মীনা কুমারী

ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী
(মিনা কুমারী থেকে পুনর্নির্দেশিত)

মীনা কুমারী[১] জন্ম: ১ আগস্ট, ১৯৩২ মৃত্যু: ৩১ মার্চ, ১৯৭২), জন্ম নাম মেহজাবিন বানু হলেন একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও কবি। তার পিতার নাম আলী বক্স। মূলত পিতার ইচ্ছাতেই তিনি অভিনয়ে প্রবেশ করেন। ১৯৩৯ সালে সাত বছর বয়সে ‘ফারজানদ-এ-ওয়াতন’ চলচ্চিত্রে বেবি মীনা নাম নিয়ে তিনি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। কামাল আমরোহী পরিচালিত পাকিজা তার জীবনের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র। ছবিটি তার মৃত্যুর তিন সপ্তাহ আগে মুক্তি পায়।

মীনা কুমারী
জন্ম
মেহজাবিন বানু

(১৯৩৩-০৮-০১)১ আগস্ট ১৯৩৩
বোম্বে, বোম্বে প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু৩১ মার্চ ১৯৭২(1972-03-31) (বয়স ৩৮)
অন্যান্য নামট্র্যাজেডি কুইন
পেশাঅভিনেত্রী,মহিলা কবি,গায়িকা, কস্টিউম ডিজাইনার
কর্মজীবন১৯৩৯ - ১৯৭২
দাম্পত্য সঙ্গীকামাল আমরোহী (১৯৫২ - ১৯৭২)
পিতা-মাতাআলী বক্স (পিতা)
ইকবাল বেগম (মাতা)

মীনা কুমারী ১৯৪৯ সালে বীর ঘাতক ছবিতে প্রথম নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৫২ সালে বেজু বাওরা চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি নায়িকা হিসেবে পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯৩৯ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তার অভিনয় জীবনে তিনি ৯০ টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তিনি ১৯৭২ সালের ৩১ মার্চ লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।[২]

পারিবারিক ইতিহাস সম্পাদনা

মীনা কুমারীর বাবা ছিলেন মাস্টার আলী বক্স নামে একজন সুন্নি মুসলিম যিনি ভেরা (বর্তমানে পাকিস্তানে) থেকে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। মীনা কুমারীর পিতা তিনি [৩] পার্সি থিয়েটার এর একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন, হারমোনিয়াম বাজিয়েছিলেন, উর্দু কবিতা লিখেছেন, সঙ্গীত রচনা করেছেন এবং কয়েকটি চলচ্চিত্রে ছোট ছোট ভূমিকাও অভিনয় করেছেন।[৪] মীনা কুমারীর মা ইকবাল বেগম, যার আসল নাম ছিল প্রভাবতী দেবী, ছিলেন একজন খ্রিস্টান, যিনি তার বিয়ের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। ইকবাল বেগম ছিলেন আলী বক্সের দ্বিতীয় স্ত্রী। আলী বক্সের সাথে সাক্ষাত ও বিয়ে করার আগে, তিনি একজন মঞ্চ অভিনেত্রী ছিলেন এবং বলা হয় যে তিনি [[বাংলার ঠাকুর পরিবারের সাথে সম্পর্কিত ছিলেন।]]।[৫]

জন্ম এবং শৈশব সম্পাদনা

১৯৩২ সালের ১ আগস্ট আলী বক্স এবং ইকবাল বেগমের কাছে কুমারী মাহজাবীন নামে জন্মগ্রহণ করেন। এটি একটি বড় হতাশা ছিল আলী বক্সের কাছে কারণ তিনি একটি পুত্র চেয়েছিলেন।[৬] তিনি ছিলেন দ্বিতীয় কন্যা এবং তার দুই বোন ছিল; বড়টির নাম খুরশীদ জুনিয়র এবং ছোটটির নাম মাহলিকা (মধু নামে পরিচিত, একজন প্রাক্তন শিশুশিল্পী অভিনেতাকে বিয়ে করেছিলেন। তার বাবা তার মায়ের প্রসবের জন্য ডাক্তারকে অর্থ প্রদান করতে পারেননি, তাই তিনি মীনাকে একটি অনাথ আশ্রমে রেখে যান, কিন্তু পরে তিনি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন।[৭] কয়েক ঘন্টা পরে এবং তার বাড়িতে ফিরে আসেন,[৮] কুমারী ফিল্ম কেরিয়ার করতে আগ্রহী ছিলেন না, বরং স্কুলে যেতেন। [৯]তা সত্ত্বেও, তার বাবা-মা তাকে কাজের সুযোগের জন্য ফিল্ম স্টুডিওতে নিয়ে যেতে শুরু করে। পরিচালক বিজয় ভাট ফিল্মে মাহজাবীনকে কাস্ট করেছিলেন এবং তার কাজের প্রথম দিনে, তাকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছিল ভারতীয় মুদ্রায় ২৫ টাকা।[১০] তিনি খুব অল্প বয়সেই বক্স পরিবারের উপার্জনকারী হয়ে ওঠেন। ১৯৬২ সালে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মীনা কুমারী ব্যাখ্যা করেছিলেন যে চার বছর বয়স থেকে তিনি তার বাবা-মাকে সমর্থন করেছিলেন তা তাকে অপরিসীম তৃপ্তি দিয়েছিল। তাকে একটি নিয়মিত স্কুলে ভর্তি করা হয়েছিল, কিন্তু কাজের চাপে ঘন ঘন তার পাঠ্যক্রম বাধাগ্রস্ত করেছিল। তিনি কোন অর্থপূর্ণ অর্থে স্কুলে যাননি, তাই তার শিক্ষা প্রাইভেট টিউশন এবং স্ব-শিক্ষা ছিল।

মীনা কুমারীর ব্যক্তিগত জীবন সম্পাদনা

মীনা কুমারীর ব্যক্তিগত জীবন ছিল দুঃখে ভরা। তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক কমল আমরোহীকে বিয়ে করেন। কমল ছিলেন তার চেয়ে ১৫ বছরের বড়। এদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। জীবনে অশান্তির কারণে তিনি অতিরিক্ত মদ্যপান করতে থাকেন ফলে লিভার সিরোসিস হয় মীনা কুমারীর। তাঁর মৃত্যুর পর হাসপাতালের বিল মেটানো যায়নি।১২

চলচ্চিত্রের তালিকা সম্পাদনা

মীনা কুমারী অভিনীত চলচ্চিত্রের তালিকা [১১]

  • গোমতী কি কিনারে (১৯৭২)
  • গঙ্গা
  • পাকিজা (১৯৭২)
  • দুশমন (১৯৭১)
  • মালতি
  • মেরা আপনা (১৯৭১)
  • আনন্দী দেবী
  • সীমা (১৯৭১)
  • জবাব (১৯৭০)
  • বিদ্যা
  • সাত ফিরে (১৯৭০)
  • অভিলাষ (১৯৬৮)
  • বাহা রোঁ কি মনজিল (১৯৬৮)
  • বহু বেগম (১৯৬৭)
  • চন্দন কা পালনা (১৯৬৭)
  • মাঝলি দিদি (১৯৬৭)
  • নূরজাহান (১৯৬৭)
  • পিঞ্জরে কি পানসী (১৯৬৬)
  • ফুল আওর পাত্থার (১৯৬৬)
  • ভিগি রাত (১৯৬৫)
  • সিআইডি (১৯৬৫)
  • কাজল (১৯৬৫)
  • পূর্নিমা (১৯৬৫)
  • চিত্রলেখা (১৯৬৪)
  • গজল (১৯৬৪)
  • সাঁজ আওর সাভেরা (১৯৬৪)
  • ম্যায়ঁ ভি লাড়কি হুঁ (১৯৬৪)
  • বেনাজির (১৯৬৪)
  • আকেলি মাত যাইয়ো (১৯৬৩)
  • দিল এক মন্দির (১৯৬৩)
  • কিনারে কিনারে (১৯৬৩)
  • আরতি (১৯৬২)
  • ম্যায় চুপ রাহুঙ্গা (১৯৬২)
 
সাহিব বিবি অউর গুলাম চলচ্চিত্রে ছোটি বহু চরিত্রে মিনা কুমারী (১৯৬২)
  • সাহিব বিবি অউর গুলাম (১৯৬২)
  • পেয়ার কা সাগর (১৯৬১)
  • জিন্দেগী আওর খোয়াব (১৯৬১)
  • বাহানা (১৯৬০)
  • কহিনূর (১৯৬০)
  • দিল আপনা আওর প্রীত পারাই (১৯৬০)
  • চিরাগ কাহাঁ রশনী কাহাঁ (১৯৫৯)
  • জাগির (১৯৫৯)
  • মাধু (১৯৫৯)
  • সাত্তা বাজার (১৯৫৯)
  • শারারাত (১৯৫৯)
  • আর্ধাঙ্গিনী (১৯৫৯)
  • চান্দ (১৯৫৯)
  • ফোর ফেসেজ অফ ইন্ডিয়া (১৯৫৯)
  • ফারিস্তা (১৯৫৮)
  • সাভেরা (১৯৫৮)
  • ইয়াহুদি (১৯৫৮)
  • সাহারা (১৯৫৮)
  • মিস মেরী (১৯৫৭)
  • সারদা (১৯৫৭)
  • বন্ধন (১৯৫৬)
  • হালাকু (১৯৫৬)
  • নয়া আন্দাজ (১৯৫৬)
  • সাতরাঞ্জ (১৯৫৬)
  • এক- হি- রাস্তা (১৯৫৬)
  • মেম সাহেব (১৯৫৬)
  • আজাদ (১৯৫৫)
  • বান্দিশ (১৯৫৫)
  • আদিল- ই - জাহাঙ্গির (১৯৫৫)
  • রুখসানা (১৯৫৫)
  • চান্দনি চক (১৯৫৪)
  • ইলজাম (১৯৫৪)
  • পরিণীতা (১৯৫৩)
  • দানা পানি (১৯৫৩)
  • ফুটপাথ (১৯৫৩)
  • দো বিঘা জামিন (১৯৫৩)
  • দি ফিঁয়াসে (১৯৫৩)
  • আলাদিন এন্ড দি ওয়ান্ডারফুল ল্যাম্প (১৯৫২)
  • বেইজু বাওরা (১৯৫২)
  • তামাশা (১৯৫২)
  • হনুমান পাতাল বিজয় (১৯৫১)
  • লক্ষ্মী নারায়ণ (১৯৫১)
  • সানাম (১৯৫১)
  • আনমোল রতন (১৯৫০)
  • হামারা ঘর (১৯৫০)
  • প্রাউড (১৯৫০)
  • শ্রী গনেশ মাহিমা (১৯৫০)
  • বিছড়ে বালাম (১৯৪৮)
  • পিয়া ঘর আয়া (১৯৪৭)
  • বাচ্চো কা খেল (১৯৪৬)
  • দুনিয়া এক সারাই (১৯৪৬)
  • লাল হাভেলি (১৯৪৪)
  • প্রতিজ্ঞা (১৯৪৩)
  • গারীব (১৯৪২)
  • বাহেন (১৯৪১) (বেবী মিনা)
  • কাসৌটি (১৯৪১) (বেবী মিনা)
  • নয়ি রোশনী (১৯৪১)
  • এক হি ভুল (১৯৪০)
  • পূজা (১৯৪০)
  • লেদারফেস (১৯৩৯)

তথ্যসূত্র সম্পাদনা

১২.বিশেষ সংখ্যা আনন্দলোক, ডিসেম্বর ২০১৩, আনন্দবাজার পত্রিকা প্রকাশন, শতবর্ষে ভারতীয় সিনেমা পৃ:১২৪

গ্রন্থপঞ্জি সম্পাদনা

বহিঃসংযোগ সম্পাদনা