সলিমুল্লাহ মুসলিম হল

নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহর নামানুসারে ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হল

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হল, নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুরের নামানুসারে এটির নামকরণ করা হয়েছে। এটি ১৯১৩ সালের ১১ আগস্ট উদ্বোধন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলির মধ্যে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ঐতিহ্যের কারণে একটি বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত।[১] বিখ্যাত এই হলের ইতিহাস নিয়ে সৈয়দ আবুল মকসুদ "সলিমুল্লাহ মুসলিম হল" নামের একটি বই লিখেছেন।[২]

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল
SALIMULLAH MUSLIM HALL.jpg
সাধারণ তথ্য
অবস্থাসক্রিয়
শহরঢাকা
দেশবাংলাদেশ
স্থানাঙ্ক২৩°৪৩′৪৬″ উত্তর ৯০°২৩′২৭″ পূর্ব / ২৩.৭২৯৪০৮° উত্তর ৯০.৩৯০৭৪৯° পূর্ব / 23.729408; 90.390749স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৩′৪৬″ উত্তর ৯০°২৩′২৭″ পূর্ব / ২৩.৭২৯৪০৮° উত্তর ৯০.৩৯০৭৪৯° পূর্ব / 23.729408; 90.390749
খোলা হয়েছে১১ আগস্ট ১৯৩১
নকশা এবং নির্মাণ
স্থপতিগাইথার
বাস্তু প্রকৌশলীডি. জে. ব্লমফিল্ড এবং এ.এফ.এল.এইচ হ্যারিসন
প্রধান ঠিকাদারমার্টিন এন্ড কো.

ইতিহাসসম্পাদনা

১৯১২ সালের ২৭ মে ব্রিটিশ সরকার আবাসিক হল-ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে "নাথান কমিটি" গঠন করে। মুসলিম শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ধর্ম বজায় রাখার জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন একটি হলের সুপারিশ করে। নাথান কমিটির প্রতিবেদন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে, ব্রিটিশ ভারত সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল প্রস্তুত করে। ১৯২০ সালের ২৩ শে মার্চ ভাইসরয় এবং গভর্নর জেনারেল লর্ড রিডিংয়ের সাথে একমত হলে ভারতীয় আইন পরিষদ কর্তৃক এই বিলটি পাস হয়। ১৯২১ সালের ১০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তিনটি হল দিয়ে শুরু হয়েছিল: মুসলিম হল (সলিমুল্লাহ মুসলিম হল), জগন্নাথ হল, এবং ঢাকা হল (পরে নামকরণ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল করা হয়েছে)। মুসলিম হলটি মূলত সচিবালয় হাউজের প্রথম তলায় ছিল। নিচতলার বৃহত্তম কক্ষটি একটি ডাইনিং রুম, রান্নাঘর, সাধারণ ঘর, গ্রন্থাগার এবং অন্যান্য কক্ষে বিভক্ত ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে মুসলিম হল মোট ১৭৮ জন আবাসিক এবং সংযুক্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৫ জন ছাত্রকে রেখেছিল। সহযোগী অধ্যাপক আহমেদ ফজলুর রহমান সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রভোস্ট হিসাবে নিয়োগ পান। দুজন গৃহশিক্ষকও নিযুক্ত করা হয়েছিল: ফখরুদ্দিন আহমেদ, যিনি ছাত্রদের তদারকি করেছিলেন এবং মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ধর্মীয় নির্দেশের দায়িত্বে ছিলেন।

১৯২২-২৩ অধিবেশনে আবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০১। শিক্ষার্থীদের জন্য আটটি অতিরিক্ত কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ১৯৩২-২৪ অধিবেশনে মুসলিম আবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ১২৭ হয়, এবং সচিবালয় হাউসে ৬১টি কক্ষ বরাদ্দ করা হয়েছিল। যেহেতু নিয়মিতভাবে বাসিন্দাদের সংখ্যা বাড়ছিল, তাই হাউস টিউটর এম.এফ. রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, "মুসলিম সম্প্রদায় তাদের জন্য একটি পৃথক হল তৈরি করা উচিত বলে ইচ্ছা পোষণ করেছে; বিশ্ববিদ্যালয় তার মূলধন অনুদানের একটি অংশ ব্যয় করতে রাজি হয়েছে এবং একটি সরকারী ঋণ চেয়েছে। যদি এটি করা হয় তবে সম্প্রদায়টি কৃতজ্ঞ হবে; এটি হবে একটি সন্তুষ্টিজনক যে মুসলিম যুবক যারা তাদের প্রজন্মের আসল রক্ষক তাদের জন্য একটি উপযুক্ত ভবন সরবরাহ করা হয়েছে।"

বিশ্ববিদ্যালয় একটি নতুন হল তৈরি করতে সম্মত হয়েছিল এবং একটি ভবন কমিটি গঠন করেছিল। কমিটি হলের পরিকল্পনা এবং নকশা করার জন্য স্থপতি গওয়াইথরকে নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯২৭ সালে বেঙ্গল সরকার এই পরিকল্পনাটি সম্পাদনের জন্য তহবিল সরবরাহ করে। ১৯৩০-৩১ অধিবেশন চলাকালীন ঠিকাদার মেসার্স মার্টিন অ্যান্ড কো. ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করে। ১৯৩১-৩২ অধিবেশনে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলটি সম্পূর্ণ হয়।

হলটিতে বর্তমানে আট শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সংস্কারটি নিয়মিতভাবে সম্পন্ন করা হয়, সর্বশেষতমটি ২০১০ সালে করা হয়।

স্থাপত্যসম্পাদনা

দোতলা ভবনটি দক্ষিণ দিক মুখ করা। এর চারটি শাখা রয়েছে, যার মাঝে একটি আয়তক্ষেত্রে উঠোন রয়েছে যা উত্তর ও দক্ষিণমুখী ঢাকা হাঁটার রাস্তা দিয়ে বিভক্ত। বারান্দাগুলি ভবনের সংমুখভাগে রয়েছে যা উঠোনের দিকে মুখ করানো। দক্ষিণ শাখার কেন্দ্রে, প্রবেশদ্বারে তিনটি পয়েন্টযুক্ত খিলান রয়েছে যার পার্শ্বে দুটি বর্গাকার টাওয়ার রয়েছে, প্রতিটি মাথায় একটি কন্দাকার হলুদ টাইল গম্বুজ রয়েছে।[৩]

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "ঐতিহাসিক সলিমুল্লাহ হল"প্রথম আলো। ২৯ আগস্ট ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০২০ 
  2. "সৈয়দ আবুল মকসুদের 'সলিমুল্লাহ মুসলিম হল' প্রকাশিত হচ্ছে"কালের কণ্ঠ। ১৮ মার্চ ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০২০ 
  3. নাজিমুদ্দিন আহমেদ (১৯৮৬)। Buildings of the British Raj in Bangladesh [বাংলাদেশে ব্রিটিশ রাজের ভবনগুলি] (ইংরেজি ভাষায়)। বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস লিমিটেড। পৃষ্ঠা ৪৫। আইএসবিএন 984-05-1091-6 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

চিত্র: