ভিলহেলম ফ্রেডরিখ কুন (২৮ মার্চ ১৮৩৭ - ১০ জুন ১৯০০) একজন জার্মান শারীরবৃত্তবিদ ছিলেন। হামবুর্গে জন্মগ্রহণকারী কুন এনজাইম শব্দটি উদ্ভাবনের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বেশি পরিচিত।[১][২]

ভিলহেলম কুন
Wilhelm Friedrich Kühne (HeidICON 28859) (cropped).jpg
জন্ম(১৮৩৭-০৩-২৮)২৮ মার্চ ১৮৩৭
হামবুর্গের ফ্রি সিটি
মৃত্যু১০ জুন ১৯০০(1900-06-10) (বয়স ৬৩)
হাইডেলবার্গ, জার্মান সাম্রাজ্য
জাতীয়তাজার্মান
কর্মক্ষেত্রশারীরবৃত্ত, প্রাণরসায়ন
প্রতিষ্ঠানহুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বার্লিন
আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়
হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রাক্তন ছাত্রগটিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়
পিএইচডি উপদেষ্টারুডলফ ওয়াগনার
অন্যান্য 
শিক্ষায়তনিক উপদেষ্টা
ফ্রেডরিখ ভোলার
পিএইচডি ছাত্ররারাসেল চিটেনডেন
পরিচিতির কারণ"এনজাইম" শব্দ উদ্ভাবন করা
ট্রিপসিন আবিষ্কার

জীবনীসম্পাদনা

কুন ১৮৩৭ সালের ২৮ মার্চ হামবুর্গে জন্মগ্রহণ করেন। লুনেবার্গের জিমনেসিয়ামে (স্কুল) পড়াশুনার পর তিনি গটিঙেনে চলে আসেন, সেখানে রসায়নে ফ্রেডরিখ ভোলার এবং শারীরবৃত্ত বিষয়ে রুডল্ফ ওয়াগনার তাঁর শিক্ষক ছিলেন । ১৮৫৬ সালে স্নাতক সমাপ্ত করেন, তিনি বার্লিনের এমিল দু বোইস-রেইমন্ড, প্যারিসের ক্লদ বার্নার্ড এবং ভিয়েনার কেএফডব্লিউ লুডভিগ এবং ইডব্লিউ ভন ব্রুক সহ বিভিন্ন বিখ্যাত শারীরবৃত্তবিদের অধীনে অধ্যয়ন করেন।[৩]

১৮৬৩ এর শেষদিকে তাকে রুডল্ফ ভার্চোর অধীনে বার্লিনের প্যাথলজিকাল ল্যাবরেটরির রাসায়নিক বিভাগের দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়; ১৮৬৮ সালে তিনি আমস্টারডামের শারীরবৃত্ত বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন; এবং ১৮৭১ সালে তিনি হাইডেলবার্গে একই পদাধিকারে হারমান ভন হেলমহোল্টজের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য নির্বাচিত হন, সেখানেই তিনি ১৯০০ সালের ১৯ জুন মারা যান।[৩]

কর্মসম্পাদনা

কুনের মূল কাজ দুটি প্রধান গ্রুপে অধিকৃত ছিল। একটি হলো স্নায়ু এবং পেশীর শারীরতত্ত, যা তাঁর জীবনের প্রথম বছরগুলি জুড়ে ছিল এবং অপরটি হলো পরিপাকের রসায়ন যা তিনি বার্লিনে ভার্চোর সাথে থাকার সময় গবেষণা শুরু করেছিলেন।[৩] ১৮৭৬ সালে তিনি প্রোটিন-পরিপাককারী উৎসেচক ট্রিপসিন আবিষ্কার করেন।[৪]

তিনি দৃষ্টিশক্তি এবং আলোর প্রভাবে অক্ষিপটে ঘটে যাওয়া রাসায়নিক পরিবর্তন সম্পর্কে গবেষণার জন্যও পরিচিত ছিলেন। ১৮৭৬ সালে ফ্রাঞ্জ ক্রিশ্চিয়ান বল বর্ণিত "চাক্ষুষ বেগুনি" (বা রডোপসিন) ব্যবহার করে তিনি দর্শনের একটি আলোক-রাসায়নিক তত্ত্বের ভিত্তি তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন, তবে তিনি কম তীব্রতার আলোকে দৃষ্টি সংযোগের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন যদিও সবচেয়ে স্বতন্ত্র দৃষ্টির অক্ষিপট অঞ্চল থেকে এর অনুপস্থিতি তত্ত্বের সম্পূর্ণতা থেকে সরে যায় এবং এর সাধারণ গ্রহণযোগ্যতা বাতিল হয়।[৩] কুন চোখের রডোপসিনের অবস্থা ঠিক করার জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়া প্রয়োগ করে খরগোশের রেটিনা থেকে প্রতিরূপ তৈরি করার অপটোগ্রাফি প্রক্রিয়ারও প্রবর্তন করেছিলেন।[৫] পরবর্তীতে কুনে তার কৌশলটির সাহায্যে জার্মানির ব্রুশাল এ দোষী সাব্যস্ত হত্যাকারীর চোখে এটি চেষ্টা করেছিলেন তবে ফলাফল অমীমাংসিত থেকে যায়।[৬][৭]

তিনি ১৮৯৮ সালে রয়েল সুইডিশ একাডেমি অফ সায়েন্সেসের সদস্য নির্বাচিত হন।

কয়েকজন উল্লেখযোগ্য ছাত্রসম্পাদনা

ফিলিপাইনের শহীদ ও জাতীয় নায়ক হোসে রিজাল (১৮৬১-১৮৯৬) ১৮৮৬ সালে হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক কুনের অধীনে শারীরবৃত্ত বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেন।

ইডা হেনরিয়েটা হাইডি (১৮৫৭–-১৯৪৫) স্ট্রাসবুর্গের অধ্যাপক আলেকজান্ডার গোটের সুপারিশে হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে কুনের অধীনে শারীরবৃত্ত পড়তে চেয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় তাকে গ্রহণ করেছিল, কিন্তু ভিলহেলম কুন তাকে শিক্ষা এবং গবেষণাগারে অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিলেন। তিনি বলেন যে সে কখনও তাঁর ক্লাসে "স্কার্ট" ব্যবহার করতে পারবে না। যাহা হউক কোন এক সহকর্মী তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে কোর্স শেষে যদি তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন তবে তিনি তাকে ডিগ্রি দেবেন কিনা, তিনি মজা করে জবাব দিয়েছিলেন যে তিনি পাবেন। তাই ছয়টি সেমিস্টারেই তাকে কেবলমাত্র সহকারীদের নোট এবং ল্যাব স্কেচগুলি ব্যবহার করে শ্রেণিকক্ষ এবং হ্যান্ডস-অন ল্যাবরেটরি কার্যক্রম থেকে আলাদা ভাবে শারীরবৃত্ত অধ্যয়ন করতে হয়েছিল। অবশেষে কুনের একাডেমিক কমিটির চার ঘণ্টার মৌখিক পরীক্ষায় তার যোগ্যতা প্রতিপন্ন করে। সর্বোচ্চ সম্মান "সুমা কাম লাউড" ডিগ্রি যা কোনও নারী পায়নি, তাই কুন একটি নতুন বাক্য উদ্ভাবন করেছিলেন: "মুলতা কাম লাউড সুপেরাভিট" ইংরেজিতে এর অর্থ দাড়ায় "তিনি অনেক প্রশংসা সহ জয় করেছেন।"

হাইডি ১৮৯৬ সালে হাইডেলবার্গে পিএইচডি সম্পন্ন করেন, এই ধরনের ডিগ্রি অর্জন করা তিনিই প্রথম নারী। কুন তাকে ইতালির নেপলসে নেপলস মেরিন বায়োলজিক্যাল ল্যাবরেটরিতে হাইডেলবার্গ-সমর্থিত গবেষণা কর্মসূচিতে স্থান দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছিলেন, সেখানে তিনি লালা গ্রন্থির প্রকৃতি এবং ক্রিয়াকলাপ নিয়ে অধ্যয়ন করেন। তিনি এই সংস্থার একজন আজীবন সদস্য ছিলেন এবং ১৮৯৭ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত এর সচিব ছিলেন।

টীকাসম্পাদনা

  1. Kühne 1877, পৃ. 190।
  2. Kühne (1877), p. 190: "Um Missverständnissen vorzubeugen und lästige Umschreibungen zu vermeiden schlägt Vortragender vor, die ungeformten oder nicht organisirten Fermente, deren Wirkung ohne Anwesenheit von Organismen und ausserhalb derselben erfolgen kann, als Enzyme zu bezeichnen."
    Translation : In order to avoid misunderstandings and cumbersome circumlocutions, the presenter proposes to designate as "enzymes" the unformed or not organized ferments, whose action can occur without the presence of organisms and outside of the same.
  3. Chisholm 1911, পৃ. 942।
  4. Kühne 1877, পৃ. 194–198।
  5. Daintith, John (2010): Biographical Encyclopedia of Scientists, Third Edition
  6. Lanska DJ: Optograms and criminology: science, news reporting, and fanciful novels. Prog Brain Res. 2013;205:55-84. doi: 10.1016/B978-0-444-63273-9.00004-6.
  7. Dingman M. Know Your Brain: Telencephalon. Neuroscientifically Challenged. http://www.neuroscientificallychallenged.com/blog/know-your-brain-telencephalon. Published July 7, 2017. Accessed April 8, 2019.

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

গুণাবলী:

  •   এই নিবন্ধটি একটি প্রকাশন থেকে অন্তর্ভুক্ত পাঠ্য যা বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনেচিসাম, হিউ, সম্পাদক (১৯১১)। "Kühne, Willy"। ব্রিটিশ বিশ্বকোষ15 (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা 942। [[বিষয়শ্রেণী:উইকিসংকলনের তথ্যসূত্রসহ ১৯১১ সালের এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা থেকে উইকিপিডিয়া নিবন্ধসমূহে একটি উদ্ধৃতি একত্রিত করা হয়েছে]]

বহিঃসংযোগসম্পাদনা