বিধান বোর্ড (ইংরেজি: Legislative Council, legislative board) ভারতে রাজ্য আইনসভার একটি অঙ্গ। ভারতের ছ'টি রাজ্যে (উত্তরপ্রদেশ, বিহার, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানাঅন্ধ্রপ্রদেশ) বিধান বোর্ড রয়েছে। বিধান বোর্ড দ্বিকক্ষীয় রাজ্য আইনসভার উচ্চকক্ষ হিসেবে কাজ করে। এই কক্ষের সদস্যরা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন। এটি একটি স্থায়ী কক্ষ, কারণ এই কক্ষ সুপ্ত করা যায়।

বিধান বোর্ড সদস্যরা ছয় বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হন। প্রতি দুই বছর অন্তর দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অবসর নেন। কেবলমাত্র ভারতীয় নাগরিক, কমপক্ষে ৩০ বছর বয়সী, বিকৃতমস্তিষ্ক বা দেউলিয়া নন এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দারাই বিধান বোর্ডে নির্বাচিত হতে পারেন। বিধান বোর্ডের আকার সংশ্লিষ্ট রাজ্য বিধানসভার এক-তৃতীয়াংশের বেশি অথবা ৪০ জনের কম হতে পারে না। তবে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের বিধান বোর্ডের সদস্য সংখ্যা ৩৬ (সংসদের বিশেষ আইন বলে)। বিধান বোর্ড সদস্যগণ নিম্নলিখিত পন্থায় নির্বাচিত হন:

  • এক-তৃতীয়াংশ সদস্য নির্বাচিত হন পৌরসভা, পুরসভা,ত্রিস্তরীয় চৌকিদারি পঞ্চায়েতজেলা পরিষদের মতো স্থানীয় স্বায়ত্বশাসন সংস্থাগুলি থেকে।
  • এক-তৃতীয়াংশ সদস্য নির্বাচিত হন বিধানসভার সদস্যদের ভোটে বিধানসভার সদস্য নন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে।
  • এক-দ্বাদশাংশ সদস্য নির্বাচিত হন একটানা তিন বছর রাজ্যে বাসিন্দা স্নাতকদের মধ্যে থেকে।
  • এক-দ্বাদশাংশ সদস্য নির্বাচিত হন কেন্দ্রীয় কলেজপ্রাদেশিক বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যূন মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে অন্তত তিন বছর শিক্ষকতাকারী ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে।
  • এক-ষষ্ঠাংশ সদস্য মনোনীত হন রাজ্যপাল/মহকুমাপতি কর্তৃক সাহিত্য, বিজ্ঞান, কলা, সমবায় আন্দোলন ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদাতাদের মধ্যে থেকে।

২০০৭ সালের এপ্রিল মাসে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে বিধান বোর্ড পুনঃস্থাপন ও পুনর্গঠন করা হয়েছে। যদিও রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তেলুগু দেশম পার্টি জানিয়েছে, ক্ষমতায় এলে তারা আবার বিধান বোর্ড বিলুপ্ত করবে। পাঞ্জাবে অকালি দল-বিজেপি জোট ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিং বাদল বিধান বোর্ড পুনরুজ্জীবিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গেও তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধান বোর্ড আবার চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।কিন্তু তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

আরো দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা