লোহিত রক্তকণিকা

লোহিত রক্তকণিকা রক্তের সর্বপ্রধান কোষ বা কণিকা যা মেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহের কলাগুলিতে অক্সিজেন সরবরাহের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ফুসফুস বা ফুলকার মধ্যের কৈশিক নালির মধ্যে সংবহণের সময় শ্বাসবায়ু থেকে লোহিত রক্তকণিকাতে অক্সিজেন সংগৃহিত হয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড পরিত্যক্ত হয়। অন্যান্য কলায় কৈশিকনালীর মাধ্যমে রক্ত সংবাহনের সময় লোহিত রক্তকণিকা থেকে অক্সিজেন কলাকোষে স্থানান্তরিত হয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড বিপরীতে অর্থাৎ লোহিত রক্তকণিকাতে প্রবাহিত হয়।

লোহিত রক্ত কণিকা (কোষ)
Redbloodcells.jpg
মানুষের লোহিত রক্ত কণিকাস্ক্যানিং ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপ
201304 red blood cell.png
শনাক্তকারী
আদ্যক্ষরা(সমূহ)RBC
টিএইচH2.00.04.1.01001
এফএমএFMA:62845
শারীরস্থান পরিভাষা

লোহিত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজম হিমোগ্লোবিন নামক এক ধরনের প্রোটিন অণুতে পূর্ণ থাকে। হিমোগ্লোবিন ‘হিম’ ও ‘গ্লোবিন’ এর সমন্বয়ে গঠিত। একটি হিমোগ্লোবিন অণুর মধ্যে চারটি হিম লৌহ সমৃদ্ধ রঞ্জক এবং চারটি গ্লোবিন নামক প্রোটিন থাকে । হিম যৌগের মধ্যে লোহার পরমাণু উপস্থিতির কারণে লোহিত রক্তকণিকা ও রক্তের রঙ লাল। প্রতিটি লোহিত রক্তকণিকাতে প্রায় ২৮০ মিলিয়ন হিমোগ্লোবিন অণু থাকে। সব মিলিয়ে মানবদেহের সমস্ত হিমোগ্লোবিনে অবস্হিত লোহার পরিমাণ প্রায় ২.৫ গ্রাম। এই হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমেই দেহের ৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয়। বাকী ২% বহন করে রক্তরস। অক্সিজেন হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সি-হিমোগ্লোবিন গঠন করে।

মানবদেহে পরিণত লোহিত রক্তকণিকাগুলি স্থিতিস্থাপক দ্বি-অবতল ডিস্ক আকৃতির হয় এবং এগুলোতে কোন নিউক্লিয়াস ও অন্যান্য বেশিরভাগ কোষ-অঙ্গাণু অনুপস্থিত থাকে। মানবদেহে প্রতি সেকেন্ডে ২.৪-২.৬ মিলিয়ন লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন হয়। কণিকাগুলি অস্থিমজ্জায় উৎপত্তি লাভ করে এবং সমগ্র দেহে ১০০-১২০ দিন সংবহনের পর যকৃত এবং প্লীহায় ধ্বংস হয়।ম্যাক্রোফাজ নামের শ্বেত রক্তকণিকাগুলি এগুলিকে ক্ষুদ্রতর উপাদানে ভেঙে ফেলে ও পুনরায় সৃষ্টির জন্য প্রস্তুত করে। একটি লোহিত কণিকার সমস্ত দেহ ঘুরে আসতে প্রায় ২০ সেকেন্ড লাগে। মানবদেহের কোষসমূহের প্রায় এক-চতুর্থাংশই হল লোহিত রক্তকণিকা। একটি প্রাপ্তবয়স্ক লোকের দেহে ২০ থেকে ৩০ ট্রিলিয়ন লোহিত রক্তকণিকা থাকে।

Erytrocyte deoxy to oxy v0.7.gif

শরীরে লোহিত কণিকা-সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগের মধ্যে আছে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা, হিমোলাইসিস বা লোহিত কণিকাসমূহের অতিরিক্ত ভাঙন, ইত্যাদি।

গঠনসম্পাদনা

মেরূদণ্ডী প্রাণীসম্পাদনা

 
মেরুদণ্ডী প্রাণীদের লোহিত রক্তকণিকায় এক বিশাল আকারের বৈচিত্র রয়েছে, পাশাপাশি কোষ এবং নিউক্লিয়াস আকারের মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের লোহিত রক্তকণিকাতে নিউক্লিয়াস থাকে না এবং অন্য বেশিরভাগ মেরুদণ্ডী প্রাণীদের তুলনায় লোহিত রক্তকোণিকা যথেষ্ট ছোট হয়। [১]
 
Mature red blood cells of birds have a nucleus, however in the blood of adult females of penguin Pygoscelis papua enucleated red blood cells (B) have been observed, but with very low frequency.

সকল স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং মানুষ সহ প্রায় সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীদের রক্তে লোহিত রক্তকণিকা রয়েছে। অক্সিজেন পরিবহনের জন্য লোহিত রক্তকণিকা রক্তে উপস্থিত থাকে। লোহিত রক্তকণিকা ব্যতীত একমাত্র পরিচিত মেরুদণ্ডী প্রাণী হল কুমির আইসফিশ ; তারা খুব অক্সিজেন সমৃদ্ধ ঠান্ডা পানিতে বাস করে এবং অক্সিজেন অবাধে তাদের রক্তে দ্রবীভূত করে।[২] তারা খুব বেশি পরিমানে হিমোগ্লোবিন ব্যবহার করে না, তাদের জিনোমে হিমোগ্লোবিন জিনের অবশিষ্টাংশগুলি পাওয়া যায়।[৩]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Gulliver, G. (১৮৭৫)। "On the size and shape of red corpuscles of the blood of vertebrates, with drawings of them to a uniform scale, and extended and revised tables of measurements"। Proceedings of the Zoological Society of London1875: 474–495। 
  2. Ruud JT (মে ১৯৫৪)। "Vertebrates without erythrocytes and blood pigment"। Nature173 (4410): 848–50। ডিওআই:10.1038/173848a0পিএমআইডি 13165664বিবকোড:1954Natur.173..848R 
  3. Carroll, Sean (২০০৬)। The Making of the Fittest। W.W. Norton। আইএসবিএন 978-0-393-06163-5 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা