বাথোরী

সুইডিশ হেভি মেটাল ব্যান্ড

বাথোরী একটি সুইডিশ হেভি মেটাল ব্যান্ড যা ১৯৮৩ সালে গঠিত হয়। তাদেরকে ব্ল্যাক মেটালভাইকিং মেটাল উভয় প্রকার সঙ্গীত ধারার পথ প্রদর্শক বলে মনে করা হয়। এই ব্যান্ডের নাম রাখা হয় কুখ্যাত হাঙ্গেরীয়ান কাউন্টেস এলিজাবেথ বাথোরীর নামে।

বাথোরী
উদ্ভবস্টকহোম, সুইডেন
ধরনব্ল্যাক মেটাল (১৯৮০-এর দশকে)
ভাইকিং মেটাল, থ্রাশ মেটাল (পরে)
কার্যকাল১৯৮৩-২০০৪
লেবেলব্ল্যাক মার্ক প্রোডাকশন, নয়েজ রেকর্ডস

প্রাথমিক কালসম্পাদনা

১৯৮৩ সালে স্টকহোমে ব্যান্ডটি গঠিত হয়। ১৭ বছর বয়সী কুয়োরথন নামের গিটারিস্ট এটা গঠন করেন যাতে যোগ দেয় ড্রামার ভান্স ও বেজিস্ট হানই। অনেক নাম পরিবর্তন করার পরে তাদের নাম ঠিক করা হয় বাথোরী নামে। ঐ বছরই তারা প্রথম রেকর্ডিং চুক্তি করে যখন কুয়োরথন সক্ষম হন টাইফোন গ্রামোফোনের বস, যিনি মূল ব্যক্তির বাবা তার সম্মতি পান ২টি গান স্ক্যান্ডিনেভিয়ান মেটাল অ্যাটাক নামের অ্যালবামে দিতে। ঐ ২টি গান অপ্রত্যাশিতভাবে শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শীঘ্রই টাইফোন গ্রামোফোন কুয়োরথনের সাথে যোগাযোগ করেন ও তাদের সাথে একটি পুরো অ্যালবাম রেকর্ডিং-এর চুক্তি করেন। যদিও ১৯৮২ সালে ভেনম ব্যান্ডের ব্ল্যাক মেটাল নামের অ্যালবামে ঐ ধারার গানের নাম প্রথম আসে, কিন্তু বাথোরী ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবামে শয়তানী গানের কথা ও অমানুষিক গলার স্বর প্রথম ধরা পড়ে যা ওই ধারাকে সংজ্ঞায়িত করে। অনেক ব্যান্ড কল্পনা করে যে ভেনম হচ্ছে তাদের অনুপ্রেরণা। ১৯৮৫ সালে কিক অ্যাস নামের ম্যাগাজিনের সাথে সাক্ষাৎকারে কুয়োরথন বলেন যে তাদের প্রথম অ্যালবাম বের হওয়ার পরে তিনি ভেনম ব্যান্ডের নাম শুনেছেন। তিনি আরও বলেন যে তিনি অনেক জনপ্রিয় হেভি মেটাল ব্যান্ডদের অপছন্দ করেন যেমন-আয়রন মেইডেনজুডাস প্রিস্ট। তিনি বলেন যে তাদের অনুপ্রেরণা ছিল ব্ল্যাক সাবাথ, মোটর হেডপাঙ্ক রক। বাথোরী ব্যান্ডের অ্যালবামগুলো ১৯৯০-এর দশকে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নরওয়েজিয়ান ব্ল্যাক মেটাল ব্যান্ডদের অনুপ্রেরণা ছিল।

ভাইকিং মেটালের বছরগুলোসম্পাদনা

হ্যামারহার্ট অ্যালবাম বের হওয়ার পরে বাথোরী ব্যান্ড তাদের গান কম আক্রমণাত্নক করা শুরু করে ও তাদের গানে ভাইকিংনর্স পুরাণের অনুপ্রেরণা দেখা যায়। আমেরিকান পাওয়ার মেটাল ব্যান্ড মানওয়ারের মাধ্যমে সামান্য অনুপ্রাণিত হওয়া এই অ্যালবাম মেটাল গানের ইতিহাসে একটি স্বরণযোগ্য অ্যালবাম। পরবর্তীতে টুইলাইট অব দ্যা গড ও ব্ল্যাড অন আইস অ্যালবাম দু’টিতেও একই ধারা বিদ্যমান থাকে। ১৯৯৪ সালে রিকুয়েম অ্যালবাম প্রকাশের সাথে ব্যান্ডটি তাদের গানের ধরন আবারো পরিবর্তন করে। এই সময়ে তারা রেট্রো থ্রাশ জাতের গানের দিকে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে সমালোচকরা বলেন যে বাথোরী ব্যান্ড ছিল যথেচ্ছাচারী তাদের গানের ধারার ব্যাপারে। নরডল্যান্ড অ্যালবাম প্রকাশের মাধ্যমে ২০০২ ও ২০০৩ সালে ব্যান্ডটি আবারও ভাইকিং মেটাল ধারার গানে ফিরে আসে। ২০০৪ সালের জুন মাসে কুয়োরথনকে তার বাসায় মৃত হিসেবে পাওয়া যায়, সম্ভবত হার্ট অ্যাটাকের কারণে। তিনি আগেও হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০০৬ সালের ৩রা জুন ব্ল্যাক মার্ক রেকর্ডস কুয়োরথনকে উৎসর্গ করে একটি বক্স সেট প্রকাশ করে যাতে ছিল ৩টি সিডি, ১৭৬ পৃষ্ঠার বুকলেট ও একটি ডিভিডি যাতে ছিল তার দীর্ঘ মিউজিক ভিডিও ‘ওয়ান রোড টু আসা বে”, একটি ইন্টারভিউ, কয়েকটি দুর্লভ প্রমো ফুটেজ ও একটি পোস্টার। বেশ কিছু ব্ল্যাক মেটাল ব্যান্ড শিল্পীরা তাকে উৎসর্গ করে অযালবাম বের করে তাদের মধ্যে একটি হলো ইন কন্সপাইরেসি উইথ সাটানঃ আ ট্রিবিউট টু বাথোরী।

ডিস্কোগ্রাফিসম্পাদনা

  • বাথোরী (১৯৮৪)
  • দ্যা রিটার্ন অব ডার্কনেস এ্যান্ড ইভিল (১৯৮৫)
  • আন্ডার দ্যা সাইন অব ব্ল্যাক মার্ক (১৯৮৭)
  • ব্ল্যাড ফায়ার ডেথ (১৯৮৮)
  • হ্যামারহার্ট (১৯৯০)
  • টুইলাইট অব দ্যা গড (১৯৯১)
  • রিকুয়েম (১৯৯৪)
  • ওক্টাগন (১৯৯৫)
  • ব্ল্যাড অন আইস (১৯৯৬)
  • ডেসট্রয়ার অব ওয়ার্ল্ডস (২০০১)
  • নর্ডল্যান্ড ১ (২০০২)
  • নরডল্যান্ড ২ (২০০৩)

মিউজিক ভিডিওসম্পাদনা

  • ওয়ান রোড টু আসা বে

চূড়ান্ত লাইন আপসম্পাদনা

  • কুয়োরথন (গিটার, ভোকাল, সঙ্গীত ও গানের কথা) (১৯৮৩-২০০৪)

সাবেক ব্যান্ড সদস্যসম্পাদনা

  • ফ্রেড্রিক হানই (বেজ গিটার)(১৯৮৩-১৯৮৪)
  • ভান্স ম্যাক বার্গার (ড্রামস) (১৯৮৩-১৯৮৪)
  • ভর্নথ (ড্রামস) (১৯৮৯-১৯৯১)
  • কোথার(বেজ গিটার) (১৯৮৯-১৯৯১)
  • বজর্ন ক্রিস্টেন্সেন (ভোকাল) (১৯৮৩ সালের প্রথমদিকে)

বহিঃসংযোগসম্পাদনা