আন্তঃধর্ম গ্রন্থাগারসম্পাদনা

ক্যাথলিক পাদ্রি সম্প্রদায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হলেও, নটর ডেম কলেজ উদার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে থাকে।[১] সেই আদর্শকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতির চর্চা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফাদার গাঙ্গুলী ভবনের নিচতলায় একটি ইন্টারফেইথ লাইব্রেরি বা “আন্তঃধর্ম গ্রন্থাগার” স্থাপিত হয়। ২০০০ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারি যিশুর জন্মের দ্বিসহস্রবর্ষপূর্তি উপলক্ষে নটর ডেম কলেজ, ঢাকা, ক্যাফোডকারিতাস বাংলাদেশের সম্মিলিত উদ্যোগে এই গ্রন্থাগারটি স্থাপিত হয়। প্রধান অতিথি অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ছাড়াও বাংলাদেশের প্রধান চারটি ধর্মের (ইসলাম ধর্ম, হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্মখ্রিষ্টধর্ম) ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা গ্রন্থাগারটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজ নিজ ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থাবলি এই গ্রন্থাগারে দান করেন। এই গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল দুইটি; প্রথমত, ধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের চারটি প্রধান ধর্মের মূল আধ্যাত্মিকতার বাণী সম্পর্কে পড়াশোনার জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।[১]

পুরস্কার ও সম্মাননাসম্পাদনা

নটর ডেম কলেজ পরিদর্শনে তৎকালীন পূর্ববাংলার গভর্নর এ কে ফজলুল হক
নটর ডেম কলেজে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে অধ্যক্ষ হেমন্ত পিউস রোজারিও’র পদক গ্রহণ

নটর ডেম কলেজ এ যাবৎ চারবার (১৯৫৯, ১৯৮৮, ১৯৯২, ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে) জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। পাকিস্তান আমলে ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষায় প্রশংসনীয় সাফল্য লাভের জন্য প্রতিষ্ঠানটি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৫২ থেকে ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত একটানা সাতবার প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে।[২] দেশ স্বাধীনের পর শিক্ষা বিস্তারের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৮, ১৯৯২ ও ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পায়। ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে এই কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক সুশান্ত কুমার সরকারকে ও ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে জীববিজ্ঞান বিভাগের গাজী আজমলকে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষক হিসাবে পুরস্কৃত করা হয়।[৩][৪] পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যাপক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে চ্যানেল আই এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন আয়োজিত প্রকৃতি মেলায় প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন অধ্যক্ষ হেমন্ত পিউস রোজারিওকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।[৫] ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে টোকিও আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে নটর ডেম কলেজের অধ্যক্ষ হেমন্ত পিউস রোজারিও বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যান।[৬] ২০০০ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ থেকে ২৫ অক্টোবর নেপালের কাঠমান্ডুতে এশিয়া রিজিওনাল গ্লোব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেনিং ওয়ার্কশপ এ এই প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন সহকারী অধ্যাপক অমল কৃষ্ণ বণিক বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদলের একজন সদস্য হিসেবে অংশ নেন এবং সেবছর থেকে বাংলাদেশ গ্লোব প্রোগ্রামের ৯৫ তম দেশ হিসেবে কাজ শুরু করে। এ উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য শিক্ষক অমল কৃষ্ণ বণিক বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রশংসিত হন। তাঁর উদ্যোগে বাংলাদেশে নটর ডেম কলেজেই প্রথম গ্লোবের কার্যক্রম শুরু হয়।[৭]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. গিলেস্পি, চার্লস পি; পিশোতো, জোসেফ এস (২০০১)। দ্য স্পিরিট অব নটর ডেম: এ হিস্ট্রি অব নটর ডেম কলেজ : ঢাকা, বাংলাদেশ, ১৯৪৯–২০০০ (ইংরেজি ভাষায়)। ঢাকা: প্রোভিনশিয়াল হাউস। ওসিএলসি 51547028 
  2. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; বাংলাপিডিয়া নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  3. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; ব্লু অ্যান্ড গোল্ড নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  4. জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি; গাজী আজমল, গাজী আসমত; ষষ্ঠ রঙিন সংস্করণ, জুন ২০১৯, গাজী পাবলিশার্স, ঢাকা
  5. "চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে প্রকৃতি মেলা | বাংলাদেশ প্রতিদিন"দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন। ২৮ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জুন ২৭, ২০২০ 
  6. "11 Bangladeshi school delegates visits TIU - Eduvista" [১১ বাংলাদেশি স্কুল প্রতিনিধির টিআইইউ পরিদর্শন]। দ্য ডেইলি অবজার্ভার (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-১০ 
  7. কস্তা, বেঞ্জামিন (জানুয়ারি, ২০১১)। "শিক্ষা বিস্তারে নটর ডেম কলেজের অবদান"। স্মৃতির কাননে নটর ডেম কলেজের ছাত্র: ১৬৭।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)