প্রিয়ম্বদা দেবী

প্রিয়ম্বদা দেবী (১৮৭১ - ১৯৩৪) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙ্গালী কবি। তিনি সনেট রচনার জন্য প্রশংসিত হয়েছেন।

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

প্রিয়ম্বদা দেবীর জন্ম বৃটিশ ভারতের অধুনা বাংলাদেশের পাবনা জেলার গুনাইগাছা গ্রামে মাতামহের কর্মক্ষেত্রে। পৈতৃক নিবাস ছিল যশোরে। তার পিতা কৃষ্ণকুমার বাগচি। মাতা প্রসন্নময়ী দেবীও একজন কবি ছিলেন। মায়ের সঙ্গে মাতুলালয়েই তার জীবন কেটেছে।প্রখ্যাত সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীকলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি স্যার আশুতোষ চৌধুরী ছিলেন তার মাতুল। প্রিয়ম্বদা ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে বেথুন স্কুল থেকে এন্ট্রান্স এবং বেথুন কলেজ থেকে এফ.এ ও ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে বি.এ পাশ করেন। ওই বছরেই মধ্য প্রদেশের রায়পুরের আইনজীবী তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার বিবাহ হয়। ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে তার স্বামী মারা যান এবং ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে তার একমাত্র পুত্রও মারা গেলে তিনি সমাজসেবা এবং কাব্যচর্চাকে জীবনের অঙ্গ করেন - হয়ে ওঠেন দুঃখবাদী কবি।[১]

কাব্যচর্চাসম্পাদনা

ছাত্রাবস্থাতেই প্রিয়ম্বদার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ভারতী পত্রিকায়। তার প্রথম গ্রন্থ "রেণু"-১৯০০ প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গেই সাড়া পড়ে যায়। [২] কাব্যরচনায় তিনি রবীন্দ্রনাথের সহযোগিতা লাভ করেছিলেন। তাই তার কবিতায় রবীন্দ্রনাথের ছায়া সর্বত্র বিস্তারিত। যে স্বাতন্ত্র্য ছিল তা হল প্রকাশরীতির বিশিষ্টতা। তার কবিতার প্রথম ও প্রধান লক্ষণ- মিতভাষিতা এবং সংস্কৃতকাব্যরীতির ধারা। তিনি অনেকগুলি উৎকৃষ্ঠ সনেটও রচনা করেছেন। প্রিয়ম্বদা দেবীর কবিতাগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-

  • রেণু (১৯০১),
  • পত্রলেখা (১৯১০),
  • অংশু (১৯২৭)
  • চম্পা ও পারুল (১৯৩৯)তার মৃত্যুর পরে প্রকাশিত।

অন্যান্য গ্রন্থ হল -

  • অনাথ
  • পঞ্চুলাল
  • কথা ও উপকথা

সমাজসেবা ও নারীশিক্ষাসম্পাদনা

প্রিয়ম্বদা দেবী কাব্যচর্চার মাঝে সমাজসেবা ও নারীশিক্ষা বিস্তারের কাজে ব্রতী ছিলেন। নারীশিক্ষা প্রচলনের জন্য তিনি একাধিক মহিলা শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘকাল ভারত-স্ত্রী-মহামণ্ডলের কর্মাধ্যক্ষা ছিলেন। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি ব্রাহ্মবালিকা শিক্ষালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন। [১]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, আগস্ট ২০১৬, পৃষ্ঠা ৪৩৫, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. শিশিরকুমার দাশ (২০১৯)। সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী। সাহিত্য সংসদ, কলকাতা। পৃষ্ঠা ১৩২। আইএসবিএন 978-81-7955-007-9