প্রধান মেনু খুলুন
বামে, পাম ফলের তেল এবং ডানে, পাম শাঁসের (বীজের) তেল।
জমাট অবস্থায় পাম তেল

পাম তেল একধরনের ভোজ্য উদ্ভিজ্জ তেল, যা পাম ফলের মধ্যবর্তী অংশ হতে পাওয়া যায়। উচ্চ বিটা-ক্যারোটিনের কারণে স্বাভাবিকভাবেই পাম তেল লালচে রংয়ের হয়। একই ফলের শাঁস(বীজ) হতে পাম শাঁসের(বীজের) তেল পাওয়া যায়।[১]আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ব্রাজিল অঞ্চলে পাম তেল রান্নায় ব্যবহৃত খুব সাধারণ একটি উপাদান।

ইতিহাসসম্পাদনা

 
আফ্রিকান পাম গাছ

মানুষের পাম তেল ব্যবহারের ইতিহাস জানার জন্য ফিরে যেতে হবে ৫০০০ বছর পিছনে পশ্চিম আফ্রিকায়। ১৮০০-এর দশকের শেষের দিকে, প্রত্নতাত্ত্বিকরা মিশরের অ্যাবাইডোস (Abydos) এ ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের পুরনো একটি সমাধিতে একটি পদার্থ আবিষ্কার করেন এবং তারা উপসংহারে পৌঁছান যে, এটি মূলত পাম তেল ছিল।[২] এটা মনে করা হয় যে, আরব ব্যবসায়ীরা পাম তেল মিশরে নিয়ে আসেন।[৩] আফ্রিকান পাম তেল এর গাছ (Elaeis guineensis) থেকে পাম তেল পশ্চিম এবং মধ্য আফ্রিকার দেশগুলোতে স্বীকৃত হয়েছে এবং এটি ব্যাপকভাবে রান্নার তেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইউরোপীয় বণিকরা মাঝে মাঝে পশ্চিম আফ্রিকার ব্যবসায়ীদের সাথে পাম তেল ক্রয় করতো ইউরোপে রান্নার তেল হিসাবে ব্যবহারের জন্য। ব্রিটেনের শিল্প বিপ্লবের সময় যন্ত্রপাতির জন্য পিচ্ছিলকারক (লুব্রিকেন্ট) হিসাবে ব্যবহারের জন্য পাম তেল ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের দ্বারা পরবর্তীতে জনপ্রিয় পণ্য হয়ে ওঠে।[৪] সাবান পণ্যগুলির ভিত্তি পাম তেল দিয়ে গঠিত, যেমন লিভার ব্রাদার্স (এখন ইউনিলিভার) এর "সানলাইট" সাবান এবং আমেরিকান পালমোলিভ (Palmolive) ব্র‍্যান্ড[৫] ১৮৭০ এর দিকে পাম তেল কিছু পশ্চিম আফ্রিকান দেশগুলির রপ্তানির প্রধান অংশ ছিল, যেমন ঘানা এবং নাইজেরিয়া, যদিও এটি ১৮৮০-এর দশকে কোকো (Cocoa) দ্বারা ছাড়িয়ে গিয়েছে।[৬][৭]

প্রক্রিয়াকরণ এবং ব্যবহারসম্পাদনা

 
গাছে পাম ফল
 
পাম ফলের গুচ্ছ

উৎপাদনসম্পাদনা

২০১৬ সালে বিশ্বব্যাপী পাম তেলের উৎপাদন ছিল আনুমানিক ৬২.৬ মিলিয়ন টন, যা ২০১৫ সালের তুলনায় ২.৭ মিলিয়ন টন বেশি। ২০১৬ সালে পাম তেলের উৎপাদন মূল্য ছিল আনুমানিক ৩৯.৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছর সংরক্ষিত উৎপাদন চিত্রের তুলনায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার (বা +৭%) বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৬২ থেকে ১৯৮২ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী বার্ষিক পাম তেল রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে অর্ধ মিলিয়ন থেকে ২.৪ মিলিয়ন টন এবং ২০০৮ সালে বিশ্বে পাম তেল এবং পাম শাঁসের তেলের উৎপাদিত পরিমাণ ৪৮ মিলিয়ন টন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী পাম তেলের চাহিদা ২০২০ সালে দ্বিগুণ এবং ২০৫০ সালে তিনগুণ হবে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Poku, Kwasi (২০০২)। "Origin of oil palm"Small-Scale Palm Oil Processing in Africa। FAO Agricultural Services Bulletin 148। Food and Agriculture Organization আইএসবিএন 92-5-104859-2 
  2. Kiple, Kenneth F.; Conee Ornelas, Kriemhild, সম্পাদকগণ (২০০০)। The Cambridge World History of FoodCambridge University Pressআইএসবিএন 0521402166। ২০ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০১২ 
  3. Obahiagbon, F.I. (২০১২)। "A Review: Aspects of the African Oil Palm (Elaeis guineesis Jacq.)" (PDF)American Journal of Biochemistry and Molecular Biology2 (3): 1–14। doi:10.3923/ajbmb.2012.106.119। ১৬ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০১২ 
  4. "British Colonial Policies and the Oil Palm Industry in the Niger Delta Region of Nigeria, 1900–1960." (PDF)African Study Monographs21 (1): 19–33। ২০০০। ১৬ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা (PDF) 
  5. Bellis, Mary। "The History of Soaps and Detergents"About.comIn 1864, Caleb Johnson founded a soap company called B.J. Johnson Soap Co., in Milwaukee. In 1898, this company introduced a soap made of palm and olive oils, called Palmolive. 
  6. antislavery.org
  7. Commercial Agriculture, the Slave Trade and Slavery in Atlantic Africa আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪৭-০১০৭৫-৯ p.22