সাধন চন্দ্র মজুমদার

বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ

সাধন চন্দ্র মজুমদার (জন্ম: ১৭ জুলাই ১৯৫০) বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ। তিনি নওগাঁ-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হন।[১]

সাধন চন্দ্র মজুমদার
২০১৯ সালে সাধন চন্দ্র
বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রী
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
৭ জানুয়ারি ২০১৯
প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনা
পূর্বসূরীকামরুল ইসলাম
নওগাঁ-১ আসনের
সংসদ সদস্য
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
৬ জাুয়ারি ২০০৯
পূর্বসূরীছালেক চৌধুরী
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (1950-07-17) ১৭ জুলাই ১৯৫০ (বয়স ৭৩)
শিবপুর, নওগাঁ, বাংলাদেশ
নাগরিকত্ববাংলাদেশ
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

জন্ম ও শিক্ষাজীবন সম্পাদনা

সাধন চন্দ্র মজুমদারের পৈতৃক বাড়ি নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার শিবপুর গ্রামে। তার পিতার নাম কামিনী কুমার মজুমদার ও মাতার নাম সাবিত্রী বালা মজুমদার। নয় ভাই-বোনের মধ্যে সাধন চন্দ্র মজুমদার অষ্টম। ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকাকালে তিনি পিতাকে হারান।

তিনি নওগাঁ কে.ডি. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি এবং চৌমুহনী সরকারী ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাস করেন। তিনি নওগাঁ ডিগ্রী কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রী অর্জন করেন। চৌমুহনী কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালে ছাত্রলীগে যোগ দেন।

কর্মজীবন সম্পাদনা

পেশায় কৃষি ও ব্যবসায়ী সাধন চন্দ্র মজুমদার রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত আছেন। তিনি তৃতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

রাজনৈতিক জীবন সম্পাদনা

চৌমুহনী কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালে ছাত্রলীগে যোগ দেন।[২] ১৯৮৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে তিনি হাজিনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।[২] পরবর্তীতে নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, দুইবার প্রচার সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও দীর্ঘ দিন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সাধন চন্দ্র মজুমদার ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-১ আসন থেকে অংশ নেন তবে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ছালেক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-পোরশা-সাপাহার) থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন।[৩] তিনি নবম জাতীয় সংসদে ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে বিরোধীদলসমূহ নির্বাচন বয়কট করলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[৪] দশম জাতীয় সংসদে তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[৫]

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি নওগাঁ-১ থেকে তৃতীয়বারের মত সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন।[৬] ৭ জানুয়ারি ২০১৯ থেকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত আছেন।[২]

ব্যক্তিগত জীবন সম্পাদনা

সাধন চন্দ্র মজুমদার ১৯৭৪ সালে চন্দনা রাণী মজুমদারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। চন্দনা রানী মজুমদার একজন স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন। ১৯৯৩ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর তার স্ত্রী মারা যান। তিনি চার কন্যা সন্তানের জনক।

তথ্যসূত্র সম্পাদনা

  1. "খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার"বাংলাদেশ প্রতিদিন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০১-০৬ 
  2. "কৃষক পরিবারের সন্তান এখন খাদ্যমন্ত্রী"প্রথম আলো। ৭ জানুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুন ২০২২ 
  3. "ইউপি চেয়ারম্যান থেকে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র"যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুন ২০২২ 
  4. "১৫৩ আসনে জয়ী যারা"দৈনিক সমকাল। ৪ জানুয়ারি ২০১৪। ৬ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  5. "খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন সাধন"news24bd.tv। ৭ জানুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুন ২০২২ 
  6. মজুমদার, সাধন চন্দ্র। "নওগাঁ-১ আসনে বিজয়ী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাধন চন্দ্র মজুমদার"দৈনিক অধিকার। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০১-০১ 

বহি:সংযোগ সম্পাদনা