স্ট্যান্ড বাই মি ডোরেমন

২০১৪ সালের জাপানি ত্রিমাত্রিক চলচ্চিত্র

স্ট্যান্ড বাই মি ডোরেমন (জাপানি: スタンド・バイ・ミー ドラえもん) ২০১৪ সালে ডোরেমন মাঙ্গা ধারাবাহিকের উপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি জাপানি থ্রিডি কম্পিউটার অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র। এটি ডোরেমন চলচ্চিত্রসমূহের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সর্বোচ্চ অর্থ উপার্জনকারী চলচ্চিত্র। ২০১৪ সালে এটি জাপানের ২য় সর্বোচ্চ অর্থ উপার্জনকারী চলচ্চিত্রের গৌরব অর্জন করে। ধারাবাহিকভাবে ৫ সপ্তাহ ধরে এটি জাপানের বক্স অফিস তালিকায় শীর্ষে ছিল। চলচ্চিত্রটি অসংখ্য পুরস্কার এবং সম্মাননা অর্জন করেছে।[২] এটি ২০১৪ সালের ৪ আগস্ট জাপানে মুক্তি দেয়া হয়।[৩][৪]

স্ট্যান্ড বাই মি ডোরেমন
স্ট্যান্ড বাই মি ডোরেমন (২০১৪).jpg
পরিচালক
উৎসফুজিকো এফ. ফুজিও কর্তৃক 
ডোরেমন
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকার
প্রযোজনা
কোম্পানি
পরিবেশকতোহো
মুক্তি
  • ৮ আগস্ট ২০১৪ (2014-08-08) (জাপান)
দৈর্ঘ্য৯৫ মিনিট
দেশজাপান
ভাষাজাপানি
নির্মাণব্যয়$ ৩৫ মিলিয়ন
আয়$ ১৮৩.৪ মিলিয়ন [১]

স্ট্যান্ড বাই মি ডোরেমন চলচ্চিত্রটি কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও পর্বের সমন্বয়ে পরিপূর্ণরূপে গঠিত। এগুলো হলো: All the way from the country of the Future, Imprinting Egg, Good Bye, Shizuka-chan, Romance in the Snowy Mountain, Good Bye, Doraemon.

কাহিনীসংক্ষেপসম্পাদনা

নোবিতা নোবি চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র,যে তার অলসতার কারণে ক্রমাগত তার প্রজেক্টে ব্যর্থ হয় (ফেল করে) এবং তার সহপাঠী সুনিও এবং জিয়ান সর্বদা তাকে ধমক দেয় , হুমকি দিয়ে কাজ আদায় করে এবং কখনো কখনো মারে। দ্বাবিংশ শতাব্দীর তার পৌত্র শিবাসি যে প্রতিদিন তাকে টাইম টিভিতে দেখে, সে তার রোবোটিক বিড়াল ডোরেমনকে সাথে নিয়ে নোবিতার সময়রেখায় গমন করে। শিবাশী ব্যক্ত করে যে নোবিতা যদি তার কার্যকলাপ অব্যাহত রাখে তবে তার এক বিপর্যয়কর ভবিষ্যৎ হবে: জিয়ানের বোন জাইকোর সাথে তার বিয়ে হবে, তার ব্যক্তিগত সংস্থাটি পুড়ে যাবে এবং অনেক ঋণের বোঝা পড়বে। এরকম যাতে না হয় তাই সে ডোরেমনকে নোবিতাকে সাহায্য করার আদেশ দেয়। ডোরেমন যাতে তার আদেশ পালন না করে অর্থাৎ নোবিতাকে সাহায্য না করে ভবিষ্যতে না আসতে পারে সেজন্য শিবাশি তার অর্থাৎ ডোরেমনের নাক ঘুরিয়ে এক প্রকার ব্যবস্থা করে দেয়। এজন্য ডোরেমন বাধ্য হয়ে নোবিতাকে তার বিভিন্ন গেজেট দ্বারা অনিচ্ছুকভাবে সাহায্য করতে থাকে,যদিও ডোরেমন নোবিতাকে তার গ্যাজেটের উপর খুব বেশি নির্ভরশীল না হওয়ার জন্য সতর্ক করে।নোবিতা এক মেয়েকে খুব পছন্দ করে,যার নাম শিজুকা মিনামোটো। নোবিতা ডোরেমনকে অনুরোধ করে যাতে ডোরেমন তার গেজেটের সাহায্যে এমন কিছু করে যাতে শিজুকা নোবিতার প্রেমে পড়ে যায়। পরবর্তীতে ডোরেমন এটা উদ্ঘাটন করে যে নোবিতার ভবিষ্যৎ যদি সংশোধিত হয় তাহলে ভবিষ্যতে শিজুকার সাথে নোবিতার বিয়ে হবে। নোবিতা খেয়াল করল যে শিজুকা ক্রমেই শ্রেণীর অন্যতম মেধাবী ছাত্র ডেকিসুগির ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে। ডেকিসুগির সমান হওয়ার জন্য সে কঠোর অধ্যায়ন করে। কিন্তু তারপরও দুর্ভাগ্যক্রমে ব্যর্থ হওয়ার কারণে সে হতাশ হয়ে পড়ে। সে খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে এবং নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য সে মনে মনে এটা বলে যে সে শিজুকার কাছ থেকে দূরে থাকলেই শিজুকা খুশি থাকবে। সেজন্য সে শিজুকার সাথে চরম অসভ্যতামি করে যাতে শিজুকা তার কাছ থেকে সবসময় দূরে থাকে। এতদ্বসত্ত্বেও শিজুকা সন্দেহবশত মনে করে যে নোবিতা আত্মহত্যার পরিকল্পনা করছে এবং এই কারণে সে নোবিতার বাসগৃহে পৌঁছে এবং নোবিতাকে পিপল রিপেলিং রাসায়নিকের মাত্রাতিরিক্ত প্রভাব থেকে রক্ষা করে। ডোরেমনের প্রবল ধারণা হয় যে এটাই নোবিতা ও শিজুকার সম্পর্ক এভাবেই ঘনিষ্ঠতার হতে থাকবে এবং ভবিষ্যতে তারা দম্পতি হয়ে উঠবে।

টাইম টিভিতে ভবিষ্যত নোবিতাকে শিজুকার পর্বতারোহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে দেখে নোবিতা তার ভবিষ্যৎ স্বরূপ ছদ্মবেশ নিয়ে ভবিষ্যতে গমন করে এবং শিজুকা তো সাহায্য করে কারণ সে প্রবল তুষারঝড়ে নিজের বন্ধুদের থেকে আলাদা হয়ে গেছিল। এমতাবস্থায় নোবিতা নিজের নানা ক্ষতি করেও শিজুকাকে সাহায্য করতে উঠেপড়ে লাগে। প্রচণ্ড শীতে অবসন্ন হওয়ার পূর্বে তার এটা মনে হয় যে নোবিতাকে তার পূর্বের অসম্পূর্ণ কথোপকথনের উত্তরটা এখনই দেওয়া উচিত এবং সে সেই প্রশ্নের উত্তরে "হ্যাঁ" বলে। উত্তর দেওয়ার পর শিজুকা অসুস্থ হয়ে পড়লে নোবিতা যখন ভাবতে থাকে কিভাবে শিজুকা কে সাহায্য করবে, তখন নোবিতা ভবিষ্যতস্বরূপ তাদের সাহায্য করতে আসে। পরবর্তীতে নোবিতা তার ভবিষ্যতস্বরূপের কাছ থেকে জানতে পারে যে শিজুকা তার বিয়ের প্রস্তাবটির উত্তর দিয়েছিল। এর অর্থ শিজুকা সত্যই নোবিতাকে বিয়ে করবে। শিজুকার বাবা নোবিতাকে তার মেয়ের স্বামী হিসাবে স্বীকার করেছেন শুনে, নোবিতা এবং ডোরেমন বর্তমান সময়রেখায় ফিরে আসেন।

শিবাশি ডোরেমনের প্রোগ্রামিং এমনভাবে করে দেয় যাতে নোবিতার ভবিষ্যতের উন্নতির নিশ্চয়তা প্রদানের পর তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভবিষ্যতে ফিরে যেতে হয়। নোবিতার প্রতি উদ্বেগের কারণে ডোরেমনকে ছেড়ে যেতে বেশ কঠিন সময়টি লক্ষ্য করে নোবিতা মুখোমুখি হন এবং প্রমাণ করেন যে তিনি ডোরেমন ছাড়াই নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হবার জন্য জিয়ানের সাথে লড়াই করেছিলেন। নোবিতা হাল ছাড়তে অস্বীকার করে, ডোরেমন পরের দিন শান্তিতে যাওয়ার আগে নোবিতাকে অশ্রুসিক্তভাবে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কারণে জিয়ানকে হারায়। এপ্রিল ফুলের সময় নোবিতাকে জিয়ান ও সুনিও বিশ্বাস করে প্রতারণা করেছিলেন যে ডোরেমন ফিরে এসেছেন। ক্রোধে তিনি ডোরেমন তাঁকে দিয়েছিলেন এমন একটি দ্রবণ পান করেন যা সমস্ত মিথ্যাচারকে সত্যে পরিণত করে এবং বিপরীতে। সুনিও এবং জিয়ানদের বিরুদ্ধে তার প্রতিশোধ শেষ করে নোবিতা ঘরে ফিরে গেলেন, শোক করে বললেন যে ডোরেমন আর কখনও ফিরে যাবে না। অবাক করে দিয়ে, ডোরেমন হঠাৎ ফিরে এসে নোবিতাকে বলে যে তার সাথে থাকার অনুমতি পেয়েছে কারণ নোবিতা বলেছিলেন যে ডোরেমন আর ফিরে আসবে না, তবুও ঘ্রাণের প্রভাব সহ, এবং এটি সত্য হয়ে ওঠে। তারা দুজনেই জড়িয়ে ধরে সুখে কাঁদে।

সঙ্গীতসম্পাদনা

হিমাওয়ারি নো ইয়াকুসোকু গেয়েছেন মোটোহিরো হাতা।

মুক্তিসম্পাদনা

স্ট্যান্ড বাই মি ডোরেমন চলচ্চিত্রটি এই পর্যন্ত ৫৯ টি দেশে মুক্তি পেয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে: জাপান, হংকং, ভারত, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, স্পেন, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, ফিলিপাইন সহ আরও অনেক।

ভারতে ১৯ জুন, ২০১৬ তারিখে হাঙ্গামা টিভিতে চলচ্চিত্রটি হিন্দি ভাষায় এবং এর পাশাপাশি তামিল ও তেলেগু ভাষায়ও মুক্তি পায়।

অভিনয়েসম্পাদনা

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Box Office Mojo
  2. "Robot Cat Doraemon's 1st 3D CG Film Teased in Video"Anime News Network। ২০১৩-১১-১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-১২-১৩ 
  3. "Anime Robot Cat Doraemon Enters 3rd Dimension in 1st 3D CG Film"Anime News Network। ২০১৩-১১-১৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-১২-১৩ 
  4. Beck, Jerry (মার্চ ৯, ২০১৪)। "Anime Trailer: "Stand By Me, Doreamon""। Animation Scoop। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৯, ২০১৪ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা