রটির পূর্ণাঙ্গ নির্মাণ সম্পন্ন হয়।[২]

কুশীলবসম্পাদনা

মূল চরিত্রসম্পাদনা

মুখ্য চরিত্রে রূপদান করেছেন কাজী ফয়সল, ইকতারুল ইসলাম, তৃপ্তি সরেন, এমরান হোসেন, সেলিম হায়দার, প্রণব দাস, লিয়াকত লিকু, ইউসুফ ববি, জাহিদ হাসান ও চিন্ময় চক্রবর্তী।[১] এদের চরিত্র সমূহ নিম্নরূপ-

  1. কাজী ফয়সল - এসকে চৌধুরী, তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা।
  2. ইকতারুল ইসলাম - নিতাই, মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রান্তিক পরিবারের কর্তা।
  3. তৃপ্তি সরেন - পারু, নিতাইয়ের স্ত্রী।
  4. ইমরান হোসেন - রাঙা, নিতাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী।
  5. সেলিম হায়দার - হরি, গ্রামের চেয়ারম্যান।
  6. প্রণব দাস - পল্টু, পারুর ভাই।
  7. লিয়াকত লিকু - লখাই, নিতাইয়ের বন্ধু।
  8. ইউসুফ ববি - এসকে চৌধুরী'র সহকারী।
  9. জাহিদ হাসান - ঝড়ু পাগলা।
  10. চিন্ময় চক্রবর্তী - পঞ্চায়েত সভার সভাপতি।

পার্শ্ব চরিত্রসম্পাদনা

এই চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছেন নলিনী মণ্ডল, রণজিৎ মণ্ডল, বিধান বিশ্বাস, এমদাদুল হক হাওলাদার, মনোজ মণ্ডল, যতীন্দ্র নাথ নাগ, শুকুরঞ্জন মোলোঙ্গী, মুক্তি মণ্ডল, ইলিয়াস খান, গৌতম মিস্ত্রী, প্রেমানন্দ আকর্ষণ, অনাদী বালা, জাকির হোসেন হাওলাদার, স্বপন পাল, জীবন কৃষ্ণ ঘরামী, সুনীল কুমার মণ্ডল, আরিফুল ইসলাম শিপুল, আকাশ সিংহ, অনিক, চন্দন, উৎস, অমিত, শুভ, সৈকত, সোহাগ প্রমুখ।[১][৯]

অন্যান্য কলাকুশলীসম্পাদনা

'মার্ক থ্রি' ক্যামেরায় চিত্রগ্রহণ করেছেন মাহফুজ ইসলাম, সেলিম হায়দার, জাহিদ হাসান, প্রণব দাস ও রেজা ঘটক। ‘হরিবোল’ চলচ্চিত্রের দৃশ্য সম্পাদনা করেছেন প্রণব দাস; স্থিরচিত্র ধারণ করেছেন দেবাশিষ গুপ্ত, চিন্ময় চক্রবর্তী ও জাহিদ রবি;[৯] শব্দ ধারণ করেছেন অরিজিৎ মিত্র, শব্দ মিশ্রণ করেছেন সুজয় দাস, শব্দে বিভিন্ন ইফেক্ট করেছেন সুভারুন সেনগুপ্ত ও সোহাম সান্যাল; যুগল বাগ ও সৌরভ সাহা যথাক্রমে ফলি আর্টিস্ট ও ফলি রেকর্ডিস্ট ছিলেন।[১] গ্রাফিক্স-এর কাজ করেছেন স্নেহাশিস ভৌমিক।[১০] লোগো নির্মাণ করেছেন সব্যসাচী হাজরা। ইংরেজিতে সাবটাইটেল করেছেন সমৃদ্ধি পাল ও রেজা ঘটক।[২]

সঙ্গীত আয়োজনসম্পাদনা

'হরিবোল' চলচ্চিত্রে পাঁচটি গান রয়েছে। এর মধ্যে লালন সাঁই-এর গানে কণ্ঠ দিয়েছেন নলীনি মণ্ডল। ভবা পাগলার গানে কন্ঠ দিয়েছেন সাত্যকি ব্যানার্জি। অন্যান্য তিনটি গানের গীতি ও সুর করেছেন অংশুমান বিশ্বাস। এই তিনটি গান যথাক্রমে বাউল সফি মণ্ডল, অংশুমান বিশ্বাসের নিজের কন্ঠে ও সমবেত কণ্ঠে ধারণ করা হয়।[১]

প্রচারণাসম্পাদনা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯-এ বলেশ্বর ফিল্মসের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে ট্রেইলার প্রকাশের মাধ্যমে চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়।[১০][১১][১২][১৩]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "শিগগিরই সেন্সরে যাচ্ছে রেজা ঘটকের চলচ্চিত্র 'হরিবোল'"ইত্তেফাক। ২০১৯-১০-১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-২৪ 
  2. "মতুয়াদের গল্প নিয়ে 'হরিবোল'"প্রথম আলো। ২০১৯-১০-২৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-২৪ 
  3. "Reza Ghatok's 'Haribol' awaiting approval from Censor Board"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-১০-২১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-০৩ 
  4. "মতুয়া সম্প্রদায় নিয়ে 'হরিবোল'"কালের কন্ঠ। ২০১৯-১০-১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-২৪ 
  5. "রেজা ঘটকের চলচ্চিত্র 'হরিবোল' আসছে নভেম্বরে"ইত্তেফাক। ২০১৯-১০-২৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-২৪ 
  6. "নির্মিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'হরিবোল'"Risingbd.com। ২০১৭-০৫-০২। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-২৪ 
  7. "সংখ্যালঘুদের নিয়ে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র 'হরিবোল'"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর। ২০১৯-০৭-২৯। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-২৪ 
  8. "সংখ্যালঘু মতুয়াদের নিয়ে রেজা ঘটকের ছবি 'হরিবোল'"চ্যানেল আই অনলাইন। ২০১৯-১০-৩০। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-৩১ 
  9. "সংখ্যালঘুদের নিয়ে 'হরিবোল'"Bhorer Kagoj। ২০১৯-০৭-২৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-২৪ 
  10. "প্রকাশ্যে এলো 'হরিবোল' চলচ্চিত্রের ট্রেলার"ittefaq। ২০১৯-১২-১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-২৩ 
  11. "প্রকাশ হলো 'হরিবোল' চলচ্চিত্রের ট্রেইলার"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর। ২০১৯-১২-১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-২৩ 
  12. "'হরিবোল'-এর ট্রেলার প্রকাশ"সমকাল। ২০১৯-১২-২২। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-২৩ 
  13. "ট্রেলারে রেজা ঘটকের 'হরিবোল'"চ্যানেল আই অনলাইন। ২০১৯-১২-১৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-২৩ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা