মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম

বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ

প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম একজন বাংলাদেশী ইতিহাসবিদ, অধ্যাপক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় উপাচার্য হিসেবে ২৮ ডিসেম্বর ১৯৮৮ থেকে ১৭ জুন ১৯৯১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।[১][২] তিনি বাংলাপিডিয়ার অন্যতম প্রকল্প পরিচালক ও সম্পাদক ছিলেন[৩] এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।[৪][৫] তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে গাজীপুর থেকে পুনরায় কুষ্টিয়ায় স্থানান্তরে অবদান রাখেন।

ড. প্রফেসর

মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম
দ্বিতীয় উপাচার্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ
কাজের মেয়াদ
২৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৮ – ১৭ জুন ১৯৯১
পূর্বসূরীএ. এন. এম মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী
উত্তরসূরীমুহাম্মাদ আব্দুল হামিদ
বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট
কাজের মেয়াদ
২০০৮ – ২০১১
পূর্বসূরীএমাজউদ্দিন আহমেদ
উত্তরসূরীনজরুল ইসলাম
কাজের মেয়াদ
১৯৯৪ – ১৯৯৫
পূর্বসূরীএ কে এম নুরুল ইসলাম
উত্তরসূরীওয়াকিল আহমদ
ব্যক্তিগত বিবরণ
জাতীয়তাবাংলাদেশী
সন্তান
  • ড. আশা ইসলাম নাঈম (ঢাবি অধ্যাপক)
  • সাবিহা
  • শবনম শেহনাজ চৌধুরী দীপা
পেশাশিক্ষাবিদ, অধ্যাপক, ইবি উপাচার্য

শিক্ষাজীবনসম্পাদনা

মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এবং তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ তে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান দখল করে স্বর্ণপদক লাভ করেন।

কর্মজীবনসম্পাদনা

তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। পরে ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হলে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন।[১] এরপরে তিনি ১৯৮৮ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের উপাচার্য পদে দায়িত্ব লাভ করেন।[১]

বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৪ বছর শিক্ষকতা করার সময়, তিনি বাংলায় স্থায়ী বন্দোবস্ত (১৯৭৮), দ্য বেঙ্গল ল্যান্ড টেনার (১৯৯০) এবং বাংলাদেশের পল্লী ইতিহাস (১৯৯০) বইয়ের মতো একাধিক বড় আকারের রচনা লিখেন। তিনি ৪ খণ্ডের বাংলাদেশ জেলা রেকর্ড জরিপও সম্পাদনা করেছিলেন।

ইবিতে নিয়োগ প্রাপ্তিসম্পাদনা

তিনি ১ম উপাচার্য মমতাজ উদ্দিনের অপসারণের পরে ১৯৮৮ সালের ২৮ ডিসেম্বরে নিয়োগ প্রাপ্ত হোন, তখন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুরে ছিলো। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ায় পুনরায় স্থানান্তরের আন্দোলনে সমর্থন দেন এবং কুষ্টিয়ায় নিয়ে আসার আপ্রান চেষ্টা করতে থাকেন।[১] সেই সময়ে ৯০ শতাংশ শিক্ষক স্থানান্তরের বিরোধিতা করে জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদের আয়োজন। অবশেষে ১৯৯০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কুষ্টিয়াতে স্থানান্তরে সক্ষম হোন।[১]

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুঈদ রহমান তার অবদান স্বীকার করে বলেন,

১৯৯১ সালের দিকে ক্যাম্পাসে উপাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের অবমুল্যয়নের অভিযোগ উঠে, উক্ত সময় ছাত্রদলের আন্দোলনের মুখে পরে ও বিভিন্ন দেশীয় চাপে উপাচার্যের পদ থেকে সরে অব্যাহতি নিতে হয়।[৬] তিনি ১৯৯১ সালের ১৭ জুন উপাচার্যের পদ থেকে অপসারিত হন।[১][২]

বাংলাপিডিয়া ও এশিয়াটিক সোসাইটিসম্পাদনা

২০০২ সালে, তার সম্পাদনায় বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে দশ খন্ডের বাংলাপিডিয়া প্রকাশিত হয়।

১৯৯১ সালে, তার সম্পাদনায় এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসের তিনটি খণ্ড (রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক) প্রকাশিত হয়। সোসাইটির পক্ষে তিনি শিশুদের বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সমীক্ষায় কাজ করছেন। তিনি সোসাইটি এবং বাংলাপিডিয়া ট্রাস্টের জাতীয় অনলাইন জীবনী প্রকল্পের দায়িত্বেও রয়েছেন।

অবদানসম্পাদনা

মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের জ্যৈষ্ঠ অধ্যাপক ছিলেন। তার অবদান ও কৃতিত্বকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাগার, লেকচার হল, রিসার্চ সেন্টার ও পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে।[৭]

সিরাজুল ইসলাম কম্পিউটার ল্যাব

সিরাজুল ইসলাম কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা হয় ২০১৮ সালের মাঝামাঝিতে। সিরাজুল ইসলামের পরিবারের আর্থিক সহয়িতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রদের জন্য নির্মিত হয় এই কম্পিউটার ল্যাব। ল্যাবটি বর্তমানে আরো আধুনিকরন করা হয়েছে।[৪][৭]

সিরাজুল ইসলাম লেকচার হল

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের কন্যা ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আশা ইসলাম নাঈমের আর্থিক সহায়তায় নির্মিত হয় সিরাজুল ইসলাম লেকচার হল। এই হলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।[৩]

জার্নাল অব সিরাজুল হক সেন্টার ফর ইসলামিক রিসার্চ

মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলামের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ইসলামিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ, দেশের বরন্য ব্যক্তিরা এই জার্নালে লেখালিখির সুযোগ পেয়ে থাকেন।[৮]

মির্জা বানু এন্ড সিরাজুল ইসলাম এন্ডাউমেন্ট ফান্ড অ্যাওয়ার্ড

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত পুরষ্কার এটি। যারা ইতিহাস বিষয়ে মৌলিক গবেষণা করে অনন্য অবদান রেখে থাকেন, তাদের এই পুরষ্কার দেওয়া হয়ে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগ এই পুরষ্কার নিয়ন্ত্রন করে থাকেন।[৯]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কোন পথে পরিচালিত হবে"যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৯ 
  2. প্রতিবেদক, নিজস্ব। "১১ উপাচার্যের কেউই মেয়াদ শেষ করতে পারেননি"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৯ 
  3. "ঢাবি ইতিহাস বিভাগে 'সিরাজুল ইসলাম লেকচার হল' উদ্বোধন"www.risingbd.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৯ 
  4. "ঢাবিতে সিরাজুল ইসলাম কম্পিউটার ল্যাব উদ্বোধন - দৈনিকশিক্ষা"দৈনিকশিক্ষা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৯ 
  5. "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বার্তা" (PDF) 
  6. EducationBangla.com। "ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অসন্তোষ কেন"EducationBangla.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৯ 
  7. "ঢাবি-এ 'অধ্যাপক ড. মুহম্মদ সিরাজুল ইসলাম কম্পিউটার ল্যাব' উদ্বোধন"www.du.ac.bd। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৯ 
  8. "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের দায়িত্ব গ্রহণ – Dhaka University Alumni Association"duaa-bd.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৯ 
  9. "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্তা" (PDF)