রায়েরবাজার কবরস্থান

ঢাকার রায়েরবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কবরস্থান

রায়েরবাজার কবরস্থান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কবরস্থান।[১][২] এটি রাজধানীর রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের পেছনে অবস্থিত। এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ২০১৬ সালের ২৫ মার্চ শুরু হয়। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্মিত এই কবরস্থানে প্রায় এক লাখ কবরের জায়গা আছে।[৩]

রায়ের বাজার কবরস্থান ও শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের মাঝের হ্রদ

বর্ণনাসম্পাদনা

এতে মোট জমির পরিমাণ ৯৬ দশমিক ২৩ একর। মূল কবরস্থান ভূমির পরিমাণ ৮১ দশমিক ৩০ একর। প্রকল্পে মূল কবরস্থান ছাড়াও ভেতরে রয়েছে দুটি লেক, হাঁটার পথ, দুটি মসজিদ, জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য পাঁচ একর জায়গা, ৬ দশমিক ১৩ একর জমিতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-২) কার্যালয়।[১] এখানে প্রবেশের জন্য তিনটি ফটক আছে। এটি ১৬টি ব্লকে বিভক্ত। এর ভেতর দিয়ে বয়ে চলা লেকের ওপর তিনটি সংযোগ সেতু আছে। শিশুদের কবর দেওয়ার আলাদা জায়গা রয়েছে। এর ভিতরে খানিক পরপর লাগানো হয়েছে বিদ্যুৎ বাতি, পাঁচ জায়গায় বানানো হয়েছে পানি, শৌচাগারসহ সুবিধাকেন্দ্র। আরও আছে নানা জাতের ফুলগাছের বাগান। [৪]

নির্মাণ ব্যয়সম্পাদনা

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এটি নির্মান করে।[৫] রায়েরবাজার কবরস্থান প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ৫২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের ৫-আর ই ব্যাটালিয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।[৬]

কবরস্থানের সেবা নেয়ার নিয়মসম্পাদনা

ঢাকা  উত্তর সিটি কর্পোরেশনের  আওতাধীন ৬টি কবরস্থানের মতো এখানেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। প্রত্যেকটি কবরস্থানের অগ্রিম  কবর  সংরক্ষণ সম্পূর্ণরূপে  বন্ধ রয়েছে। তবে  কর্তৃপক্ষের  অনুমোদন ও  স্থান  প্রাপ্যতা  সাপেক্ষে এসব  কবরস্থানে  বিভিন্ন মেয়াদে কবর সংরক্ষণের  সীমিত ব্যবস্থা  রয়েছে। সংরক্ষণের নির্ধারিত ফি পরিশোধ পূর্বক  ১৫/২৫ বছরের জন্য কবর সংরক্ষণ করা যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের দাফনের ক্ষেত্রে প্রমাণ হিসেবে  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের  সমন্বিত তালিকায় নাম থাকতে  হয় এবং মুক্তিযোদ্ধা সনদ দাখিল করে কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে  ১০(দশ) বছর ফ্রি কবর সংরক্ষণের সুবিধা  পাওয়া যায়। সেবা প্রদানের জন্য প্রতিটি কবরস্থানে কর্পোরেশনের কর্মচারী  নিযুক্ত রয়েছে। কবরে  সমাহিতকরণের  জন্য বাঁশ ও চাটাই সরবরাহের লক্ষ্যে ইজারাদার নিয়োজিত রয়েছে। দাফন ফি বাবদ ৫০০ টাকা এবং প্রতিটি কবরস্থানে বাঁশ ও চাটাই সরবরাহ  করার নির্ধারিত মূল্য  টানানো  আছে। প্রতিদিন সকাল  ৬টা হতে রাত্রি ১১টা পর্যন্ত  কবরস্থানসমূহ খোলা থাকে। এই কবরস্থানে বাঁশ চাটাই এর ইজারা মূল্য বড় কবরের জন্য ২৮৮ টাকা এবং ছোট কবরের জন্য ১৯ টাকা।[৭]

চিত্রশালাসম্পাদনা

 
রায়েরবাজার কবরস্থানে সারি সারি কবর

তথ্যসূত্রসম্পাদনা