বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য (২৩ নভেম্বর, ১৯০৭ - ১৫ আগস্ট, ১৯৭৮) যিনি বাণীকুমার নামেই পরিচিত, ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি বেতার সম্প্রচারক, গীতিকার, প্রযোজক ও নাট্য পরিচালক। তিনি কলকাতার বাসিন্দা ছিলেন। পঙ্কজকুমার মল্লিকবীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সমসাময়িক বাণীকুমার ১৯৩০-এর দশক থেকে সুদীর্ঘকাল অল ইন্ডিয়া রেডিওয় বেতারকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

কাব্যসরস্বতী

বাণীকুমার
বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য
জন্ম(১৯০৭-১১-২৩)২৩ নভেম্বর ১৯০৭
কানপুর গ্রাম, হাওড়া
মৃত্যু১৫ আগস্ট ১৯৭৮(1978-08-15) (বয়স ৭০)
জাতীয়তাভারতীয়
অন্যান্য নামবাণীকুমার (বেতারকেন্দ্রের ছদ্মনাম) ‘বৈ.না.ভ.’ , ‘আনন্দবর্ধন’, ‘বিষ্ণু-গুপ্ত’ (সাহিত্যক্ষেত্রের ছদ্মনাম)
পেশাবেতার সম্প্রচারক, গীতিকার, প্রযোজক, রচয়িতা
পরিচিতির কারণমহিষাসুরমর্দিনী (১৯৩১-বর্তমান)
পিতা-মাতা
  • বিধুভূষণ ভট্টাচার্য (পিতা)
  • অপর্ণা ভট্টাচার্য (মাতা)

বাণীকুমারের সর্বাধিক পরিচিতি তাঁর মহিষাসুরমর্দিনী নামক বেতার সঙ্গীতালেখ্যটির রচনা ও প্রবর্তনার জন্য। ১৯৩১ সাল থেকে অদ্যাবধি মহালয়ার দিন ভোর চারটের সময় কলকাতার আকাশবাণী থেকে এই অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হয়। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র এই অনুষ্ঠানের ভাষ্য ও শ্লোকপাঠ করেছেন।[১][২]

জন্ম ও বাল্যকালসম্পাদনা

বাণীকুমারের পিতৃদত্ত নাম বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য। তিনি ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ নভেম্বর হাওড়ার কানপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত ও ইতিহাসবিদ বিধুভূষণ ভট্টাচার্য এবং মা অপর্ণা ভট্টাচার্য। তাঁদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন বাণীকুমার। তাঁদের আদি নিবাস ছিল হুগলির আঁটপুরে।[৩]

শিক্ষাজীবনসম্পাদনা

বাণীকুমার হাওড়া জেলা বিদ্যালয়ে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণ করেন। সেখানে শিক্ষক তথা কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগ্রহে কাবিরচনায় তিনি মনোনিবেশ করেন। এরপর প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে তিনি ইংরেজিতে স্নাতক হন। তাঁর পিতা ও পিতামহের সংস্কৃতে জ্ঞান থাকায় তিনিও সংস্কৃত বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং ‘কাব্যসরস্বতী’ উপাধি পান।[৪]

কর্মজীবনসম্পাদনা

সাংসারিক চাপে পড়াশোনা বেশিদূর না করতে পারায় তিনি টাঁকশালে চাকরি করা শুরু করেন। স্মৃষ্টিশীল মননের অধিকারী হওয়ায় ১৯২৭খ্রিস্টাব্দে ১ নম্বর গার্স্টিন প্লেসে এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে কলকাতা বেতারকেন্দ্র স্থাপিত হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে বেতারকেন্দ্রে যোগ দেন। তৎকালীন সময়ে বেতারকেন্দ্রের ভারতীয় অনুষ্ঠান বিভাগের অধিকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ মজুমদারের আগ্রহে বেতারকেন্দ্র যোগদান করেন রাইচাঁদ বড়াল, পঙ্কজকুমার মল্লিক, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র প্রমুখ শিল্পী। সেখানেই রাইটার স্টাফ আর্টিস্ট হয়ে বৈদ্যনাথ কাজে যোগদান করেন এবং ‘বাণীকুমার’ নামে তাঁর বেতার জীবন শুরু করেন।[৫]

মহিষাসুরমর্দিনী বেতার অনুষ্ঠানের রচয়িতা হিসেবে তিনি সর্বাধিক পরিচিত। তাঁর রচিত কবিতা গুলি হল চিত্রলেখা, বিদুষী, জাগৃহী, মরু-মায়া ইত্যাদি। এছাড়াও রাজপুত্রনাটকে এবং ‘ভাগ্যচক্র’, ‘দেনা-পাওনা’, ‘রূপলেখা’ ও ‘দেবদাস’ ছবিতে বাণীকুমার রচিত গান গাওয়া হয়েছে। তিনি বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য – ‘সন্তান’, ‘সপ্তর্ষি’, ‘গীতবল্লকী’, ‘কথা-কথালি’, ‘মহিষাসুরমর্দিনী’, ‘রায়বাঘিনী’, ‘হাওড়া হুগলীর ইতিহাস’, ‘স্বরলিপিকা’ (২ খন্ড) ইত্যাদি। তিনি ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে কাজী নজরুল ইসলামের ‘ওমর খৈয়াম’-এর বেতার নাট্যরূপ রচনা করেছিলেন।[৬]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Mahalaya ushers in the Puja spirit The Times of India, TNN 19 September 2009.
  2. Hindustan year-book and who's who, Volume 60. Publisher: M. C. Sarkar., 1992. pp 227, Death date ref.
  3. "E0 (Bluetooth)"SpringerReference। Berlin/Heidelberg: Springer-Verlag। 
  4. khabor2014। "বাণীকুমার ও মহালয়ার ভোরে 'মহিষাসুরমর্দিনী' | KhaborOnline" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-৩০ 
  5. "শৈল দেবীর কণ্ঠে 'বাজল তোমার', হেমন্তের"Eisamay। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-৩০ 
  6. শতবর্ষে বাণীকুমার :  স্মরণে ও বরণে