নিমাইসাধন বসু (১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৩১ - ১৭ আগস্ট, ২০০৪) বিশিষ্ট বাঙালি ইতিহাসবিদ এবং শিক্ষাবিদ।[২]

নিমাইসাধন বসু
জন্ম(১৯৩১-০৯-১২)১২ সেপ্টেম্বর ১৯৩১[১]
মৃত্যু১৭ আগস্ট ২০০৪(2004-08-17) (বয়স ৭২)
জাতীয়তাভারতীয়
নাগরিকত্বভারতীয় ভারত
পেশাশিক্ষাবিদ ও ইতিহাসবিদ
পরিচিতির কারণ'দ্য ইন্ডিয়ান অ্যাওয়েকেনিং অ্যান্ড বেঙ্গল'
পিতা-মাতাতারাপদ বসু(পিতা)
সুহাসিনী দেবী (মাতা)

জন্ম ও শিক্ষা জীবনসম্পাদনা

নিমাইসাধন বসুর জন্ম ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১২ ই জানুয়ারি বৃটিশ ভারতের অধুনা পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার রামকৃষ্ণপুরে। পিতার নাম তারাপদ বসু ও মাতার নাম সুহাসিনী বসু। তাঁর প্রাথমিক পড়াশোনা হাওড়ার বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউশনে। কলকাতার সেন্ট পলস কলেজ থেকে স্নাতক হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এম.এ পাশের পর উচ্চশিক্ষার জন্য বিলেত যান।১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে বিশিষ্ট ভারততত্ত্ববিদ আর্থার লেবেলিন বেশামের অধীনে ভারতের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেন। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি এবং ১৯৬৬-৬৭ খ্রিস্টাব্দে হাবার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলোশিপ পান। পরে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্ম জীবনসম্পাদনা

দেশে ফিরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হন এবং ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁরই উদ্যোগে শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস চালু হয় এবং বোলপুর স্টেশন চত্বরে রবীন্দ্রনাথের নানাবিধ কার্যক্রমের একটি ছোটখাটো মিউজিয়াম তৈরি হয় যাত্রীদের জন্য। ফুলব্রাইট ও রকফেলার ফাউন্ডেশনের স্কলারশিপ প্রাপ্ত তিনি সাউথ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শন অধ্যাপক ছিলেন। [৩]

রচিত গ্রন্থাবলিসম্পাদনা

অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। মূলত ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম, ধর্ম ইত্যাদির উপর লেখা বই নিয়ে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় ৪৩ টি।বিশ্বভারতী নিয়ে তাঁর লেখা গ্রন্থ 'ভঙ্গনীড় বিশ্বভারতী'। 'দ্য ইন্ডিয়ান অ্যাওয়েকেনিং অ্যান্ড বেঙ্গল' গ্রন্থটি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা লাভ করে। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ গুলি হল-

  • 'ঊনিশ শতক ও বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলন'
  • 'রেসিজিম ইন বেঙ্গল'
  • 'স্বামী বিবেকানন্দ'
  • 'রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী'
  • 'মা সারদা'
  • 'দেশনায়ক সুভাষচন্দ্র'
  • 'ইন্ডিয়ান অ্যাওয়েকেনিং অ্যান্ড বেঙ্গল'
  • 'স্ট্রাগল ফর ইকুয়ালিটি অ্যান্ড ইন্ডিয়ান ন্যাশনালিজম'
  • 'শাশ্বত বিবেকানন্দ'
  • 'দেশ কাল মানুষ'
  • 'আমি: ইন্দিরা গান্ধী'

জীবনাবসানসম্পাদনা

নিমাইসাধন বসু প্রোস্টট সমস্যা নিয়ে কলকাতার এক নার্সিংহোমে ভর্তি হন ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের ৮ ই আগস্ট। পরের দিন তাঁর আপাত সফল শল্যচিকিৎসা হয়। কিছু ১৫ আগস্ট থেকে অবস্থা অবনতি হতে শুরু করে এবং শেষে ১৭ ই আগস্ট তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. প্রাত্যহিকী, আকাশবাণী, কলকাতা, প্রচার-তারিখ=২০২০-০৯-১২
  2. অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, দ্বিতীয় খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, জানুয়ারি-২০১৯, পৃষ্ঠা ১৯৪, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-২৯২-৬
  3. "Nemai Sadhan Bose Dead"। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-১২