হরিদ্বার জেলা

উত্তরাখণ্ডের একটি জেলা

হরিদ্বার জেলা (হিন্দি: हरिद्वार जिला, প্রতিবর্ণী. হরিদ্ভ়ার জিলা), (এই শব্দ সম্পর্কেpronunciation ), কখনও কখনও 'হরদ্বার'বা 'হরদুয়ার' ও বলা হয়, ভারতের উত্তরাংশে উত্তরাখণ্ড রাজ্যের একটি জেলা। ১৯৯৮ সালের ২8 সেপ্টেম্বর তারিখে উত্তরপ্রদেশ লোকসভাতে, 'উত্তরপ্রদেশ পুনর্গঠন বিল' পাস হওয়ার পরে সাহারানপুর জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে হরিদ্বার জেলার জন্মও হয় ১৯৮৮ সালের ২৮ শে ডিসেম্বর [১][২]। অবশেষে ভারতীয় সংসদ-এ এবং ৯ নভেম্বর ২০০০ সালে [[ভারতীয় ফেডারেল আইনসংখ্যা] ভারতীয় ফেডারেল আইন]] অনুসারে - 'উত্তরপ্রদেশ পুনর্গঠন আইন,২০০০' গৃহীত হয়[৩]। হরিদ্বার ভারত-এর ২৭তম রাজ্য, নবগঠিত উত্তরাখণ্ড রাজ্যের অংশ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০১১ সালের হিসাবে এটি উত্তরাখণ্ডের সবচেয়ে জনবহুল জেলা [৪]। জেলার গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলি হল হরিদ্বার, ভেল রাণীপুর, রুড়কি , মংলৌর, ধন্দেরা, ঝাবেরিয়া, লাক্সার, ল্যান্ডহোড়া এবং মোহাম্মদপুর

হরিদ্বার জেলা
हरिद्वार जिला
উত্তরাখণ্ডের জেলা
উত্তরাখণ্ডে হরিদ্বারের অবস্থান
উত্তরাখণ্ডে হরিদ্বারের অবস্থান
দেশভারত
রাজ্যউত্তরাখণ্ড
প্রশাসনিক বিভাগগাড়োয়াল
তহশিল৪ (১। হরিদ্বার, ২।রুরকি ৩। ভগবানপুর ৪। লাক্সার)
আয়তন
 • মোট২,৩৬০ বর্গকিমি (৯১০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট১৪,৪৭,১৮৭
 • জনঘনত্ব৬১০/বর্গকিমি (১,৬০০/বর্গমাইল)
জনতাত্ত্বিক
 • সাক্ষরতা৭৪.৬২%
 • লিঙ্গানুপাত৮৭৯
ওয়েবসাইট[haridwar.nic.in দাপ্তরিক ওয়েবসাইট]

অবস্থানসম্পাদনা

হরিদ্বারে জেলার আয়তন প্রায় ২,৩৬০ বর্গ কিলোমিটার; এটি ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে অবস্থিত। এর অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ যথাক্রম ২৯.৯৬ ডিগ্রী উত্তর এবং ৭৮.১৬ ডিগ্রী পূর্ব[৫]

 
প্রধান গঙ্গার ধারার ওপরে ভীমগোড়া ব্যারেজের পূর্বে নীল ধারা পক্ষী সংরক্ষণালয়

হরিদ্বার জেলাটি পশ্চিমে সাহারানপুর জেলা, উত্তর ও উত্তরপশ্চিমে দেরাদুন জেলা,পূর্বে পৌড়ি গাড়োয়াল, দক্ষিণে মুজাফ্ফরনগর এবং দক্ষিণ পূর্বে বিজনর দ্বারা সীমাবদ্ধ।

ভূপ্রকৃতিসম্পাদনা

নদীসম্পাদনা

জেলার প্রধান নদী হল গঙ্গা নদী যা বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। অন্যান্য ছোট নদীগুলির মধ্যে রয়েছে রানীপুর রাও, পাথরি রাও, রবি রাও, হারনউই রাও এবং বেগম নদী[৬]

জলবায়ুসম্পাদনা

তাপমাত্রা:

  • গ্রীষ্মকাল: ৩৫°সি - ৪২°সি
  • শীতকাল: ৬°সি - ১৬°সি [৭]

জেলার বৃষ্টিপাতের বেশিটাই হয় গ্রীষ্মকালের শেষদিকে।

জনসংখ্যার উপাত্তসম্পাদনা

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে হরিদ্বার জেলার জনসংখ্যা ১,৯২৭,০২৯ জন[৪] যা প্রায় লেসোথো[৮] এর জনস্ংখ্যা অথবা আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়া [৯] রাজ্যের জনসংখ্যার সমান। জনসংখ্যার হিসেবে ভারতের ৬৪০টি জেলার মধ্যে এটি ২৪৪৪তম স্থান অধিকার করে [৪] জেলার জনঘনত্ব ৮১৭ জন প্রতি বর্গকিলোমিটার (২,১২০ জন/বর্গমাইল)[৪]। ২০০১-২০১১ দশকের হরিদ্বার জেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ৩৩.১৬% [৪]। জনসংখ্যার প্রতি ১০০০ জন পুরুষে নারীর সংখ্যা ৮৭৯ জন [৪]। এখানে সাক্ষরতার হার ৭৪.৬২% [৪]

Religions in Haridwar District
Religion Percent
হিন্দু
  
৬৪.২৭%
মুসলিম
  
৩৪.২৮%

প্রশাসনিক ব্যাবস্থাসম্পাদনা

২000 সালে নবনির্মিত রাজ্য উত্তরাখণ্ডে অন্তর্ভুক্তির পূর্বে, এই জেলাটি উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর বিভাগীয় কমিশনারের একটি অংশ ছিল। জেলাটি প্রশাসনিকভাবে চারটি তেহসিল-এ বিভক্ত: হরিদ্বার, রুরকি, ভগবানপুর, উত্তরাখণ্ড।ভগবানপুর এবং লাক্সার । এটি আরও ছয়টি উন্নয়ন ব্লকের মধ্যে বিভক্ত: ভগবানপুর (উত্তরাখণ্ড), ভগবানপুর, রুরকি, নরসন, বাহাদাবাদ, লাক্সার এবং খানপুর[১][১০] হরিদ্বার রেল স্টেশন থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে রোশনাবাদে জেলার সদর দপ্তর অবস্থিত। চীফ ডেভেলপমেন্ট অফিসারের অফিস উন্নয়ন ভবনও, রোশনাবাদে রয়েছে। জেলা প্রশাসক, উন্নয়ন ভবন, জেলা বিচারক, এস.এস.পি. অফিস, পুলিশ লাইন, জেলা কারাগার, জেলা ক্রীড়া স্টেডিয়াম, জওহর নবোদয় বিদ্যালয় প্রভৃতি এই এলাকার প্রধান প্রতিষ্ঠান। এখানে লোক সেবা আয়োগ এবং সংস্কৃত একাডেমীসহ অন্যান্য প্রশাসন অফিস স্থাপন করা হয়।

লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্রসম্পাদনা

জেলাটিতে একটিমাত্র লোকসভা কেন্দ্র রয়েছেঃ হরিদ্বার এবং ১১টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছেঃ হরিদ্বার, হরিদ্বার গ্রামীণ, ভেল রানিপুর, জ্বালাপুর, ভগবানপুর (উত্তরাখণ্ড), ভগবানপুর, রুরকি, পিরান কালিহর, খানপুর (উত্তরাখণ্ড) খানপুর, মংলৌর লাক্সার এবং ঝাবরিরা [১][১০][১১]

ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবঙ্গি মেলা সমূহসম্পাদনা

একটি অত্যন্ত ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ স্থান হওয়ার কারণে হরিদ্বারে সারা বছর ধরেই অনেক ধর্মীয় উত্সব হতে থাকে; তাদের মধ্যে জনপ্রিয় কভদ মেলা, সোমবতী অমাবস্যা মেলা, গঙ্গা দশারা, গুগল মালা ইত্যাদি যেখানে প্রায় ২.৫ মিলিয়ন মানুষ অংশ নেন [১২] এছাড়া, সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ মেলাটি হল কুম্ভ মেলা, যা প্রতি বারো বছরে একবার যে বার বার বার একবার সঞ্চালিত হয়, যখন জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে বৃহস্পতি কুম্ভ রাশিতে প্রবেশ করে। কুম্ভ মেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায় চৈনিক ভ্রমণকারী হুয়ান সাং বা জুয়ানজং (60২-664 খ্রিষ্টাব্দ) এড় লেখাতে, যিনি ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে ভারত সফর করেছিলেন। [১৩][১৪][১৫]

অর্থনীতিসম্পাদনা

অত্যন্ত ভালো সেচের সুবিধাযুক্ত এই জেলার প্রধান অর্থনৈতিক ভিত্তি কৃষি। ১৯৬০-এর প্রাক্-উত্তরাঞ্চলে কেন্দ্রীয় সরকারের মালিকানাধীন পাবলিক সেক্টর ইউনিট(পিএসইউ) ভারতীয় ড্রাগস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (আইডিপিএল) এবং ভারত হ্যভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড (ভেল) প্রতিষ্ঠার সাথে শিল্পায়ন শুরু হয়েছিল। উত্তরাখণ্ডের রাজ্য শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (সিডিসিএল) এখন শিল্পায়নকে উৎসাহিত করার জন্য, হরিদ্বারের কাছে শিবালক নগর সংলগ্ন জেলার একটি নতুন 'শিল্প উন্নয়ন অঞ্চল' প্রতিষ্ঠা করেছে; হিন্দুস্তান লিভার, ডাবর, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা ও হাভেলের মত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলির এই অঞ্চলে তাদের কারখানা প্রতিষ্ঠা করায় শিল্পের অগ্রগতি তরান্বিত হয়েছে। এছাড়াও জেলার অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি পর্যটন শিল্প, সারা বছর আগত হিন্দু তীর্থযাত্রীরা জেলার অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।

পর্যটনসম্পাদনা

 
হর-কি-পৌড়ি ঘাটে সন্ধ্যারতি
  1. 'হর কি পৌরি' ': হিন্দুদের জন্য পৃথিবীতে পবিত্রতম স্থানগুলির মধ্যে একটি, এই প্রাচীন স্নান ঘাট (ধাপগুলি) খুব গুরুত্বপূর্ণ। বেশিরভাগই বর্তমান ঘাটগুলি গড়ে উঠেছিল ৮০-র দশকে। [১৬]
  2. সতী কুন্ড: এটি কনখল-এ অবস্থিত সুপরিচিত পৌরাণিক সতী পীঠ।
  3. '' দক্ষেশ্বর মহাদেব মন্দির : কনখল শহরের দক্ষিণে অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দিরটি দক্ষেশ্বর মহাদেব মন্দির নামে পরিচিত। এটি দক্ষযজ্ঞ এবং তাঁর ফলশ্রুতিতে সতীর আত্মবলিদান, দক্ষের মৃত্যু, এবং ছাগল রূপে পুনর্জন্মের কাহিনীর প্রতি নিবেদিত একটি মন্দির।
  4. মায়া দেবী মন্দির, হরিদ্বার মায়া দেবী মন্দির : হরিদ্বারের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মায়াদেবীর এই মন্দিরটিকে সিদ্ধেশ্বরী বলে বিবেচনা করা হয় এবং এই স্থানটিতে সতীর দেহত্যাগের পরে হৃদয় ও নাভি পতিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এটি নারায়ণীশিলা মন্দির ও ভৈরব মন্দিরের পাশাপাশি হরিদ্বারে অবস্থিত কয়েকটি প্রাচীন মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম।[১৭]
  1. সপ্ত ঋষি আশ্রম ও সপ্ত ঋতু সরোবর , যেখানে গঙ্গা নিজেকে সাতটি স্রোত-এ বিভক্ত করে যাতে তার তীরে বসবাসকারী সপ্তঋষিরা প্রবাহের দ্বারা বিরক্ত না হন।

ইতিহাস এবং পৌরাণিক যোগাযোগসম্পাদনা

 
রাজা ভগীরথ তাঁর ৬০,০০০ পূর্বপুরুষের মুক্তির জন্যে গঙ্গা কে মর্ত্যে আনয়ন করেছেন

পরিবহণসম্পাদনা

রেলসম্পাদনা

ভারতীয় রেলওয়ের হরিদ্বার রেলওয়ে স্টেশন ভারতের সকল অংশে সংযোগ করে।

সড়কসম্পাদনা

দিল্লি এবং মানা পাস-এর মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী জাতীয় মহাসড়ক ৫৮, , হরিদ্বারের মধ্য দিয়ে যায়।

আকাশপথসম্পাদনা

নিকটতম বিমানবন্দরটি দেরাদুন-এর জলি গ্র্যান্ট বিমানবন্দর, যদিও নতুন দিল্লি-র ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেশি ব্যবহৃত হয় হরিদ্বারের যোগাযোগ রক্ষা করার জন্যে।

বাহ্যিক সংযোগসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Geography of Haridwar"। ১০ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুন ২০১৮ 
  2. Reorganisation Bill passed by UP Govt ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৭ সেপ্টেম্বর ২০০৯ তারিখে The Indian Express, 24 September 1998.
  3. Uttarakhand Govt. of India, Official website.
  4. "District Census 2011"। Census2011.co.in। ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-৩০ 
  5. Haridwara weather and coordinates timeanddate.com/worldclock.
  6. [১][স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] City Development Plan: Haridwara Urban Development Department, Government of Uttarakhanda. p.20.
  7. New District ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩০ আগস্ট ২০০৮ তারিখে Haridwar, www.gmvnl.com.
  8. US Directorate of Intelligence। "Country Comparison:Population"। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১০-০১Lesotho 1,924,886 
  9. "2010 Resident Population Data"। U.S. Census Bureau। ১৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-৩০West Virginia 1,852,994 
  10. "Haridwar district"। ২৯ জুলাই ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মে ২০১৮ 
  11. List of Public Representatives from Haridwar ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ তারিখে Official website.
  12. Fairs in Haridwar ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১০ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে Haridwar Official website.
  13. Kumbh Mela Channel 4.
  14. Kumbh Mela www.archaeologyonline.net.
  15. The 1998 Maha Kumbh Mela saw over 80 million pilgrims visiting this city, to take a dip in the holy river Ganges.Kumbh Mela, a study Missouri State University
  16. Haridwar History
  17. "Temples in Haridwar"। ৩ অক্টোবর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০১৮