মধুচন্দ্রিমা (ইংরেজি: Honeymoon) হচ্ছে নব দম্পতিদের দ্বারা উদযাপিত এক প্রকার সময়। নব দম্পতি ছাড়াও সম্পর্কের একটি মধুর সময়কে উপলক্ষ করেও মধুচন্দ্রিমা উদযাপিত হতে পারে। বিয়েকে উদ্‌যাপন করাই এর উদ্দেশ্য। মধুচন্দ্রিমা প্রায় সময়ই হয় প্রেমময় ও উত্তেজনাপূর্ণ, এবং পশ্চিমে এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

মধুচন্দ্রিমায় একটি যুগল

ইতিহাসসম্পাদনা

মধুচন্দ্রিমার একটি প্রাচীন তথ্যসূত্রের মধ্যে আছে বাইবেলের একটি পঙ্‌ক্তি। দ্বিতীয় বিবরণ ২৪:৫

এর বঙ্গানুবাদ করলে দাঁড়ায়:

পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে সদ্য বিবাহিত দম্পতিদের ছুটি কাটাতে বেড়াতে যাবার ঐতিহ্যের সূচনা হয়েছিলো ১৯ শতকে গ্রেট ব্রিটেনে। এই ধারণাটি এসেছে ভারতীয় উপমহাদেশের ভারতীয় অভিজাতদের কাছ থেকে। সমাজের উচু পদের বা বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিকরা যে সকল আত্মীয়বর্গ বিবাহে উপস্থিত হতে পারেননি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে বিবাহপরবর্তী একটি ভ্রমণে বের হতেন। কিছু ক্ষেত্রে তা হতো বন্ধু ও পরিবারের সদস্য সহকারে।[২] এই প্রথা খুব শীঘ্রই ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পরে, এবং ১৮২০-এর দশকে ফ্রান্সে এর নাম হয়, ফরাসি: voyage à la façon anglaise (বাংলা: ইংরেজ ধরনের ভ্রমণ)।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটসম্পাদনা

বর্তমানে বিবাহ পরবর্তী একটি ঐতিহ্যগত অনুষ্ঠান হিসেবে মধুচন্দ্রিমা বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকম। ইউরোপে নব দম্পতিদের কাছে মধুচন্দ্রিমার গুরুত্ব অনেক বেশি, এবং মার্কিনীদের তুলনায় তাদের মধুচন্দ্রিমা উদ্‌যাপনে ভ্রমণের হারও বেশি। মধুচন্দ্রিমা উপলক্ষে ভ্রমণের হার সবচেয়ে বেশি জার্মানিতে। সেখানে প্রায় ৯১% নব দম্পতি বিয়ের পর মধুচন্দ্রিমা উদ্‌যাপন উপলক্ষে বেড়াতে যান।[৩]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "24:5"। The Bible (New International Version সংস্করণ)। Biblica, Inc। 
  2. Ginger Strand (২০০৮)। "Selling Sex in Honeymoon Heaven"The Believer  অজানা প্যারামিটার |month= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  3. honeywish (২০০৯), Honeymoon Study 2009, ১২ জুন ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা, সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০১০  অজানা প্যারামিটার |month= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)