চাঁদ রাত (আক্ষরিক অর্থে চাঁদের রাত) মুসলিম উৎসব ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ভারতে ব্যবহৃত একটি বাংলা, উর্দু এবং হিন্দি ভাষার বাচন; এছাড়া এর অর্থ আরবী মাস শাওয়ালের প্রথম তারিখে উদিত একটি নতুন চাঁদযুক্ত রাতও হতে পারে। চাঁদ রাত হচ্ছে উদ্‌যাপনের সময়, এই সময় পরিবার ও বন্ধুরা রমজানের শেষ দিনে নতুন চাঁদ দেখার জন্য খোলা জায়গায় জড়ো হয়, নতুন চাঁদ ইসলামী শাওয়াল মাসের আগমন এবং ঈদের দিনকে ইঙ্গিত করে। একবার যখন চাঁদ দেখা যায়, তখন লোকেরা একে অপরকে চাঁদ রাত মোবারক ("নতুন চাঁদের শুভকামনা") বা ঈদ মোবারক ("ঈদের দিনের শুভকামনা") জানায়। মহিলা এবং মেয়েরা মেহেদি দিয়ে তাদের হাত সজ্জিত করে এবং পরের দিন ঈদের জন্য লোকেরা মিষ্টিজাত প্রস্তুত করে এবং শেষ দফায় কেনাকাটা করে।[১] শহরের রাস্তাগুলো একটি উৎসবের এবং বিপণনের দোকানো উজ্জ্বল আলোতে সজ্জিত হয়, একই সাথে এই রাতে বাজারগুলো গভীর রাত অবধি খোলা থাকে।[২][৩] পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে মুসলমানরা (এবং মাঝে মাঝে অমুসলিমরাও) সামাজিক-সাংস্কৃতিক তাৎপর্যপূর্ণভাবে চাঁদ রাতের উৎসব আবেগের সাথে উদযাপিত করে। এই রাতটি বড়দিনের প্রাক্কালের সাথে তুলনীয়।

চাঁদ রাত
Moon crescent on the eve of Eid on 24 may 2020.jpg
একটি অর্ধচন্দ্রাকার চাঁদ
পালনকারীমুসলমানগণ
ধরনইসলামি
সম্পর্কিতরমজান, ঈদুল ফিতর

ব্যুৎপত্তিসম্পাদনা

 
ভারতের হায়দ্রাবাদে চাঁদ রাতের উদ্‌যাপন।

এই শব্দটি সংস্কৃত চন্দ্র "চাঁদ"[৪] এবং রাত্রি "রাত" শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়েছে।[৫]

পটভূমিসম্পাদনা

চাঁদ রাতের উদ্‌যাপনগুলো শাওয়াল মাসের এক তারিখে উদযাপিত ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে ঘটে। একটি আরবী মাসের সূচনা চন্দ্র প্রথম দেখা উপর নির্ভর করে, এর ফলে রমজান মাস হয় ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি চাঁদ দেখার কথা ঘোষণা করে (যার উপর ভিত্তি করে শাওয়াল মাস শুরু হয়) এবং একই সন্ধ্যা হতে চাঁদ রাতের উদ্‌যাপন শুরু হয়ে থাকে। যেহেতু ঈদুল ফিতরের সঠিক দিনটি চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল, তাই চাঁদ রাতকে ঈদুল আযহার (কেননা ঈদুল আযহার দিন ১০ দিন আগে থেকেই জানা যায়) থেকে ঈদুল ফিতরের উৎসব হিসাবে বেশি বিবেচনা করা হয়।

উৎসবসম্পাদনা

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি চাঁদ দেখার ঘোষণা দেওয়ার সাথে সাথে মসজিদ, টেলিভিশন চ্যানেল এবং রেডিও স্টেশনগুলো থেকে এই বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়। চাঁদ রাতের উৎসব প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হয় এবং সকালে ফজরের সালাত পর্যন্ত সারা রাত অব্যাহত থাকে। বেশিরভাগ সকল পরিবার স্থানীয় বাজার, মার্কেট এবং শপিংমলগুলোতে তাদের শেষ সময়ের বাজার করতে যায়। মহিলারা সাধারণত সালোয়ার-কামিজ, চুড়ি, গহনা এবং ব্যাগ ক্রয় করে থাকেন এবং পুরুষরা বেশিরভাগ জুতাতে মনোনিবেশ করেন। এই রাতে বন্ধুদের জন্য উপহার ও মিষ্টি এবং ছোট বাচ্চাদের জন্য খেলনা নিয়ে যাওয়া হয়। পরের দিনের প্রস্তুতিতে সেলুন এবং বিউটি পার্লারগুলোতে সন্ধ্যায় প্রচুর ভীড় লক্ষ্য করা যায়। মহিলা ও মেয়েরা মেহেদী দিয়েও হাত সাজিয়ে থাকে। বাজারের পাশাপাশি সরকারী ভবন, ব্যাংক এবং মসজিদগুলোতে আলোকসজ্জা লক্ষ্য করা যায়। চাঁদ রাত সব বয়সী মানুষকে তাদের বন্ধুবান্ধব এবং বর্ধিত পরিবারের সাথে দেখা করার সুযোগ করে দেয়।[৬]

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Jamila Achakzai। "'Chand Raat' is here again"। The News। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০১৭ 
  2. Adeela Akmal। "12 Things That Only Pakistanis Do On Chand Raat"। Web Chutney। ১৩ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০১৭ 
  3. "City gears for Chand Raat"। Times of India। ৫ ডিসেম্বর ২০০২। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৮-০১ 
  4. "चन्द्र, candra, moon"। Spoken Sanskrit Dictionary। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৮-০১ 
  5. "रात्रि, raatri, night"। Spoken Sanskrit Dictionary। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৮-০১ 
  6. S.K. Pakistan। "13 Times Pakistanis Go Wild On Every Chaand Raat"। Shugal.com। ২৪ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০১৭ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা