রাসসুন্দরী দেবী

বাঙালি লেখিকা

রাসসুন্দরী দেবী (ইংরেজি: Rassundari Debi) একজন বাঙালি লেখক যিনি প্রথম পূর্ণাঙ্গ আত্মজীবনী লেখক হিসাবে চিহ্নিত [১] আধুনিক বাংলা সাহিত্যে। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নারী লেখকদের মধ্যে একজন।

রাসসুন্দরী দেবী
জন্ম১৮১০
পাবনা, বাংলা, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু১৮৯০
পেশালেখিকা
ভাষাবাংলা
জাতীয়তাভারতীয়
নাগরিকত্বভারত (ব্রিটিশ ভারত)

তিনি পূর্ববঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন এবং প্রথম ভারতীয় নারী হিসাবে আত্মজীবনী লিখেছিলেন এবং প্রথম বাঙালি হিসাবে একটি আত্মজীবনী লেখেন। আমার জীবন তাঁর আত্মজীবনী, ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।

তিনি ভারতের প্রথম মহিলা যিনি ভারতের ইতিহাস নিয়ে চর্চা করেছিলেন।

আত্মজীবনীসম্পাদনা

রাসসুন্দরী ১৮১০ সালে পাবনা জেলার পোতাদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা পদ্মলোচন রায় মারা যান যখন রাসসুন্দরী খুব ছোট ছিলেন। তিনি কখনো তার বাবাকে দেখেননি এবং তার মা ও আত্মীয়দের দ্বারা তিনি প্রতিপালিত হয়েছিলেন। তিনি তার বাবার বাড়িতে একটি ধর্মপ্রচারক মহিলা দ্বারা পরিচালিত স্কুলে থাকতেন, যেখানে ছেলেরাও অধ্যয়ন করতেন। রাসসুন্দরী একটি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য স্কুলে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখান থেকে বাংলাফার্সি ভাষা শেখেন।

১২ বছর বয়সে তিনি ফরিদপুরের রামদিয়া গ্রামের রাজবাড়ির নীলমনি রায়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি একজন বৈষ্ণব ধর্ম বিশ্বাসী ছিলেন। সীমিত আনুষ্ঠানিক পড়াশোনার সঙ্গে, তিনি ভক্তি (নিষ্ঠা) দ্বারা চালিত হয়ে পড়তে শেখেন, তার প্রখর ইচ্ছা হইতে বাল্মীকি পুরাণ ও চৈতন্য ভাগবত পড়তেন। তিনি ১২ জন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭ জন জন্মের কিছু দিনের মধ্যে মারা যান। এতগুলো সন্তান হওয়ায় এবং তিনি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার কারণে অসংখ্য মৃত্যু প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে। তার সাতটি সন্তানের মৃত্যু হয় চোখের সামনে। এছাড়া স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি, হারিয়েছেন নাতি-নাতনিদেরও। এই সব প্রিয়জনদের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করা কতখানি দুঃসহ শোকের তা ফুটে উঠেছে তার লেখনিতে। তার বেঁচে থাকা সন্তানেরা হলেন বিপিন বিহারী সরকার, দ্বারকনাথ সরকার, কিশোরী সরকার, প্রতাপচন্দ্র সরকার এবং শ্যামসুন্দরী। তার স্বামী ১৮৬৮ সালে মারা যান।[২] তার ছেলে কিশোরী সরকার কলকাতা হাইকোর্টের একজন আইনজীবী হয়ে ওঠে এবং বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বইয়ের লেখক ছিলেন।[৩] ১৮৯০ সালে রাসসুন্দরী মারা যান।

লিখিত বইসম্পাদনা

১৮৭৬ সালে রাসসুন্দরীর আত্মজীবনী আমার জীবন (মাই লাইফ) প্রকাশিত হয়। বইটি দুটি অংশে রয়েছে, প্রথমটির মধ্যে ১৬ টি ছোট রচনাবলী রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তার আত্মজীবনী। দ্বিতীয় অংশ, ১৯০৬ সালে প্রকাশিত, যার মধ্যে ১৫ টি ছোট রচনা রচনাবলী রয়েছে, প্রত্যেকটি একটি উৎসর্গমূলক কবিতা দ্বারা প্রতিস্থাপিত।[৪]

জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর বইটির 'ঘটনাবলীর বিস্ময়কর ধারাবাহিকতা' এবং অভিব্যক্তির 'সহজ মাধুর্য্য'র প্রশংসা করেছেন। দীনেশ চন্দ্র সেন বলেন তার গদ্য একটি 'অতীত যুগের সহজ গদ্য রচনার সংক্ষিপ্তসার'।[৫] তার লেখা আমার জীবন বইটি হিন্দিতে অনুবাদ করা হয়েছিল।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Deepa Bandopadhyay। "নারীর লেখা নারীর কথা"। ১৯ মে ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০১৮ 
  2. Amin, Sonia (২০০৩)। "Dasi, Rassundari"Islam, Sirajul; Jamal, Ahmed A.। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (First সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh। ১৬ মার্চ ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  3. Hindu system of moral science (1895, 3rd revised and enlarged ed. 1912), Hindu system of religious science and art, or the revelations of rationalism and emotionalism (1898), Hindu system of self-culture of the Patanjala Yoga Shastra (1902), Mimansa rules of interpretation as applied to Hindu law (1909), An introduction to the Hindu system of physics, being an exposition of Kanad-Sûtras relating to the subject (1911).
  4. Tharu, Susie J.; Lalita, Ke (১৯৯১-০১-০১)। Women Writing in India: 600 B.C. to the early twentieth century (ইংরেজি ভাষায়)। Feminist Press at CUNY। পৃষ্ঠা 191। আইএসবিএন 9781558610279 
  5. Dinesh Chandra Sen। Vanga Sahitya Parichaya or Selections from the Bengali Literature: Volume II। Calcutta।