শব্দবিজ্ঞানসঙ্গীতশাস্ত্রে স্বরমুদ্রা (ইংরেজি: Timbre) বলতে কোনও সাঙ্গীতিক স্বরের ধ্বনিতরঙ্গের আকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের কারণে মনের ভেতরে ঐ স্বরটির যে বিশেষ চারিত্রিক ধর্ম উপলব্ধ হয়, তাকে বোঝায়। অন্য ভাষায় বললে দুইটি সাঙ্গীতিক স্বরের স্বরতীক্ষ্ণতা (যা ধ্বনিতরঙ্গের প্রধান কম্পাংকের সাথে সম্পর্কিত), স্বরোচ্চতা (যা ধ্বনিতরঙ্গের বিস্তারজনিত তীব্রতার সাথে সম্পর্কিত) ও স্থায়িত্বকাল যদি একই হয়, তাহলে স্বরের চতুর্থ যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যের কারণে ঐ দুইটি স্বরকে একে অপর থেকে মনের ভেতরে স্বতন্ত্র বলে অনুভূত হয়, সেই বৈশিষ্ট্যটিই হল স্বরমুদ্রা। কোনও স্বর যে নির্দিষ্ট উৎসের (যেমন কোনও বাদ্যযন্ত্র বা প্রাণীর কণ্ঠ) কম্পনের ফলে সৃষ্ট হয়, সেই উৎসটির বিভিন্ন ভৌত ধর্ম ঐ স্বরটির ধ্বনিতরঙ্গের আকৃতির চরিত্র তথা সেটির স্বরমুদ্রা নির্ধারণ করে। যেমন একটি ধ্বনি সেতারে বাজালে যে মনের ভেতরে যে স্বরমুদ্রাটি অনুভূত হবে, ঐ একই তীক্ষ্ণতার ও একই উচ্চতার ধ্বনি একই সময় ধরে বাঁশিতে বাজালে ভিন্ন একটি স্বরমুদ্রা অনুভূত হবে। অর্থাৎ স্বরমুদ্রা কোনও উৎস বাদ্যযন্ত্র বা কণ্ঠস্বরকে শনাক্ত করতে সাহায্যকারী ধর্ম। স্বরমুদ্রাকে ধ্বনিমুদ্রা, ধ্বনিগুণ বা স্বরগুণ (Tone quality), স্বর-রঙ (Tone colour), জাতি, ইত্যাদি নামেও ডাকা হতে পারে।

বাদ্যযন্ত্রের উৎপাদিত ধ্বনির ধ্বনিতরঙ্গের আকৃতিগত পার্থক্য স্বরমুদ্রার পার্থক্য সৃষ্টি করে। উপরের চিত্রে পিয়ানো ও ক্ল্যারিনেটের উৎপাদিত ধ্বনির তরঙ্গের আকৃতিগত পার্থক্য দেখানো হয়েছে, যার কারণে ঐ দুই বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য করা যায়।
ভায়োলিনে বাজানো পরপর অনেকগুলি স্বরের (শুনুন) বর্ণালীলেখ। প্রতিটি স্বরের জন্য মৌলিক কম্পাংকের পূর্ণসাংখ্যিক গুণিতকে উপসুরগুলি দেখা যাচ্ছে। মূল কম্পাংক ও অন্যান্য কম্পাংকগুলির যে আপেক্ষিক তীব্রতা, তা ভায়োলিনের স্বরমুদ্রার একটি উপাদান।
পিয়ানোতে বাজানো পরপর কতগুলি স্বরের বর্ণালীলেখ, যেটি ভায়োলিনের বর্ণালীলেখের চেয়ে স্বতন্ত্র চরিত্রের।

স্বরমুদ্রার প্রকৃতি ও উপাদানসমূহ সম্পাদনা

যখন কোনও বাদ্যযন্ত্রকে বাজিয়ে একটি সাঙ্গীতিক স্বর উৎপাদন করা হয়, তখন সেই বাদ্যযন্ত্রটি আপাতদৃষ্টিতে একটি নির্দিষ্ট কম্পাংকে কম্পিত হয়ে একটি সরল ধ্বনিতরঙ্গ সৃষ্টি করে। কিন্তু বাস্তবিকভাবে বাদ্যযন্ত্রটি কেবল একটিমাত্র কম্পাংকে কম্পিত হয় না, বরং অনেকগুলি কম্পাংকের সমষ্টিগত একটি কম্পাংকে কম্পিত হয়ে একটি জটিল ধ্বনিতরঙ্গ সৃষ্টি করে। যে ভিন্ন ভিন্ন কম্পাংকের উপাদান তরঙ্গগুলি মিশ্রিত হয়ে ঐ সামগ্রিক জটিল তরঙ্গটি সৃষ্টি হয়, সেগুলিকে আংশিক (partial) বলে। যেসব বাদ্যযন্ত্রে পরিস্কার ও নির্দিষ্ট তীক্ষ্ণতার স্বর উৎপাদন করে, সেসব ক্ষেত্রে ঐ ভিন্ন ভিন্ন কম্পাংকগুলি মোটামুটিভাবে একটি মূল কম্পাংকের একাধিক পূর্ণসাংখ্যিক গুণিতক হয়ে থাকে। মূল কম্পাংক ও এর পূর্ণসাংখ্যিক গুণিতক আংশিকগুলিকে উপসুর (harmonic) বলে। মূল কম্পাংক হল সেই কম্পাংক যেটির অনেকগুলি পূর্ণগুণিতক কম্পাংক থাকে, সাধারণত যেটির তরঙ্গের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি হয় এবং বাদ্যযন্ত্রটি মূলত ঐ কম্পাংকেই বাজছে বলে অনুভূত হয়; মূল কম্পাকের তরঙ্গ বা আংশিকটিকে মৌলিক স্বর (fundamental note) বা প্রথম উপসুর (first harmonic) বলে। মূল কম্পাংকের চেয়ে বেশি কম্পাংকে অবস্থিত অন্য সব তরঙ্গ তথা আংশিকগুলিকে অধিস্বর (overtone) বলে; অধিস্বরগুলির তীব্রতা সাধারণত মৌলিক স্বর অপেক্ষা কম হয়ে থাকে। অধিস্বরগুলি দুই ধরনের হয়, সুরেলা ও বেসুরো। মূল কম্পাংকের পূর্ণগুণিতক কম্পাংকবিশিষ্ট আংশিকগুলিকে দ্বিতীয় উপসুর (second harmonic), তৃতীয় উপসুর (third harmonic), চতুর্থ উপসুর (fourth harmonic), ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। এগুলিকে সামগ্রিকভাবে সুরেলা অধিস্বর (harmonic overtone) বলে, কেননা এগুলি সামগ্রিক স্বরটিকে এক ধরনের সুরেলা অনুভূতি প্রদান করে। কোনও বাদ্যযন্ত্রের দ্বারা উৎপাদিত সাঙ্গীতিক স্বরের স্বরমুদ্রা মৌলিক স্বরের পাশাপাশি উপস্থিত এই সুরেলা অধিস্বরগুলির সংখ্যা ও কম্পাংক ও এগুলির আপেক্ষিক তীব্রতার উপরে নির্ভর করে। মানুষের মনে এই ভিন্ন ভিন্ন কম্পাংকগুলি আলাদাভাবে অনুভূত হয় না, বরং এগুলির মিশ্রণ মনের ভেতরে স্বরমুদ্রা হিসেবে অনুভূত হয়। ভিন্ন ভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের নিজস্ব স্বতন্ত্র স্বরমুদ্রা থাকে। যেমন ধরা যাক একটি পিয়ানোতে মধ্যম "সা" ধ্বনিটি (অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট কম্পাংকের ধ্বনি) একটি নির্দিষ্ট স্বরোচ্চতা ও নির্দিষ্ট স্থায়িত্বকাল ধরে বাজানো হল। এক্ষেত্রে মধ্যম "সা"-এর মূল কম্পাংকের ধ্বনিটির পাশাপাশি অনেকগুলি পূর্ণগুণিতক কম্পাংকের উপসুর বা সুরেলা অধিস্বর সৃষ্টি হয়। এখন কতগুলি ও কোন্‌ কোন্‌ উপসুর তথা সুরেলা অধিস্বর উপস্থিত আছে, সে ব্যাপারটি ও মূল কম্পাংকের সাপেক্ষে এগুলির কম্পাংকের আপেক্ষিক তীব্রতার যে বিন্যাসটি পাওয়া যায়, তা একান্তই পিয়ানোর নিজস্ব চারিত্রিক একটি ধর্ম, যা পিয়ানোতে বাজানো স্বরটির ধ্বনিতরঙ্গকে একটি নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে। এখন এই একই মধ্যম "সা" ধ্বনিটি একই স্বরোচ্চতা ও একই স্থায়িত্বকাল ধরে যদি দ্বিতীয় একটি বাদ্যযন্ত্র, যেমন বাঁশি দিয়ে বাজানো হয়, তাহলে বাঁশিতে উৎপাদিত স্বরটির মূল কম্পাংক একই হলেও সেই মূল কম্পাংকের সাপেক্ষে সুরেলা অধিস্বরগুলির সংখ্যা, কম্পাংক ও তাদের আপেক্ষিক তীব্রতার বিন্যাস পিয়ানো অপেক্ষা ভিন্ন হবে এবং বাঁশির স্বরটির ধ্বনিতরঙ্গের আকৃতি তথা স্বরমুদ্রা ভিন্ন হবে।

তবে কোনও বাদ্যযন্ত্রের স্বরমুদ্রা শুধুমাত্র এর উৎপাদিত স্বরে উপস্থিত উপসুরগুলির আপেক্ষিক তীব্রতার বিন্যাসজনিত ধ্বনিতরঙ্গের আকৃতি তথা কম্পাংক-বর্ণালী নয়, বরং আরও বহুসংখ্যক ভৌত বৈশিষ্ট্যের উপরে নির্ভর করে। প্রথমত এটি বাদ্যযন্ত্রটিতে যে উপাদানটি কম্পিত করে স্বর উৎপাদন করা হয়, তার উপরে নির্ভর করে; ধাতুর বাদ্যযন্ত্রের স্বরমুদ্রা বাঁশের বাদ্যযন্ত্রের স্বরমুদ্রা অপেক্ষা ভিন্ন হবে। দ্বিতীয়ত ধ্বনিমুদ্রা বাদ্যযন্ত্রটির আকৃতির (যেমন শুষিরযন্ত্রের শঙ্কু-আকৃতি বা বেলনাকৃতি) উপরেও নির্ভর করে। তৃতীয়ত, বাদ্যযন্ত্রটি যে কম্পাংক পরিসরের মধ্যে উপসুরগুলি সৃষ্টি করতে পারে, তা-ও সেটির স্বরমুদ্রা নির্ধারণ করে। চতুর্থত, বাদ্যযন্ত্রটির উৎপাদিত স্বরের সংবৃতিও (envelope) এর স্বরমুদ্রার অন্যতম উপাদান। স্বরসংবৃতি বলতে সময়ের সাপেক্ষে বাদ্যযন্ত্রের উৎপাদিত স্বরটির ধ্বনিতরঙ্গের বিস্তারের (amplitude) চারটি দশা, যথা আক্রমণ (attack), ক্ষয় (decay), অক্ষুণ্ণতা (sustain) ও অব্যাহতি (release) - এই চারটি দশার স্থায়িত্বকালের আপেক্ষিক বিন্যাসকে বোঝায়; প্রতিটি বাদ্যযন্ত্রের স্বরসংবৃতির বিন্যাস অনন্য হয়ে থাকে এবং সেটির স্বরমুদ্রার অনুভূতির প্রধান একটি উপাদান। পঞ্চমত, বাদ্যযন্ত্রশিল্পী বাজানোর ধরন (articulation) পরিবর্তন করেও স্বরমুদ্রায় ভিন্নতা আনতে পারেন; যেমন একজন ভায়োলিন বাদক যদি সুল তাস্তো ভঙ্গিতে ভায়োলিন বাজান, তাহলে স্বরমুদ্রটি হালকা, বায়বীয় মনে হয়, কিন্তু তিনি যদি সুল পোন্তিচেল্লো ভঙ্গিতে বাজান তাহলে স্বরমুদ্রাটি কর্কশ ও আক্রমণাত্মক মনে হয়। বৈদ্যুতিক বাদ্যযন্ত্র যেমন বৈদ্যুতিক গিটার ও বৈদ্যুতিক পিয়ানোর ক্ষেত্রে বাদনশিল্পী বিশেষ আবহসৃষ্টিকারী যন্ত্র (effect unit) ও চিত্রলৈখিক সমতাবিধায়ক (graphic equalizer) ব্যবহার করে বিভিন্ন কম্পাংকের তীব্রতা কমিয়ে বা বাড়িয়ে উৎপাদিত স্বরের স্বরমুদ্রায় পরিবর্তন আনতে পারেন। ষষ্ঠত, স্বরমুদ্রা স্বরোচ্চতা অপেক্ষা সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি বৈশিষ্ট্য নয়; অনেক সময়ে স্বরের সামগ্রিক উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে স্বরের ভেতরের নতুন নতুন উপসুরের উপস্থিতি দেখা যায়, এবং উপসুরগুলির আপেক্ষিক তীব্রতায় (অর্থাৎ কম্পাংক বর্ণালীলেখে) পরিবর্তন আসে, ফলে স্বরটির স্বরমুদ্রা ভিন্ন মনে হয়। সপ্তমত, একটি স্বরে পূর্ণসংখ্যক গুণিতক সুরেলা অধিস্বরগুলি ছাড়াও অপূর্ণসংখ্যক গুণিতকের কম্পাংকবিশিষ্ট আংশিক থাকতে পারে, যেগুলিকে বেসুরো অধিস্বর (inharmonic overtone) বলে। বেসুরো অধিস্বরগুলি অপশব্দ (noise) হিসেবে কাজ করে ও স্বরটির সাঙ্গীতিক শ্রুতিমাধুর্য হ্রাস করে। কোনও স্বরের মধ্যে শ্রুতিমধুর সুরেলা অধিস্বর (tonal content) ও শ্রুতিকটু অপশব্দমূলক বেসুরো অধিস্বরগুলির (noise content) আপেক্ষিক পরিমাণও স্বরমুদ্রার চরিত্রের একটি দিক নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। সুতরাং সব মিলিয়ে বলা যায় যে কোনও স্বরের স্বরমুদ্রা নামক ধর্মটি স্বরতীক্ষ্মতা বা স্বরোচ্চতার মত প্রধানত একটি মাত্র ভৌত বৈশিষ্ট্যের (যেমন ধ্বনিতরঙ্গের মূল কম্পাংক বা ধ্বনিতরঙ্গের বিস্তার) উপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি বহুসংখ্যক ভৌত বৈশিষ্ট্যের সম্মিলনে উদ্ভূত ও শ্রোতার মনে অনুভূত একটি জটিল বহুমাত্রিক ধর্ম।

মানুষের কন্ঠস্বর দ্বারা উৎপাদিত সাঙ্গীতিক ধ্বনিগুলির ক্ষেত্রে গায়ক বা গায়িকার স্বরতন্ত্রী (vocal chord) (অর্থাৎ কম্পনশীল অঙ্গ), স্বরপথের বিভিন্ন অংশ যেমন গলা, জিহ্বা, ঠোঁট, ইত্যাদির আকৃতি ও এগুলির সংকোচন-প্রসারণের বিন্যাস ঐ গায়কের কণ্ঠকে নির্দিষ্ট স্বরমুদ্রা প্রদান করে। অন্যদিকে একটি সুরশলাকার স্বরমুদ্রা বিশুদ্ধ বা পরিস্কার হয়ে থাকে, কেননা এটিতে উৎপাদিত ধ্বনি বা স্বরের কোনও উপসুর থাকে না, কেবলমাত্র মৌলিক স্বরটি উপস্থিত থাকে।

মনে স্বরমুদ্রার উপলব্ধি সম্পাদনা

মানুষের শ্রবণেন্দ্রিয় (কান) ও মানুষের মস্তিষ্ক বহু স্বরমুদ্রার অত্যন্ত সুক্ষ্ম পার্থক্য অনুধাবন ও তারিফ করতে সক্ষম। স্বরমুদ্রার কারণে শ্রোতারা শুধু ভিন্ন শ্রেণীর বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে (যেমন পিয়ানোগিটারের মধ্যে) নয়, বরং একই শ্রেণীর যন্ত্রের মধ্যেও পার্থক্য করতে পারে। যেমন বাঁশিসানাই উভয়েই শুষিরযন্ত্র হলেও স্বরমুদ্রার পার্থক্যের কারণে একই তীক্ষ্ণতা ও প্রাবল্যের ধ্বনি বাজালেও এগুলির মধ্যে পার্থক্য করা যায়। একইভাবে সরোদ, গিটার ও সেতার তিনটিই ততযন্ত্র (তারের বাদ্যযন্ত্র), অথচ তিনটিতে একই তীক্ষ্ণতা ও প্রাবল্যের স্বর বাজালেও স্বরমুদ্রার কারণে এগুলির উৎপাদিত ধ্বনির মধ্যে চারিত্রিক পার্থক্য মনের ভেতিরে অনুভূত হবে। অভিজ্ঞ সঙ্গীতবিশারদেরা একই বাদ্যযন্ত্রের বিভিন্ন উদাহরণের মধ্যেও, যেমন একটি সেতারের সাথে আরেকটি সেতারের স্বরমুদ্রাগত পার্থক্য অনুধাবন করতে পারেন।

স্বরমুদ্রার ভাষিক চরিত্রায়ন সম্পাদনা

স্বরমুদ্রাকে বিভিন্ন ধরনের বিশেষণ পদ দ্বারা চরিত্রায়িত করা হতে পারে, যেমন পরিস্কার (clear), ঘোলাটে (muddy), কেন্দ্রীভূত (focussed), বিকেন্দ্রীভূত (unfocussed), ধারালো (sharp), ভোঁতা (dull), ভরাট (round), ঘন বা পুরু (thick), শীর্ণ (thin), উৎফুল্ল (bright), বিষণ্ণ (dark), বাঁশিসুলভ (reedy), পিতলসুলভ বা খ্যানখেনে (brassy), ঝনঝনে (tinny), কর্কশ (harsh), পরুষ (strident), গুনগুনে বা ভনভনে (buzzy), খনখনে বা চড়া (shrill), মধুরগম্ভীর (mellow), টানটান (strained), বিশুদ্ধ (pure), বিকৃত (distorted), মসৃণ (smooth), খরখরে (raspy), নিঃশ্বাসতাড়িত (breathy), কর্ণভেদী (piercing), মন্দ্রমধুর (warm), অনুনাদী (resonant), ভারী (heavy), হালকা (light), একঘেয়ে (flat), সমৃদ্ধ (rich), গভীর (deep), নিচু (low), শুষ্ক বা নীরস (husky), কাষ্ঠল (woody), ধাতব (metallic), কোমল (soft), পুরুষালি (masculine), মেয়েলি (feminine), স্বাভাবিক (natural), মিষ্টি (sweet বা dulcet), স্নিগ্ধ (gentle), তেজী (tonic), একরূপী (uniform), নাকি (nasal), আস্তে-জোরে কম্পমান (with tremolo), চড়া-খাদ কম্পমান (with vibrato), টুংটাং ধরনের (twangy), কড়কড়ে (crunchy), বাক্সবন্দী (boxy), মোটা (chunky), গুড়গুড়ে (rumbly), দুমদুমে (boomy), থপথপে (tubby), প্রাণবন্ত (punchy), নাকিস্বরী (honky), ফাঁপা (hollow), কামড়ানো (bitey), হাওয়াই (airy), ঝিকিমিকি (shimmery), ইত্যাদি। উদাহরণস্বরূপ, কোনও স্বরে যদি অধিস্বর অনুপস্থিত থাকে, তাহলে সেটিকে "নাকি" বলা হয়। কোনও স্বরে যদি বহুসংখ্যক অধিস্বর উপস্থিত থাকে, তাহলে সেটিকে সমৃদ্ধ (rich) বা ঘন (thick) বলা হয়। যখন অধিস্বরগুলি মৌলিক স্বরকে ছাপিয়ে যায়, তখন স্বরটিকে কোলাহলময় (noisy) বলা হয়। যখন কোনও স্বরের নিম্ন বা উচ্চ কম্পাংকগুলিকে বাদ দিয়ে মধ্য কম্পাংকগুলিকে বিবর্ধিত করা হয়, তখন সেটিকে বিকৃত (distorted) বলে। যখন কোনও স্বরের সাথে সুরহীন বায়ুপ্রবাহ শ্রাব্য হয়, তখন সেটিকে নিঃশ্বাসতাড়িত (breathy ব্রেথি) বলা হয়। যখন কোনও স্বর সুক্ষ্মভাবে চড়া ও খাদের (উচ্চ ও নিচু কম্পাংকের) মধ্যে দুলতে থাকে, তখন বলা হয় সেটি চড়া-খাদে কম্পমান (with vibrato)। আবার যখন কোনও স্বরের তীব্রতা (intensity), উচ্চতা (loudness) তথা প্রাবল্য (volume) অতিসুক্ষ্ম পরিসরে ওঠানামা করে, তখন বলা হয় সেটি আস্তে-জোরে কম্পমান (with tremolo)।

টেমপ্লেট:Melody টেমপ্লেট:Opera terms টেমপ্লেট:Range (music)

টেমপ্লেট:Vocal Music