বাংলাদেশ ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয়

বাংলাদেশ ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয় বাংলাদেশের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান যা ওয়াকফ সম্পতি বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে সরকারকে সহায়তা ও পরামর্শ প্রদানের নিয়োজিত।[১] এই প্রতিষ্ঠানটির সদরদপ্তর ঢাকার ইস্কাটনে অবস্থিত এবং এটি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত।[২] ইসলাম ধর্মীয় মতানুসারে, যেকোন ব্যক্তি স্থায়ীভাবে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দান করতে পারে এবং এই ওয়াকফকে সুষ্ঠভাবে এবং দাতার ইচ্ছানুসারে এর পরিচালনা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র দায়বদ্ধ।[৩][৪] দেশে বিপুল পরিমাণ ওয়াকফ সম্পত্তির রক্ষাণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ১৯৮৮ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়; যদিও ১৯৬২ সালেই এদেশে ওয়াকফ সম্পত্তি পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট আইনের প্রবর্তন করা হয়।[৫]

বাংলাদেশ ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয়
সংক্ষেপেওয়াক্‌ফ
গঠিত১৯৮৮
ধরনসরকারি
আইনি অবস্থাসক্রিয়
সদরদপ্তর৪, নিউ ইস্কাটন রোড
অবস্থান
যে অঞ্চলে কাজ করে
বাংলাদেশ
সদস্য
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
দাপ্তরিক ভাষা
বাংলা ও ইংরেজি
ওয়াক্‌ফ প্রশাসক
মোঃ শহীদুল ইসলাম
ওয়েবসাইটওয়াক্‌ফ

ইতিহাসসম্পাদনা

অনেক আগ থেকেই পৃথিবীর বহুদেশ ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে মানবকল্যাণে বহুমুখী কাজ করে থাকে।[৬] ১৯১৩ সালে তত্‌কালীণ ব্রিটিশ ভারতে মুসলমানদের দানকে বৈধতা প্রদানের জন্য ‘ওয়াক‌্ফ বৈধকরণ আইন’ পাস করা হয়, পরবর্তীকালে ‘‘বেঙ্গল ওয়াক্‌ফ অ্যাক্ট ১৯৩৪’’ দ্বারা ওয়াক্ফ ভূসম্পত্তির ব্যবস্থাপনা কাঠামোর ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন ঘটানো হয় এবং ১৯৬২ সালে ‘‘পূর্ব পাকিস্তান ওয়াক্‌ফ অধ্যাদেশ ১৯৬২’’-র অধীনে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তিসমূহ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত আইনের সংশোধন করা হয়।[৭][৮] ১৯৮৮ সালে ওয়াক্‌ফ অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয় এবং তখন থেকে একটি স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ হিসাবে ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যলকে ক্ষমতা অর্পণ করা হয়।

অবস্থানসম্পাদনা

ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠাকালীন এই প্রতিষ্ঠানটির দপ্তর ছিলো কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং-এ; দেশ বিভাগের পর যা ঢাকায় সরিয়ে আনা হয় এবং বর্তমানে নিউ ইস্কাটন রোডের ৪ নং ভবনে এটির সদর দপ্তর অবস্থিত।[৩]

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসম্পাদনা

এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসাবে বলা হয়েছে[৯] -

ওয়াক্‌ফ প্রশাসনের মাধ্যমে সকল ওয়াক‌্ফ সম্পত্তি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় অবদান রাখা।

ওয়াক্‌ফ করা সম্পত্তি সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সামাজিক ও ধর্মীয় কল্যাণ সাধন এবং এই সম্পত্তির সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের মাধ্যমে অর্জিত আয় দ্বারা ইসলামী বিধানাবলীর আলোকে সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করাই এই প্রতিষ্ঠানটি গঠনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।[২]

কার্যক্রমসম্পাদনা

বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসন একটি ইসলাম ধর্মীয় অনুশাসন ভিত্তিক, সামাজিক কল্যাণকর ও সেবামূলক স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা যেটি অসংখ্য মানুষের সারা জীবনের অর্জিত সম্পদ মানবতার সেবার মহান উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করলে তা দেখাশোনা ও সুষ্ঠ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে থাকে।[৬] ব্যক্তিগত, সামগ্রিক বা ধর্মীয় কাজের জন্যে দান করা হয় বলে ওয়াকফ সম্পত্তির হতে যে বিপুলভাবে আয় করা হয় তা সর্বসাধারণের উপকারে ব্যবহৃত হয়।[৭]

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "বেহাত হয়ে যাচ্ছে ওয়াক্ফ সম্পত্তি"দৈনিক সমকাল। ১৭ অক্টোবর ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৯ 
  2. "সিটিজেন চার্টার"। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ৬ আগস্ট ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৯ 
  3. "ওয়াকফ প্রশাসনের পরিচিতি"। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ২৩ নভেম্বর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৯ 
  4. Sabuktagin, Raihan। "Land dispute between two ministries brings bane to plot allottees"archive.thedailystar.net। The Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০১৯ 
  5. "উত্তরাধিকার ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর নয় 'ওয়াকফ (সংশোধন) বিল ২০১৩' চূড়ান্ত"ঢাকা জার্নাল ডটকম। ১৬ এপ্রিল ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৯ 
  6. "ওয়াকফ প্রশাসনের ডিজিটাল ডাটাবেজ কাজের স্বচ্ছতা বাড়াবে: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী"বাংলা ট্রিবিউন। ২৪ এপ্রিল ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৯ 
  7. আমিনুল হক এবং মো. মমতাজউদ্দিন আহমেদ (জানুয়ারি ২০০৩)। "ওয়াক্ফ"। সিরাজুল ইসলামবাংলাপিডিয়াঢাকা: এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশআইএসবিএন 984-32-0576-6। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৯ 
  8. "Waqfs Ordinance, 1962 (East Pakistan Ordinance No. I of 1962)."। bdlaws.minlaw.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৯ 
  9. "ভিশন ও মিশন"। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ২২ নভেম্বর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৯ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা