প্রধান মেনু খুলুন

রাখী (অভিনেত্রী)

ভারতীয় অভিনেত্রী
(রাখী গুলজার থেকে পুনর্নির্দেশিত)

রাখী মজুমদার (জন্ম: ১৫ আগস্ট, ১৯৪৭) ভারতীয় অধিরাজ্য বঙ্গের রাণাঘাট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। তিনি মূলতঃ হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি অনেকগুলো বাংলা চলচ্চিত্রেও অংশ নিয়েছেন তিনি।[১] প্রখ্যাত ভারতীয় কবি, সুরকার, পরিচালক গুলজারের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রেক্ষিতে তিনি রাখী গুলজার নামে পরিচিতি পান।

রাখী
নীনা সিংয়ের প্রদর্শনীতে রাখী গুলজার
নীনা সিংয়ের প্রদর্শনীতে রাখী
জন্ম
রাখী মজুমদার

(1947-08-15) ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ (বয়স ৭২)
কার্যকাল১৯৬৭-২০০৩
দাম্পত্য সঙ্গীঅজয় বিশ্বাস (বি. ১৯৬৩; বিচ্ছেদ. ১৯৬৫)
গুলজার (বি. ১৯৭৩)
সন্তানমেঘনা গুলজার

চার দশকব্যাপী সুদীর্ঘ চলচ্চিত্র জীবনে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। এ সময়ে রাখী তিনবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার ও একবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভসহ অনেকগুলো পুরস্কার পেয়েছেন। ফিল্মফেয়ারে রাখী সর্বমোট ১৬বার মনোনীত হয়েছেন। তন্মধ্যে ৮বার পার্শ্ব অভিনেত্রীর শ্রেণীতে ছিলেন। এরফলে সর্বাধিক নারী অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়নের দিক দিয়ে মাধুরী দীক্ষিতও তাঁর সমকক্ষ হন।

পরিচ্ছেদসমূহ

শৈশবকালসম্পাদনা

ভারতের স্বাধীনতা লাভের অল্প কিছু সময় পরে ১৫ আগস্ট, ১৯৪৭ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার রাণাঘাট এলাকায় বাঙালী পরিবারে রাখী'র জন্ম। বালিকাদের স্থানীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। ভারত বিভাজনের পূর্বে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে (অধুনা বাংলাদেশে) তাঁর বাবা জুতোর ব্যবসা করতেন।[২][৩] পরবর্তীতে তাঁর পরিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাসস্থান গড়েন।

কর্মজীবনসম্পাদনা

১৯৬৭ সালে ২০ বছর বয়সী রাখী তাঁর প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র বধূ বরণে অভিনয় করেন। এরপর ১৯৭০ সালে প্রথম হিন্দি চলচ্চিত্রে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ লাভ করেন। রাজশ্রী প্রোডাকশন্সের ছত্রচ্ছায়ায় জীবন মৃত্যু চলচ্চিত্রে তাঁর বিপরীতে নায়কের ভূমিকায় অংশগ্রহণ করেছিলেন ধর্মেন্দ্র

১৯৭১ সালে শর্মিলী চলচ্চিত্রে শশী কাপুরের বিপরীতে দ্বৈত চরিত্রে অবতীর্ণ হন। একই বছর লাল পাথ্থরপরস চলচ্চিত্রে অংশ নেন। তিনটি চলচ্চিত্রই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এরফলে হিন্দি চলচ্চিত্রে বৃহৎ সারির নায়িকায় নিজেকে অন্তর্ভূক্ত করেন। পরবর্তী দশকে শেহজাদা, হীরা পান্না, দাগ: এ পয়েম অব লাভ, হামারে তুমহারে, আঁচলতাকত চলচ্চিত্রে অংশ নেন তিনি। তন্মধ্যে ব্ল্যাকমেইলতপস্যা চলচ্চিত্রে স্মরণীয় অভিনয় করেন তিনি। হীরা পান্না, বানারসি বাবু, লুটমারজোশিলা চলচ্চিত্রে দেব আনন্দের সাথে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল।

শশী কাপুরের সাথে শর্মিলী, জানোয়ার অউর ইনসান, কাভি কাভি, দোসরা আদমি, তৃষ্ণা, বাসেরা,[৪] বন্ধন কুচচে দ্বাগুণ কা, জমিন আসমান চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়াও ১৯৭০ সালে এক দো তিন চার চলচ্চিত্রেও কাপুরের সাথে অভিনয় করেন। কিন্তু চলচ্চিত্রটি পরবর্তীকালে আর মুক্তি পায়নি।[৫] অমিতাভ বচ্চনের সাথে কাভি কাভি, মুকাদ্দার কা সিকান্দার, কসমে বাদে, ত্রিশূল, কালা পাথ্থর, যমুনা, বারসাত কি এক রাত, বেমিসালে অংশগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৮১ সালে ২৩ বছর বয়সী পরিচালক অনিল শর্মা তাঁর অভিষেক চলচ্চিত্র শ্রদ্ধাঞ্জলীতে অভিনয়ের আমন্ত্রণ জানান কিন্তু অর্থের অপ্রতুলতায় কোন পারিশ্রমিক দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাস্বত্ত্বেও চলচ্চিত্রটি সফলতা পেয়েছিল। ১৯৮৪ সালে পরমা বাংলা চলচ্চিত্র পরমায় অংশ নেন ও সেরা অভিনেত্রী বিভাগে বিএফজেএ পুরস্কার পান। শীর্ষ নায়িকা হিসেবে সর্বশেষ চলচ্চিত্র পিগালতা আসমানে শশী কাপুরের বিপরীতে ১৯৯৫ সালে অংশ নেন।

১৯৮০-এর দশকের শেষার্ধ্ব থেকে ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে বয়স্ক মা, নিষ্ঠুর খলনায়কের হাতে নিহত বিধবা কিংবা নৈতিকতায় আচ্ছন্ন নারী চরিত্রে অংশ নেন যা বাণিজ্যিকভাবে সফলতা পায়। ২০০৩ সালে সর্বশেষ চলচ্চিত্র শুভ মহরতে অংশ নেন। এ চলচ্চিত্রটি সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

কিশোরী থাকাবস্থায় বাঙালী সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র পরিচালক অজয় বিশ্বাসের সাথে স্বল্পকালীন বৈবাহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু অল্পকিছুদিন পরই তাঁদের মধ্যকার সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়। পরবর্তীকালে প্রখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক, কবি ও গীতিকার গুলজারের সাথে দ্বিতীয়বারের মতো বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এ দম্পতির মেঘনা গুলজার (বস্কি) নাম্নী এক কন্যা রয়েছে। কিন্তু কন্যার বয়স এক বছর থাকাকালে তাঁরা বিবাহ-বিচ্ছেদবিহীন অবস্থায় দিনাতিপাত করতে থাকেন। বাবার কাছেই মেয়ে বড় হয়। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলচ্চিত্র বিষয়ে স্নাতকধারী হয়ে মেঘনা ফিলহাল, জাস্ট মেরিড ও দাস কাহানিয়া'র ন্যায় চলচ্চিত্র পরিচালনায় অগ্রসর হয়।[৬] ২০০৪ সালে নিজ পিতার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ প্রকাশ করেন।[৭]

একসময় রাখী মুম্বইয়ের খর এলাকার সরোজিনী রোডের নিজ বাংলো মুক্তাঙ্গনে বসবাস করতে থাকেন। এরপর বাংলাটি বিক্রয় করে কাছাকাছি একই নামের এক সুউচ্চ ভবনে অবস্থান করছেন।

সম্মাননাসম্পাদনা

১৯৭৩ সালে দাগ: এ পয়েম অব লাভ চলচ্চিত্রের জন্য ফিল্মফেয়ার ও বিএফজেএ কর্তৃক সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার পান।[৮] ১৯৭৪ সালে ২৭ ডাউনের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিশেষ স্মারক পান।[৯] ১৯৭৬ সালে তপস্যা চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের কারণে ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৪ সালে পরমা চলচ্চিত্রের জন্য বিএফজেএ সেরা অভিনেত্রী মনোনীত হন। ১৯৮৯ সালে ফিল্মফেয়ার সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী ও ২০০৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর মর্যাদা লাভ করেন তিনি। ২০০৩ সালে ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মশ্রী পদকে ভূষিত হন।[১০]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Biography for Rakhee Gulzar" 
  2. "Lounge: Rakhee Gulzar"Mint (newspaper)। ১১ আগস্ট ২০০৭। 
  3. Analysis: I celebrate Independence Day, Not my Birthday: Rakhee ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৫ নভেম্বর ২০১০ তারিখে Boloji.com, 2007.
  4. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১১ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০১৬ 
  5. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১১ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০১৬ 
  6. "Women directors scale Bollywood"BBC News। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০২। 
  7. "On the Shelf"Indian Express। ১১ জানুয়ারি ২০০৪। 
  8. "37th Annual BFJA Awards"BFJA। ২০০৮-০৪-২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০২-২৩ 
  9. "21st National Film Awards" (PDF)। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০১৬ 
  10. "Padma Awards" (PDF)। Ministry of Home Affairs, Government of India। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২১, ২০১৫ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা