বহরমপুর বাবুলবোনা রেসিডেন্সি সমাধিক্ষেত্র

বহরমপুর বাবুলবোনা রেসিডেন্সিয়াল সমাধিক্ষেত্র মুর্শিদাবাদ জেলার সদর শহর বহরমপুরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক সমাধিস্থল। এটি ৩৪ নং জাতীয় সড়কের পাশেই অবস্থিত।

ইতিহাসসম্পাদনা

১৭০৪ সালে বাংলা-বিহার-ওড়িষার রাজধানী মুর্শিদাবাদ পত্তনের সময় বহরমপুর ছিল রাজধানীর দক্ষিণে ভাগীরথী তীরের একটি গ্রাম। তখন তার নাম ছিল সাতপুকুরিয়া ব্রহ্মপুর। গ্রামটায় ৭০০ ঘর ব্রাহ্মণ বাস করতো তাই স্থানটির নাম ছিল ব্রহ্মপুর। পলাশির যুদ্ধের পরে ইংরেজ আমলে বহরমপুর শহরের পত্তন ঘটে। এই এলাকাতেই সেনানিবাস তৈরি করে ইংরেজরা।

এই বহরমপুর শহরের অন্যতম ঐতিহাসিক কীর্তি হলো বাবুলবোনা রেসিডেন্সি সমাধি।বহরমপুর বাবুলবোনার রেসিডেন্সি সমাধিক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্রিটিশ বাসিন্দাদের এবং সামরিক ব্যক্তিদের কবর রয়েছে। যারা ব্রিটিশ আমলে বহরমপুর বসবাস করতেন এবং এখানে মারা গেছেন।

সমাধিসম্পাদনা

এখানে যে সমস্ত ব্যক্তির সমাধি আছে তারা হলেন

১) ক্যাপ্টেন জেমস স্কিনার (মৃত্যু- ১৭৭৩ সালে)

২) জর্জ টমাস (মৃত্যু - ১৮০২ সালে)

৩) হেনরি ক্রেটন (মৃত্যু- ১৮০৭ সালে)। তিনি গৌড়ের ধ্বংসাবশেষের অন্যতম আবিষ্কার কর্তা ছিলেন।

৪) ইসাবেলা সেনইড (মৃত্যু- ১৮৫৬ সাল), লেফটেন্যান্ট এফ.পি. ব্যালি (৭ম রেজিমেন্ট)-এর স্ত্রী।

৫) মেরি গ্রান্ট (জন্ম-১৭৯৬ সাল; মৃত্যু- ১৮৭১সাল) আয়ারল্যান্ডের কার্লোতে জন্মগ্রহণ করেন। ৬) ভ্যালেন্টাইন্স ওয়েন (জন্ম-১৯০৬ সাল; মৃত্যু-১৯০৭ সাল) ব্রার্টাম ওয়েনের পুত্র।

৭) রেভারেন্ড এ. ডব্লিউ. ওয়ালশ (মৃত্যু- ৯ জুলাই, ১৮৭১ সালে প্রাক্তন জাজ।

৮) মারিয়া মোলিস (বয়স ৩৬ বছর বয়সে মারা যান), জন মোলিসের স্ত্রী।

৯) মাইকেল ফল (মৃত্যু- ১৮৮৫ সালে)।

১০) চার্লস মেন ওয়ারিঙ স্কোয়ার (মৃত্যু- ১৮২৮ সালে)।

১১) টমাস বেঞ্জামিন রাইস (মৃ

ত্যু- ১৮৮২ সালে)

। ১২) মারিয়া এলিজা রাইস (মৃত্যু- ১৮৯৮ সা

লে)।১৩) জোসেফ এডুইন (মৃত্যু- ১৮৭০ সালে)।

১৪) জেন অ্যারো (মৃত্যু- ১৮৯১ সালে)।

১৫) স্টিফেন উইলিয়াম ল্যামব্রিক (মৃত্যু - ১৩ অক্টোবর ১৮৪২ সালে ৩৬ বছর বয়সে) রাজা কৃষ্ণনাথ রায়ের ইংরেজি শিক্ষা গুরু ছিলেন। ১৬) সিসিল উইলবারফোর্স (জন্ম- ২০ অক্টোবর ১৮৫৭ সালে এবং মৃত্যু- ২৭ নভেম্বর ১৮৫৭ সালে) জেমস আগস্ট ওয়াটসনের শিশুপুত্র।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

লেখক কমলনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রনীত “মুর্শিদাবাদ থেকে বলছি” ♦♦ "পর্যটনে মুর্শিদাবাদ": দীননাথ মণ্ডল, অণিমা প্রকাশনী, কলকাতা