শুমেকার-লেভি ৯ ধূমকেতু

শুমেকার-লেভি ৯ ধূমকেতু (ইংরেজি: Comet Shoemaker–Levy 9) ছিল ১৯৯২ সালের জুলাই মাসে বিচূর্ণীভূত এবং ১৯৯৪ সালের জুলাই মাসে বৃহস্পতির সঙ্গে সংঘৃষ্ট একটি ধূমকেতু। ইতিপূর্বে এই ধূমকেতুটিকে ডি/১৯৯৩ এফ২ (ইংরেজি: D/1993 F2) নামে চিহ্নিত করা হয়েছিল। বৃহস্পতির সঙ্গে এই ধূমকেতুর সংঘাতের ঘটনাটিই সৌরজগতের বস্তুগুলির মধ্যে পৃথিবী-বহিঃস্থ সংঘর্ষের প্রথম ঘটনা যেটিকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা গিয়েছিল।[৪] জনপ্রিয় গণমাধ্যমে এই ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়েছিল। সারা বিশ্বের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সযত্নে ধূমকেতুটি পর্যবেক্ষণ করেন। এই সংঘর্ষের ফলে বৃহস্পতি সম্পর্কে কিছু নতুন তথ্যও পাওয়া যায় এবং অভ্যন্তরীণ সৌরজগতে মহাকাশ দূষণের পরিমাণ হ্রাস করার ক্ষেত্রে এই গ্রহের সম্ভাব্য ভূমিকাটির উপর বিশেষভাবে আলোকপাত করে।

ডি/১৯৯৩ এফ২ (শুমেকার–লেভি)
হাবল স্পেস টেলিস্কোপ
শুমেকার-লেভি ৯, সংঘাতের ফলে বিচূর্ণ ধূমকেতু[১]
(সামগ্রিকভাবে ২১টি খণ্ড, ১৯৯৪ সালের জুলাই মাসে গৃহীত আলোকচিত্র)
আবিষ্কার
আবিষ্কারক: ক্যারোলিন শুমেকার
ইউজিন শুমেকার
ডেভিড লেভি
আবিষ্কারের তারিখ: ২৪ মার্চ, ১৯৯৩
কক্ষীয় বৈশিষ্ট্যA
নতি: ৯৪.২°
মাত্রা:১.৮ কিমি (১.১ মা)[২][৩]

১৯৯৩ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্যারোলিনইউজিন এম. শুমেকার এবং ডেভিড লেভি এই ধূমকেতুটি আবিষ্কার করেছিলেন।[৫] সেই সময় শুমেকার-লেভি ৯ (এসএল৯) বৃহস্পতির মাধ্যাকর্ষণে আবদ্ধ হয়ে গ্রহটিকে প্রদক্ষিণ করছিল। সেই বছর ২৪ মার্চ তারিখের রাতে ক্যালিফোর্নিয়ায় পালোমার মানমন্দিরে ৪৬ সেমি (১৮ ইঞ্চি) স্মিট দূরবীন যন্ত্রে তোলা একটি আলোকচিত্রে এই ধূমকেতুর অবস্থানটি ধরা পড়ে। এটিই ছিল কোনও গ্রহকে প্রদক্ষিণকারী প্রথম পর্যবেক্ষিত সক্রিয় ধূমকেতু। সম্ভবত ২০-৩০ বছর আগে এটি বৃহস্পতির মাধ্যাকর্ষণে আবদ্ধ হয়ে পড়েছিল।

বৈজ্ঞানিকদের পরিগণনার ফলে জানা গিয়েছে যে, এটির অস্বাভাবিক রকমের খণ্ডিত রূপটির কারণ ১৯৯২ সালের জুলাই মাসে ধূমকেতুটির পূর্বতন নিকটতর অগ্রসরণ। সেই সময় শুমেকার-লেভি ৯ ধূমকেতুর কক্ষপথ বৃহস্পতির রশ সীমার অভ্যন্তরভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছিল এবং বৃহস্পতির জোয়ার-সংক্রান্ত বল ধূমকেতুটিকে খণ্ডিত করেছিল। পরবর্তীকালে ধূমকেতুটি পর্যবেক্ষিত হয়ে খণ্ডাংশগুলির একটি শ্রেণি হিসেবে, যেগুলির মধ্যে সর্ববৃহৎ খণ্ডটির ব্যাস ছিল ২ কিমি (১.২ মা)। এই খণ্ডাংশগুলি ১৯৯৪ সালের জুলাই মাসের ১৬ ও ২২ তারিখে প্রায় ৬০ কিলোমিটার/সেকেন্ড (৩৭ মাইল/সেকেন্ড) (বৃহস্পতির পলায়নী গতিবেগ) বা ২,১৬,০০০ কিলোমিটার/ঘণ্টা (১,৩৪,০০০ মাইল/ঘণ্টা) গতিতে বৃহস্পতির দক্ষিণ গোলার্ধে আঘাত করে। সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট সহজলক্ষ্য ক্ষতচিহ্নগুলি বৃহৎ লাল বিন্দুর তুলনায় অধিকতর সহজে দৃশ্যমান হয় এবং অনেক মাস সেগুলির অস্তিত্ব বজায় থাকে।

আবিষ্কারসম্পাদনা

১৯৯৩ সালের ২৪ মার্চ রাত্রে পৃথিবী-নিকটস্থ বস্তুগুলিকে উদ্ঘাটিত করার জন্য পর্যবেক্ষণের একটি কর্মসূচি পরিচালনার সময় শুমেকার দম্পতি ও লেভি ক্যালিফোর্নিয়ার পালোমার মানমন্দিরে ০.৪৬ মি (১.৫ ফু) স্মিট দূরবীনে তোলা একটি আলোকচিত্রে শুমেকার-লেভি ধূমকেতুটিকে আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কার ছিল অপ্রত্যাশিত। কিন্তু তা দ্রুত তিন জ্যোতির্বিজ্ঞানীর প্রধান পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির ফলাফলগুলির গুরুত্ব ম্লান করে দেয়।[৬]

শুমেকার-লেভি ৯ ধূমকেতুটি ছিল নবম পর্যায়কালীন ধূমকেতু (যে ধূমকেতুর কক্ষীয় পর্যায়কাল ২০০ বছর বা তার কম)। সেই নিরিখেই ধূমকেতুটির নামকরণ করা হয়। এটি ছিল শুমেকার দম্পতি ও লেভি কর্তৃক আবিষ্কৃত একাদশ ধূমকেতু। এই এগারোটি ধূমকেতুর মধ্যে দু’টি অ-পর্যায়কালীন ধূমকেতুও ছিল, যেগুলির নামকরণ পৃথক রীতিতে করা হয়েছে। ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ আইএইউ সার্কুলার ৫৭২৫-এ এই আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করা হয়।[৫]

যে আলোকচিত্রটি থেকে ধূমকেতুটি আবিষ্কৃত হয়েছিল সেই আলোকচিত্রটিই প্রথম ইঙ্গিত করে যে শুমেকার-লেভি ৯ একটি অ-গতানুগতিক ধূমকেতু। কারণ আপাতদৃষ্টিতে দেখা গিয়েছিল এটিতে একাধিক নিউক্লি বিদ্যমান। এই নিউক্লিগুলি ৫০ আর্কসেকেন্ড দীর্ঘ ও ১০ আর্কসেকেন্ড চওড়া একটি লম্বাটে অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। সেন্ট্রাল ব্যুরো ফর অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেলিগ্রামসের ব্রায়ান জি. মার্সডেন লক্ষ্য করেছিলেন যে, পৃথিবী থেকে দেখলে ধূমকেতুটি বৃহস্পতির থেকে ৪ ডিগ্রি কোণে রয়েছে এবং যদিও এটি ছিল একটি লাইন-অফ-সাইট প্রভাব, তা সত্ত্বেও আকাশে এটির আপাত গতি থেকেই ধূমকেতুটি যে গ্রহটির নিকটেই অবস্থান করছে তার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।[৫]

একটি বার্হস্পত্য কক্ষপথ-বিশিষ্ট ধূমকেতুসম্পাদনা

নবাবিষ্কৃত ধূমকেতুটির কক্ষপথ পর্যালোচনা করে কিছুকালের মধ্যে জানা যায় যে, সেটি বৃহস্পতিকে প্রদক্ষিণ করছে। সেই সময় অবধি জানা সব ক’টি ধূমকেতুই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করত। সেই হিসেবে এই ধূমকেতুটি ছিল অ-গতানুগতিক একটি ধূমকেতু। বৃহস্পতির সঙ্গে ধূমকেতুটির কক্ষপথের বন্ধন ছিল খুবই ঢিলেঢালা। কক্ষপথের পর্যায়কাল ছিল প্রায় ২ বছরের এবং অপসূর বিন্দুটি (কক্ষপথের যে বিন্দুতে ধূমকেতুটি গ্রহ থেকে সর্বাধিক দূরত্বে অবস্থান করত) ছিল ০.৩৩ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক একক (৪৯ নিযুত কিলোমিটার; ৩১ নিযুত মাইল) দূরে। গ্রহটির চারিপাশে ধূমকেতুটির কক্ষপথটি অত্যন্ত উৎকেন্দ্রিক ( = ০.৯৯৮৬)।[৭]

ধূমকেতুটির কক্ষীয় গতি অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায় যে, এটি বেশ কিছু সময় ধরে বৃহস্পতিকে প্রদক্ষিণ করে চলেছিল। সম্ভবত ১৯৭০-এর দশকের গোড়ার দিকে একটি সৌর কক্ষপথ থেকে এটি বৃহস্পতির মাধ্যাকর্ষণে বাঁধা পড়েছিল। যদিও এই বাঁধা পড়ার ঘটনাটি ১৯৬০-এর দশকের মধ্যভাগে হওয়াও স্বাভাবিক।[৮] বেশ কয়েক জন অন্য পর্যবেক্ষক ২৪ মার্চের আগে তোলা প্রাগাবিষ্কার পুনরুদ্ধার আলোকচিত্রে ধূমকেতুটিকে খুঁজে পেয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে কিন এনডেট ১৫ মার্চে তোলা একটি আলোকচিত্রে, সাটোরু ওটোমো ১৭ মার্চের একটি আলোকচিত্রে এবং এলিনর হেলিনের নেতৃত্বাধীন একটি দল ১৯ মার্চের একটি আলোকচিত্রে ধূমকেতুটিকে পান।[৯] ১৯ মার্চ তারিখে তোলা একটি স্মিট ফোটোগ্রাফিক প্লেটে প্রাপ্ত একটি ধূমকেতুর ছবিকে ২১ মার্চ তারিখে বৃহস্পতির নিকটস্থ ধূমকেতুগুলি অনুসন্ধানের একটি প্রকল্প চলাকালীন এম. লিন্ডগ্রেন শনাক্ত করেছিলেন।[১০] অবশ্য লিন্ডগ্রেনের দল মনে আশা করেছিল যে ধূমকেতুগুলি হয় নিষ্ক্রিয় অথবা বড়ো জোড় দুর্বল ধূলির কোমা-বিশিষ্ট। শুমেকার-লেভি ৯ ধূমকেতুটির অঙ্গসংস্থানটিও ছিল অদ্ভুত। পাঁচ দিন পরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হওয়ার আগে পর্যন্ত এটির প্রকৃত বৈশিষ্ট্যটি স্বীকৃতি লাভ করেনি। ১৯৯৩ সালের মার্চ মাসের আগের কোনও প্রাগাবিষ্কার পুনরুদ্ধার আলোকচিত্রে এটিকে পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতির মাধ্যাকর্ষণে বাঁধা পড়ার আগে এই ধূমকেতুটি সম্ভবত একটি স্বল্প-পর্যায়কালীন ধূমকেতু ছিল, যার অপসূর বিন্দুটি ছিল বৃহস্পতির কক্ষপথের মধ্যে এবং অনুসূর বিন্দুটি ছিল গ্রহাণু বেষ্টনীর অভ্যন্তরভাগে।[১১]

যে পরিমাণ স্থানের মধ্যে একটি বস্তু বৃহস্পতিকে প্রদক্ষিণ করতে পারে বলে কথিত তাকে সংজ্ঞায়িত করে বৃহস্পতির হিল গোলক (যাকে রচ গোলকও বলা হয়) নামে। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে অথবা ১৯৭০-এর দশকের গোড়ার দিকে যখন ধূমকেতুটি বৃহস্পতির পাশ দিয়ে গিয়েছিল, তখন সেটি তার অপসূর বিন্দুর কাছাকাছি চলে আসে এবং বৃহস্পতির হিল গোলকের সামান্য ভিতরে ঢুকে পড়ে। বৃহস্পতির মাধ্যাকর্ষণ সেই সময় ধূমকেতুটি সেটির দিকে মৃদুভাবে আকর্ষণ করেছিল। বৃহস্পতির গতির তুলনায় ধূমকেতুটির গতি অত্যন্ত কম হওয়ায়, এটি বৃহস্পতির প্রায় সোজাসুজি ধেয়ে যায় এবং সেই কারণেই এটির কক্ষপথটি অত্যধিক উৎকেন্দ্রিকতাসম্পন্ন বৃহস্পতি-কেন্দ্রিক কক্ষপথে পরিণত হয়; অর্থাৎ, উপবৃত্তটি প্রায় চ্যাপ্টা আকার ধারণ করে।[১২]

১৯৯২ সালের ৭ জুলাই ধূমকেতুটি বৃহস্পতির মেঘের স্তরের ৪০,০০০ কিমি (২৫,০০০ মা) উপর দিয়ে অর্থাৎ আপাতদৃষ্টিতে বৃহস্পতির খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করে। এই দূরত্বটি ছিল বৃহস্পতির ৭০,০০০ কিমি (৪৩,০০০ মা) ব্যাসার্ধের চেয়েও কম এবং বৃহস্পতির সর্ব-অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক উপগ্রহ মেটিসের কক্ষপথের মধ্যে ও গ্রহটির রচ সীমার ভিতরে, যে দূরত্বে জোয়ার-সংক্রান্ত বল শুধুমাত্র মাধ্যাকর্ষণের দ্বারা একটি বস্তুর গতি ব্যাহত করতে পারে।[১২] অতীতে ধূমকেতুটি বৃহস্পতির খুব কাছে চলে এলেও ৭ জুলাই এটির অবস্থান বৃহস্পতির নিকটতম ছিল না এবং মনে করা হয় এই সময়েই ধূমকেতুটি খণ্ডবিখণ্ড হয়েছিল। ইতিপূর্বে পর্যবেক্ষিত বিখণ্ডিত ধূমকেতুগুলির নামকরণের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এই ধূমকেতুর খণ্ডগুলির প্রতিটির নামকরণও করা হয় ইংরেজি বর্ণমালার অক্ষর অনুযায়ী, "খণ্ড এ" থেকে "খণ্ড ডব্লিউ" পর্যন্ত।[১৩]

গ্রহবিজ্ঞানীদের কাছে আরও রোমাঞ্চকর বিষয়টি ছিল এই যে সর্বশ্রেষ্ঠ কক্ষীয় পরিগণনাগুলি থেকে ধূমকেতুটি বৃহস্পতির কেন্দ্রের ৪৫,০০০ কিমি (২৮,০০০ মা) মধ্যে থেকে অতিক্রমণ করেছিল বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এই দূরত্বটি গ্রহটির ব্যাসার্ধের চেয়েও কম। যার অর্থ এই যে ১৯৯৪ সালের জুলাই মাসে শুমেকার-লেভি ৯ ধূমকেতুর সঙ্গে বৃহস্পতির সংঘাতের একটি অত্যন্ত উচ্চ সম্ভাবনার আভাস আগেই পাওয়া যায়।[১৪] গবেষণা থেকে আরও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে নিউক্লির গুচ্ছগুলি প্রায় পাঁচ দিনের একটি পর্যায়কালের মধ্যেই বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে আঁচড় কাটতে চলেছে।[১২]

সংঘর্ষের পূর্বকথনসম্পাদনা

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ইতিপূর্বে দু’টি সৌরজগতের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বস্তুর মধ্যে সংঘাত পর্যবেক্ষণ করেননি। তাই বৃহস্পতির সঙ্গে শুমেকার-লেভি ৯ ধূমকেতুর সংঘর্ষের সম্ভাবনার কথা জানা গেলে সেটি জ্যোতির্বিজ্ঞানী মহল ও সাধারণের মধ্যেই তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। ধূমকেতুটির বৈশিষ্ট্যগুলি অনুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। এটির কক্ষপথ অধিকতর যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল বলে সংঘর্ষের সম্ভাবনা সম্পর্কেও বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়ে যান। এই সংঘর্ষ বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলের অভ্যন্তরভাগ পর্যবেক্ষণের এক অনন্য সুযোগ এনে দিতে চলেছিল বিজ্ঞানীদের সামনে। কারণ বিজ্ঞানীরা আশা করছিলেন যে, সংঘর্ষটির ফলে এই বায়ুমণ্ডলে সচরাচর ক্ষেত্রে মেঘের নিচে লুকিয়ে থাকা স্তরগুলি থেকে উদ্গীরণের ঘটনা ঘটবে।[৭]

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গণনা অনুযায়ী, শুমেকার-লেভি ৯ ধূমকেতুর দৃশ্যমান খণ্ডগুলির আকার ছিল কয়েকশো মিটার (প্রায় ১,০০০ ফু) থেকে দুই কিলোমিটার (১.২ মা) প্রশস্ত, যা ইঙ্গিত করে মূল ধূমকেতুটির নিউক্লিয়াসের আকার সম্ভবত ৫ কিমি (৩.১ মা) পর্যন্ত প্রশস্ত ছিল—অর্থাৎ ১৯৯৬ সালে পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে অতিক্রমণকারী হাকুতাকে ধূমকেতুর তুলনায় এটি খানিকটা বড়োই ছিল। সংঘর্ষের অব্যবহিত পূর্বের বিতর্কের একটি বড়ো বিষয় ছিল এই ধরনের ছোটো মহাজাগতিক বস্তুর সংঘর্ষ পৃথিবীর বুক থেকে দেখা যাবে কিনা। কারণ কোনও কোনও বিজ্ঞানীর ধারণা ছিল যে, ধূমকেতুটি দৈত্যাকার উল্কাপিণ্ডের মতো খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যাওয়ার সময় শুধুমাত্র একটি ঝলকানি হিসেবেই তা দেখা যাবে।[১৫] সর্বাপেক্ষা আশাব্যঞ্জক পূর্বাভাষটি ছিল এই যে বৃহস্পতির শরীর থেকে উদ্গীত হয়ে সূর্যালোকে যে বৃহৎ, অপ্রতিসম ক্ষেপক অগ্নিগোলকগুলি উৎক্ষিপ্ত হবে সেগুলি পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হবে।[১৬]

অন্যান্য বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছিলেন যে, সংঘর্ষের পরিণতিতে ভূকম্পীয় তরঙ্গ সমগ্র গ্রহ জুড়ে প্রবাহিত হবে, সংঘর্ষের ফলে উৎপন্ন ধূলিকণার কারণে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারীয় কুয়াশা বৃদ্ধি পাবে, এবং সেই সঙ্গে বার্হস্পত্য বলয় মণ্ডলীর ভরও বৃদ্ধি পাবে। যদিও এই ধরনের একটি সংঘর্ষ পর্যবেক্ষণ অতীতে কখনই সম্ভব হয়নি বলে ঠিক কী ঘটতে চলেছে তার পূর্বাভাষ করার ব্যাপারে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন।[৭]

সংঘর্ষসম্পাদনা

 
অতিবেগুনিতে বৃহস্পতি (আর-এর সঙ্গে সংঘর্ষের প্রায় ২.৫ ঘণ্টা পরে)। উপরিভাগের কাছে কালো বিন্দুটি হল বৃহস্পতি-পরিক্রমাকারী আইয়ো[১৭]
 
অবলোহিতে বৃহস্পতি, শুমেকার-লেভি ৯ সংঘর্ষ (বাঁদিকে), আইয়ো (ডানদিকে)

যে তারিখে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটবে বলে পূর্বাভাষ করা হয়েছিল, সেই তারিখটি এগিয়ে আসতে শুরু করলে সাধারণের মধ্যে প্রত্যাশা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও ভূপৃষ্ঠস্থ দূরবীনগুলিকে বৃহস্পতির অভিমুখে স্থাপন করেন। হাবল স্পেস টেলিস্কোপ, রোস্যাট এক্স-রে-পর্যবেক্ষণকারী কৃত্রিম উপগ্রহ এবং বিশেষভাবে ১৯৯৫ সালে বৃহস্পতির সমীপে উপস্থিত হতে চলা গ্যালিলিও মহাকাশযান সহ বেশ কয়েকটি মহাকাশ মানমন্দিরও একই কাজ করে। বৃহস্পতির যে দিকটি পৃথিবীর অগোচরে থাকে, সেই দিকেই এই সংঘর্ষের ঘটনাগুলি ঘটেছিল। তবুও সেই সময় বৃহস্পতি থেকে ১.৬ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক একক (২৪০×১০ কিলোমিটার; ১৫০×১০ মাইল) দূরে থাকা গ্যালিলিও এই সংঘর্ষগুলি প্রত্যক্ষ করতে সক্ষম হয়। বৃহস্পতির আবর্তনও অত্যন্ত দ্রুত গতিতে হয় বলে সংঘর্ষের কয়েক মিনিট পরেই সংঘর্ষস্থলগুলি পৃথিবীর পর্যবেক্ষকদের চোখের সামনে চলে আসে।[১৮]

সংঘর্ষের সময় অন্য দু’টি স্পেস প্রোবও পর্যবেক্ষণ চালিয়েছিল: ইউলিসিস মহাকাশযান এবং দূরবর্তী ভয়েজার ২ প্রোব। সৌর পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রেরিত ইউলিসিস সেই সময় ২.৬ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক একক (৩৯০×১০ কিলোমিটার; ২৪০×১০ মাইল) দূর থেকে বৃহস্পতির দিকে মুখ করে স্থাপিত হয় এবং ভয়েজার ২ প্রোবটি ১৯৮৯ সালে নেপচুনের সমীপে উপস্থিত হওয়ার পর এই সংঘর্ষের সময় সৌরজগতের বাইরে চলে যাওয়ার পথে বৃহস্পতি থেকে ৪৪ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক একক (৬.৬×১০ কিলোমিটার; ৪.১×১০ মাইল) দূরে অবস্থান করছিল। এই প্রোবটিকে ১-৩৯০ কিলোহার্জ সীমায় বেতার নিক্ষেপ অনুসন্ধান এবং এটির অতিবেগুনি বর্ণালিবীক্ষণ যন্ত্রে পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়।[১৯]

 
হাবল স্পেস টেলিস্কোপ থেকে গৃহীত প্রথম সংঘর্ষের সময় গ্রহটির শরীরে একটি অগ্নিগোলকের চিত্র

প্রথম সংঘর্ষটি ঘটে ১৯৯৪ সালের ১৬ জুলাই তারিখে সর্বজনীন সমন্বিত সময় ২০:১৩-এ। এই সময় খণ্ড এ-র নিউক্লিয়াসটি ৬০ km/s (৩৫ mi/s) গতিতে বৃহস্পতির দক্ষিণ গোলার্ধে প্রবেশ করে।[৪] গ্যালিলিও-র যন্ত্রপাতি একটি অগ্নিগোলককে শনাক্ত করে। এই অগ্নিগোলকটি প্রসারিত হওয়ার আগে প্রায় ২৪,০০০ K (২৩,৭০০ °সে; ৪২,৭০০ °ফা) চরম তাপমাত্রায় পৌঁছে যায় এবং ৪০ সেকেন্ড পরে দ্রুত শীতল হয়ে তার তাপমাত্রা দাঁড়ায় প্রায় ১,৫০০ K (১,২৩০ °সে; ২,২৪০ °ফা)। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বৃহস্পতির মেঘের উপরিভাগের স্বাভাবিক তাপমাত্রা প্রায় ১৩০ K (−১৪৩ °সে; −২২৬ °ফা)। অগ্নিগোলকটি থেকে উৎসারিত প্লুমটি ৩,০০০ কিমি (১,৯০০ মা)-এরও বেশি উচ্চতায় অতি দ্রুত পৌঁছে গিয়েছিল।[২০] অগ্নিগোলক সংঘর্ষ শনাক্ত করার কয়েক মিনিট পরেই গ্যালিলিও পুনর্নবীকৃত তাপন পরিমাপ করে, যার কারণ সম্ভবত ছিল গ্রহটি থেকে উৎক্ষিপ্ত পদার্থের পুনরায় পতন। পৃথিবী-ভিত্তিক পর্যবেক্ষকেরা গ্রহের শরীরের উপর অগ্নিগোলকের উত্থানটি শনাক্ত করেছিলেন প্রথম সংঘাতের অব্যবহিত পরেই।[২১]

প্রকাশিত পূর্বাভাষ সত্ত্বেও[১৬] জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সংঘর্ষের ফলে উদ্গত অগ্নিগোলকগুলিকে দেখতে পাবেন বলে আশা করেননি[২২] পৃথিবী থেকে সংঘর্ষের অন্যান্য বায়ুমণ্ডলীয় পরিণতিগুলি কতটা দৃশ্যমান হবে সে সম্পর্কেও বিজ্ঞানীদের কোনও ধারণা ছিল না। পর্যবেক্ষকেরা অনতিবিলম্বেই প্রথম সংঘর্ষের পরে একটি বিরাট কালো বিন্দু দেখতে পান। প্রায় ৬,০০০ কিমি (৩,৭০০ মা) (এক পৃথিবী ব্যাসার্ধ) প্রশস্ত এই বিন্দুটি অতি ক্ষুদ্র দূরবীনগুলির দ্বারাও দৃশ্যমান হয়েছিল। সংঘর্ষের ফলে উৎপন্ন আবর্জনাকে এই বিন্দু এবং এর পরে সৃষ্টি হওয়া অন্ধকার বিন্দুগুলির কারণ মনে করা হয়েছিল। এগুলি সংঘর্ষের অভিমুখের সম্মুখভাগে অপ্রতিসম অর্ধচন্দ্রাকার দাগ সৃষ্টি করেছিল।[২৩]

পরের ছয় দিন ধরে ২১টি স্বতন্ত্র সংঘর্ষ পর্যবেক্ষিত হয়। বৃহত্তম সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে ১৮ জুলাই ইউটিসি ০৭:৩৩-তে, যখন খণ্ড জি বৃহস্পতির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এই সংঘর্ষের ফলে ১২,০০০ কিমি (৭,৫০০ মা) চওড়া একটি দৈত্যাকার অন্ধকার বিন্দু সৃষ্টি হয় এবং গণনা করে দেখা যায় সংঘর্ষটির ফলে ৬,০০০,০০০ মেগাটন টিএনটির (বিশ্বের সামগ্রিক পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ৬০০ গুণ) সম মানের শক্তি উৎপন্ন হয়েছিল।[২৪] ১৯ জুলাই তারিখে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার ফলে খণ্ড জি-এর সংঘর্ষের অনুরূপ আকারের চিহ্নের উৎপত্তি ঘটে। ২২ জুলাই খণ্ড ডব্লিউ-এর সঙ্গে বৃহস্পতির সংঘর্ষের পূর্বাবধি এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতেই থাকে।[২৫]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

সূত্রনির্দেশসম্পাদনা

  1. হোওয়েল, ই. (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)। "শুমেকার–লেভি ৯: কমেট'স ইমপ্যাক্ট লেফট ইটস মার্ক অন জুপিটার" [শুমেকার-লেভি ৯: ধূমকেতুর সংঘাত বৃহস্পতির উপর তার চিহ্ন রেখে গিয়েছে]। স্পেস.কম 
  2. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Solem1995 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  3. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Solem1994 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  4. "Comet Shoemaker–Levy 9 Collision with Jupiter" [বৃহস্পতির সঙ্গে শুমেকার-লেভি ৯ ধূমকেতুর সংঘর্ষ]। ন্যাশানাল স্পেস সায়েন্স ডেটা সেন্টার। ফেব্রুয়ারি ২০০৫। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ অগস্ট ২০০৮  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  5. মার্সডেন, বি. জি. (১৯৯৩)। "কমেট শুমেকার-লেভি (১৯৯৩ই)" [শুমেকার-লেভি ধূমকেতু (১৯৯৩ই)]। আইএইউ সার্কুলার৫৭২৫ 
  6. মার্সডেন, ব্রায়ান জি. (১৮ জুলাই ১৯৯৭)। "ইউজিন শুমেকার (১৯২৮–১৯৯৭)"। জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরি। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অগস্ট ২০০৮  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  7. বার্টন, ড্যান (জুলাই ১৯৯৪)। "হোয়াট উইল বি দি এফেক্ট অফ দ্য কলিশন?" [সংঘর্ষের পরিণতি কী হবে?]। ফ্রিকোয়েন্টলি আস্কড কোয়েশনস অ্যাবাউট দ্য কলিশন অফ কমেট শুমেকার–লেভি ৯ উইথ জুপিটার। স্টিফেন এফ. অস্টিন স্টেট ইউনিভার্সিটি। ৯ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ অগস্ট ২০০৮  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  8. ল্যান্ডিস, আর. আর. (১৯৯৪)। "কমেট পি/শুমেকার–লেভি'জ কলিশন উইথ জুপিটার: কভারিং এইচএসটি'জ প্ল্যানড অবজার্ভেশনস ফ্রম ইয়োর প্ল্যানেটোরিয়াম" [বৃহস্পতির সঙ্গে পি/শুমেকার-লেভি ধূমকেতুর সংঘর্ষ: আপনার প্ল্যানেটোরিয়াম থেকে এইচএসটি-র পরিকল্পিত পর্যবেক্ষণসমূহের প্রতিবেদন]। প্রিসিডিংস অফ দি ইন্টারন্যাশানাল প্ল্যানেটোরিয়াম সোসাইটি কনফারেন্স হেল্ড অ্যাট দি অ্যাস্ট্রোনাট মেমোরিয়াল প্ল্যানেটোরিয়াম অ্যান্ড অবজার্ভেটরি, কোকোয়া, ফ্লোরিডা, জুলাই ১০–১৬, ১৯৯৪ [অ্যাস্ট্রোনাট মেমোরিয়াল প্ল্যানেটোরিয়াম অ্যান্ড অবজার্ভেটরি, কোকোয়া, ফ্লোরিডা-য় আয়োজিত ইন্টারন্যাশানাল প্ল্যানেটোরিয়াম সোসাইটি সম্মেলনের কার্যবিবরণী, ১০-১৬ জুলাই, ১৯৯৪]। স্টুডেন্টস ফর দি এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অদ স্পেস (এসইডিএস)। ৮ অগস্ট ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ অগস্ট ২০০৮  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ=, |আর্কাইভের-তারিখ= (সাহায্য)
  9. "ডি/১৯৯৩ এফ২ শুমেকার–লেভি ৯"গ্যারি ডব্লিউ. ক্রংক’স কমেটোগ্রাফি। ১৯৯৪। ৯ মে ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ অগস্ট ২০০৮  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  10. লিন্ডগ্রেন, ম্যাটস (অগস্ট ১৯৯৬)। "সার্চিং ফর কমেটস এনকাউন্টারিং জুপিটার। সেকেন্ড ক্যাম্পেইন অবজার্ভেশনস অ্যান্ড ফার্দার কনস্ট্রেইন্টস অন দ্য সাইজ অফ দ্য জুপিটার ফ্যামিলি পপুলেশন" [বৃহস্পতির মুখোমুখি হওয়া ধূমকেতুগুলির অনুসন্ধান। দ্বিতীয় অভিযানের পর্যবেক্ষণ এবং বৃহস্পতির পারিবারিক বস্তুসংখ্যার আকার প্রসঙ্গে অতিরিক্ত সীমাবদ্ধতাসমূহ]। অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স সাপ্লিমেন্ট সিরিজ১১৮ (২): ২৯৩–৩০১। ডিওআই:10.1051/aas:1996198   এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  11. বেনার, এল. এ.; ম্যাককিনন, ডব্লিউ. বি. (মার্চ ১৯৯৪)। "প্রি-ইমপ্যাক্ট অরবিটাল ইভোলিউশন অফ পি/শুমেকার–লেভি ৯" [পি/শুমেকার-লেভি ৯-এর প্রাক্-সংঘর্ষ কক্ষীয় বিবর্তন]। অ্যাবস্ট্র্যাক্টস অফ দ্য টোয়েন্টিফিফথ লুনার অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্স কনফারেন্স, হেল্ড ইন হাউস্টন, টিএক্স, মার্চ ১৪-১৮, ১৯৯৪২৫: ৯৩। বিবকোড:1994LPI....25...93B 
  12. চ্যাপম্যান, সি. আর. (জুন ১৯৯৩)। "কমেট অন টার্গেট ফর জুপিটার" [ধূমকেতুর নিশানায় বৃহস্পতি]। নেচার৩৬৩ (৬৪২৯): ৪৯২–৪৯৩। এসটুসিআইডি 27605268ডিওআই:10.1038/363492a0বিবকোড:1993Natur.363..492C 
  13. বোনহার্ট, এইচ. (নভেম্বর ২০০৪)। "স্লিট কমেটস [ভগ্ন ধূমকেতু]"। এম. সি. ফেস্টো, এইচ. ইউ. কেলার ও এইচ. এ. উয়েভার। কমেটস টু [ধূমকেতু ২]। ইউনিভার্সিটি অফ অ্যারিজোনা প্রেস। পৃষ্ঠা ৩০১। আইএসবিএন 978-0-8165-2450-1 
  14. Marsden, B. G. (১৯৯৩)। "Periodic Comet Shoemaker-Levy 9 (1993e)"IAU Circular5800 
  15. বার্টন, ড্যান (জুলাই ১৯৯৪)। "ক্যান আই সি দি এফেক্টস উইথ মাই টেলিস্কোপ?" [আমার দূরবীন দিয়ে কী আমি পরিণতিগুলি দেখতে পাব?]। ফ্রিকোয়েন্টলি আস্কড কোয়েশনস অ্যাবাউট দ্য কলিশন অফ কমেট শুমেকার–লেভি ৯ উইথ জুপিটার। স্টিফেন এফ. অস্টিন স্টেট ইউনিভার্সিটি। ৯ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ অগস্ট ২০০৮  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  16. বোসলাফ, মার্ক বি.; ক্রফোর্ড, ডেভিড এ.; রবিনসন, অ্যালেন সি.; ট্রুকানো, টিমোথি জি. (৫ জুলাই ১৯৯৪)। "ওয়াচিং ফর ফায়ারবলস অন জুপিটার" [বৃহস্পতিতে অগ্নিগোলক পর্যবেক্ষণ]। ইয়োস, ট্র্যানজ্যাকশনস, আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়ন৭৫ (২৭): ৩০৫। ডিওআই:10.1029/94eo00965বিবকোড:1994EOSTr..75..305B 
  17. "হাবল আল্ট্রাভায়োলেট ইমেজ অফ মাল্টিপল কমেট ইমপ্যাক্টস অন জুপিটার" [বৃহস্পতি গ্রহে বিভিন্ন ধূমকেতু সংঘাতের হাবল অতিবেগুনি চিত্র]। নিউজ রিলিজ নাম্বার: এসটিএসসিআই-১৯৯৪-৩৫। হাবল স্পেস টেলিস্কোপ কমেট টিম। ২৩ জুলাই ১৯৯৪। ৫ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৪ 
  18. ইয়োম্যানস, ডি. কে. (ডিসেম্বর ১৯৯৩)। "পিরিওডিক কমেট শুমেকার–লেভি ৯ (১৯৯৩ই)" [পর্যায়কালীন ধূমকেতু শুমেকার-লেভি ৯ (১৯৯৩ই)]। আইএইউ সার্কুলার৫৯০৯। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১১ 
  19. উইলিয়ামস, ডেভিড আর.। "ইউলিসিস অ্যান্ড ভয়েজার ২"লুনার অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্স। ন্যাশানাল স্পেস সায়েন্স ডেটা সেন্টার। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অগস্ট ২০০৮  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  20. মার্টিন, টেরি জেড. (সেপ্টেম্বর ১৯৯৬)। "শুমেকার–লেভি ৯: টেম্পারেচার, ডায়ামিটার অ্যান্ড এনার্জি অফ ফায়ারবলস" [শুমেকার-লেভি ৯: অগ্নিগোলকগুলির তাপমাত্রা, ব্যাস ও শক্তি]। বুলেটিন অফ দি আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি২৮: ১০৮৫। বিবকোড:1996DPS....28.0814M 
  21. ওয়েইসম্যান, পি. আর.; কার্লসন, আর. ডব্লিউ.; হুই, জে.; সেগুরা, এম.; স্মিথ, ডব্লিউ. ডি.; বেইনস, কে. এইচ.; জনসন, টি. ভি.; ড্রোসার্ট, পি.; এনক্রেনাজ, টি.; ও অন্যান্য (মার্চ ১৯৯৫)। "গ্যালিলিও এনআইএমএস ডাইরেক্ট অবজার্ভেশন অফ দ্য শুমেকার–লেভি ৯ ফায়ারবলস অ্যান্ড ফল ব্যাক" [শুমেকার-লেভি ৯ অগ্নিগোলক ও পুনঃপতনের গ্যালিলিও এনআইএমএস কর্তৃক প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ]। অ্যাবস্ট্র্যাক্টস অফ দ্য লুনার অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্স কনফারেন্স২৬: ১৪৮৩। বিবকোড:1995LPI....26.1483W 
  22. ওয়েইসম্যান, পল (১৪ জুলাই ১৯৯৪)। "দ্য বিগ ফিজল ইজ কামিং" [বিগ ফিজল আসছে]। নেচার৩৭০ (৬৪৮৫): ৯৪–৯৫। এসটুসিআইডি 4358549ডিওআই:10.1038/370094a0বিবকোড:1994Natur.370...94W 
  23. হ্যামেল, এইচ. বি. (ডিসেম্বর ১৯৯৪)। দ্য স্পেক্টাকুলার সোয়ান সং অফ শুমেকার–লেভি ৯ [শুমেকার-লেভি ৯-এর চমৎকার হংসগীতি]। ১৮৫তম এএএস সম্মেলন। ২৬। আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি। পৃষ্ঠা ১৪২৫। বিবকোড:1994AAS...185.7201H 
  24. বার্টন, ড্যান (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬)। "হোয়াট আর সাম অফ দি এফেক্টস অফ দ্য কলিশনস?" [সংঘর্ষের কয়েকটি পরিণতি কী হতে চলেছে?]। ফ্রিকোয়েন্টলি আস্কড কোয়েশ্চনস অ্যাবাউট দ্য কলিশনস অফ কমেট শুমেকার–লেভি ৯ উইথ জুপিটার। স্টিফেন পি. অস্টিন স্টেট ইউনিভার্সিটি। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১৪ 
  25. ইয়োম্যানস, ডন; চোডাস, পল (১৮ মার্চ ১৯৯৫)। "কমেট ক্র্যাশ ইম্পপ্যাক্ট টাইমস রিকোয়েস্ট"। জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি। সংগ্রহের তারিখ ২৬ অগস্ট ২০০৮  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)