বানৌজা নিশান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি দুর্জয় শ্রেণির ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী বৃহৎ টহল জাহাজ। জাহাজটি এই শ্রেণির চতুর্থ জাহাজ। এটি ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাথে যুক্ত আছে।

ইতিহাস
বাংলাদেশ
নাম: বানৌজা নিশান
নির্মাণাদেশ: ৩০ জুন ২০১৪
নির্মাতা: খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড
নির্মাণের সময়: ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫[১]
অভিষেক: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬[২]
কমিশন লাভ: ৮ নভেম্বর ২০১৭[৩]
শনাক্তকরণ: পরিচিতি সংখ্যাঃ পি ৮১৫
অবস্থা: সক্রিয়
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
প্রকার ও শ্রেণী: দুর্জয়–শ্রেণির টহল জাহাজ
ওজন: ৬৪৮ টন
দৈর্ঘ্য: ৬৪.২ মি (২১১ ফু)
প্রস্থ: ৯ মি (৩০ ফু)
গভীরতা: ৫.২৫ মি (১৭.২ ফু)
প্রচালনশক্তি:
  • ২ x এসইএমটি পিয়েলস্টিক ডিজেল ইঞ্জিন
  • ২ x শ্যাফট
গতিবেগ: ২৫ নট (৪৬ কিমি/ঘ)
সীমা: ২,০০০ নটিক্যাল মাইল (৩,৭০০ কিমি; ২,৩০০ মা)
সহনশীলতা: ১৫ দিন
লোকবল: ৭০ জন
সেন্সর এবং
কার্যপদ্ধতি:
  • ভিশন মাস্টার সামুদ্রিক মানচিত্র প্রস্তুতকারী রাডার
  • জেএমএ ৩৩৩৬ এক্স-ব্যান্ড নৌচালনা রাডার
  • এসআর৪৭এজি সমুদ্রপৃষ্ঠ এবং আকাশ অনুসন্ধান রাডার
  • টিআর৪৭সি অনুসরণ রাডার
  • ইএসএস-২বি সোনার
রণসজ্জা:
  • ১ x এনজি ১৬-১ ৭৬ মিমি কামান
  • ১ x সিএস/এএন২ ৩০ মিমি কামান
  • ২ x ৩ ইটি-৫২সি টর্পেডো

নকশাসম্পাদনা

বানৌজা নিশান দৈর্ঘ্যে ৬৪.২ মিটার (২১১ ফু) প্রস্থে ৯ মিটার (৩০ ফু) এবং গভীরতায় ৫.২৫ মিটার (১৭.২ ফু) এবং ওজনে ৬৪৮ টন। জাহাজটির গলুই স্ফীতাকার হওয়ার কারণে এটি উত্তাল সমুদ্রেও স্থিতিশীল থাকতে পারে। জাহাজটিতে চলাচলের জন্য দুইটি শ্যাফট যুক্ত দুইটি এসইএমটি পিয়েলস্টিক ডিজেল ইঞ্জিন রয়েছে। জাহাজটির সর্বোচ্চ গতি ২৫ নট (৪৬ কিমি/ঘ; ২৯ মা/ঘ) এবং সর্বোচ্চ পাল্লা ২,০০০ নটিক্যাল মাইল (৩,৭০০ কিমি; ২,৩০০ মা)। জাহাজটি ৭০ জন সৈন্য নিয়ে একটানা ১৫ দিন সমুদ্রে থাকতে পারে। এই জাহাজটি মূলত ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী অভিযানে ব্যবহৃত হয়।[৪]

অস্ত্রসজ্জাসম্পাদনা

এই জাহাজটিতে প্রধান অস্ত্র হিসেবে রয়েছে একটি এনজি ১৬-১ ৭৬ মিমি কামান । এছারাও জাহাজটি একটি সিএস/এএন২ ৩০ মিমি কামান বহন করে যা বিমান বিধ্বংসী অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী অস্ত্র হিসেবে রয়েছে ছয়টি ইটি-৫২সি ৩২৪ মিমি টর্পেডো।[৪]

ইলেকট্রনিক্সসম্পাদনা

জাহাজের প্রধান রাডার হিসেবে আছে একটি জাপানি জেএমএ ৩৩৩৬ এক্স-ব্যান্ড নৌচালনা রাডার এবং একটি চীনা এসআর৪৭এজি সমুদ্রপৃষ্ঠ এবং আকাশ অনুসন্ধান রাডার। নৌচালনা রাডারটিকে সাহায্য করার জন্য রয়েছে "ভিশন মাস্টার" সামুদ্রিক মানচিত্র প্রস্তুতকারী রাডার। জাহাজটি একটি টিআর৪৭সি রাডার বহন করে যা অনুসরণ রাডার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। জলনিম্নে সনাক্তকরণের জন্য জাহাজটির একটি ৮,০০০ মিটার (২৬,০০০ ফু) পাল্লার "ইএসএস-২বি সোনার রয়েছে।[৪]

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসুত্রসম্পাদনা

  1. "PM opens largest warship-building project at Khulna Shipyard"। BSS News। ২০১৭-১০-১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০১৭ 
  2. "Navy gets submarine tugboat, large patrol craft"। The Dhaka Tribune। ১৭ মার্চ ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০১৭ 
  3. "President Hamid commissions four new naval ships"। The Dhaka Tribune। ৮ নভেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  4. "2*Large Patrol Craft"। Khulna Shipyard। ২০১৭-০৯-১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭