কেরলের কেতকী পত্রের হস্তশিল্প

কেরলের কেতকী পত্রের (স্ক্রু পাইন) হস্তশিল্প হল কেরলের একটি ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প। এটি কেরালার ত্রিশূর জেলার মালাপুপুরম এবং লোকমনেশ্বরমে উৎপাদিত হয়। ঐ ভৌগোলিক অঞ্চলে মহিলাদের ক্ষমতায়নের একটি হাতিয়ার হিসাবে এই শিল্প শুরু হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে পরিবেশ বান্ধব হওয়ার কারণে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।[১] এগুলি কেরলের কারিগর কর্তৃক কেতকী পাতা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের মাদুর এবং দেওয়ালে ঝোলানো গৃহসজ্জার সামগ্রী তৈরী করার শিল্পকর্মভারত সরকারের হস্তশিল্প কমিশনার, বস্ত্র মন্ত্রকের দায়েরকৃত একটি আবেদন অনুসারে, "কেরলের স্ক্রু পাইন ক্রাফট" কে মাদুর, দরজার মাদুর, দেয়াল ঝুলানো, বিছানার চাদর, প্রার্থনার মাদুর বিষয়ে নিবন্ধকরণ করা হয়েছে, যা ২৭ নভেম্বর ২০১৫ থেকে কার্যকর হওয়া ভৌগোলিক নির্দেশক (নিবন্ধকরণ এবং সুরক্ষা) আইন, ১৯৯৯ এর ১৩ (১) অনুচ্ছেদের অধীনে ২৭ নং শ্রেণিতে পড়ছে। [২]

ভৌগোলিক নির্দেশক রেজিস্ট্রিতে "স্ক্রু পাইন ক্রাফ্ট" এর লোগো

বর্ণনাসম্পাদনা

স্ক্রু পাইন, যা পান্ডানাস নামে পরিচিত (মালয়ালম ভাষায় থাজা), মূলত কেরালায় পাওয়া যায়। এটি পান্ডানাসিয়া পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এগুলিকে তরোয়াল আকৃতির পাতা, কাঁটাযুক্ত ধার এবং বায়বীয় শিকড় দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর বিভাজিত পাতাগুলি খুব নমনীয়। এগুলির তাল পাতার সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। এটি একটি বৃহৎ উদ্ভিদ, যেগুলির জন্য যথেষ্ট সূর্যের আলো প্রয়োজন, তবে প্রখর রৌদ্রে কিছুটা হায়া প্রয়োজন হর।[১]

ব্যবহারসম্পাদনা

এই গাছের পাতা ব্যবহার করে মাদুর বোনা, কেরলের মহিলাদের একটি বিশেষ নৈপুণ্য, কেরলের অনেক মহিলাই এই কর্মে রত থাকেন থাকেন। কেরলের সমস্ত জেলায় কারিগরদের দ্বারা অনুশীলন করা এই নৈপুণ্যটি আজ থেকে ৮০০ বছর আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। কেতকী পাতা দ্বারা উৎপাদিত মাদুরগুলি কেরলের ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বাড়িতে গুরুত্বপূর্ণ দর্শনার্থীদের সম্মানজনক উপহার হিসাবে এই মাদুরগুলি উপঢৌকন হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এই মাদুরগুলির সূক্ষ্ম বুননের কারনে ঘুমের সময় এগুলো বিছানা হিসাবেও ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "famous Screw Pine Craft of Kerala"। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ 
  2. Government of India (৩০ নভেম্বর ২০১৫)। "Screw pine craft of Kerala - GI Application No. 518" (PDF): 81। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০১৬