শামস আল-দীন আবু আব্দুল্লাহ আল-খালিলী

আরব জ্যোতির্বিদ

শামস আল-দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল খলিলী (আরবি: شمس الدين عبد الله محمد بن محمد الخليلي‎‎; ১৩২০–১৩৮০) মামলুক-যুগের সিরীয় জ্যোতির্বিদ ছিলেন। তিনি জ্যোতির্বিদ্যায় ব্যবহারের জন্য অনেকগুলো সারণী প্রণয়ন করেছেন। তিনি তার জীবনের বেশিরভাগ সময় দামেস্কের উমাইয়া মসজিদে ধর্মীয় সময়রক্ষক (মুওয়াক্কিত) হিসেবে কাজ করেছেন।[১] তার জীবনী সম্পর্কে বেশি তথ্য জানা যায়নি।

আল খালিলীর সংকলিত একটি সারণী যেখানে বিভিন্ন দ্রাঘিমাংশ এবং অক্ষাংশ থেকে কিবলার দিকনির্দেশ দেখায়।

কর্মসম্পাদনা

আল-খালিলী তার প্রণীত দুটি গাণিতিক সারণীর জন্য বিখ্যাত, উভয়েই প্রায় ৩০,০০০ ভুক্তি আছে। আল-খালিলি দামেস্ক শহরের জন্য প্রণীত ভুক্তিগুলো ছাড়াও তিনি খ্যাতিমান মিশরীয় মুসলিম জ্যোতির্বিদ ইবনে ইউনূসের সমস্ত ভুক্তিগুলো সারণীবদ্ধ করেছেন। তিনি তাঁর বিভিন্ন সহায়ক ফাংশনের 'সার্বজনীন সারণী'-এর ১৩,০০০ ভুক্তি গণনা করেছেন, যা তাকে কোনও নির্দিষ্ট অক্ষাংশের জন্য গোলাকার জ্যোতির্বিদ্যার মানক সমস্যার সমাধান তৈরিতে সহায়তা করে। এগুলো ছাড়াও তিনি একটি ৩,০০০ ভুক্তির টেবিল তৈরি করেছেন, যাতে চতুর্দশ শতাব্দীর সকল মুসলিম দেশগুলোর সকল অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশের জন্য মক্কা নগরীর (কিবলা) দিকনির্দেশ করে।[২] কিবলার দিকনির্দেশনা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা ইসলামে অপরিহার্য কারণ মুসলমানরা মক্কার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করে। আল-খালিলীর সারণীগুলোতে দেওয়া মানগুলি তিন বা চার দশমিক অঙ্ক পর্যন্ত নির্ভুল হিসেবে নিরূপিত হয়েছে। আল-খলিলী তাঁর প্রতিটি ভুক্তি গণনা কীভাবে ঠিক করেছন সে সম্পর্কে এখনো অবধি জানা যায়নি।[৩]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. King, David A. (1975). "Al-Khalili's qibla table", Journal of Near-Eastern Studies 34(2), pp. 81-122.(ইংরেজি ভাষায়)
  2. King, David A. (1973). "Al-Khalili's auxiliary tables for solving problems of spherical astronomy", Journal for the History of Astronomy 4(2), pp. 99-110.(ইংরেজি ভাষায়)
  3. G Van Brummelen (1991). "The numerical structure of al-Khalili's auxiliary tables", Rivista Internazionale di Storia della Scienza (N.S.) 28(3), pp. 667-697.(ইংরেজি ভাষায়)

আরও পড়ুনসম্পাদনা