কাশফুল একধরনের ঘাসজাতীয় জলজ উদ্ভিদ।[১] এর বৈজ্ঞানিক নাম Saccharum spontaneum (হিন্দি: काँस kām̥s, ওড়িয়া: କାଶତଣ୍ଡି kāśataṇḍi অসমীয়া: কঁহুৱা, খাগৰী kahuwa, khagori)। এরা উচ্চতায় সাধারনত ৩ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়।[২][৩][৪][৫] নদীর তীরে ফুলফোটা শ্বেতশুভ্র কাশবন দেখতে খুবই সুন্দর। এর আদিবাস রোমানিয়া

কাশফুল
Saccharum spontaneum
K5601-19.jpg
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Plantae
(শ্রেণীবিহীন): Angiosperms
(শ্রেণীবিহীন): Monocots
(শ্রেণীবিহীন): Commelinids
বর্গ: Poales
পরিবার: Poaceae
গণ: Saccharum
প্রজাতি: S. spontaneum
দ্বিপদী নাম
Saccharum spontaneum
L.

বর্ণনাসম্পাদনা

কাশফুল মূলত ছন গোত্রীয় এক ধরনের ঘাস। নদীর ধার, জলাভূমি, চরাঞ্চল, শুকনো রুক্ষ এলাকা, পাহাড় কিংবা গ্রামের কোনো উঁচু জায়গায় কাশের ঝাড় বেড়ে ওঠে। তবে নদীর তীরেই এদের বেশি জন্মাতে দেখা যায়। এর কারণ হল নদীর তীরে পলিমাটির আস্তর থাকে এবং এই মাটিতে কাশের মূল সহজে সম্প্রসারিত হতে পারে। শরত ঋতুতে সাদা ধবধবে কাশফুল ফোঁটে। বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই কাশফুল দেখতে পাওয়া যায়। কাশফুল পালকের মতো নরম এবং রঙ ধবদবে সাদা। গাছটির চিরল পাতার দুই পাশ খুবই ধারালো।[১]

ব্যবহারসম্পাদনা

কাশফুলের বেশ কিছু ঔষধি গুণ রয়েছে। যেমন- পিত্তথলিতে পাথর হলে নিয়মিত গাছের মূলসহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে ওষুধ তৈরি করে পান করলে পিত্তথলির পাথর দূর হয়। কাশমূল বেটে চন্দনের মতো নিয়মিত গায়ে মাখলে গায়ের দুর্গন্ধ দূর হয়। এছাড়াও শরীরে ব্যথানাশক ফোঁড়ার চিকিৎসায় কাশের মূল ব্যবহৃত হয়।[১]

সাহিত্য মাধ্যমেসম্পাদনা

সাহিত্যে কাশফুলের কথা এসেছে নানাভাবে। রবীন্দ্রনাথ প্রাচীন গ্রন্থ ‘কুশজাতক’ কাহিনী অবলম্বন করে ‘শাপমোচন’ নৃত্যনাট্য রচনা করেছেন। কাশফুল মনের কালিমা দূর করে। শুভ্রতা অর্থে ভয় দূর করে শান্তির বার্তা বয়ে আনে। শুভ কাজে কাশফুলের পাতা বা ফুল ব্যবহার করা হয়।[১]

অন্যান্য তথ্যসম্পাদনা

প্রাগৈতিহাসিককাল থেকে বাংলাদেশ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে কাশফুল ছিল। কাশফুলের অন্য একটি প্রজাতির নাম কুশ। এরা দেখতে প্রায় কাশফুলের মতোই। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ‘পুরাণ’-এ কুশের স্থান খুব উঁচুতে। গ্রামের বাড়ি বা পুকুর পাড়ে ইচ্ছা করলে কাশফুল লাগান যেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে কিছুটা ঠাণ্ডা ও বালু মিশ্রিত স্থান বেছে নিতে হবে।[১]

চিত্রশালাসম্পাদনা

 
পুকুর পাড়ে রাস্তার দু-পাশে বেড়ে ওঠা কাশ বন
 
কুড়িগ্রাম জেলার ধরলা নদীতীরের কাশফুলের ছবি

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. স্নিগ্ধ শরতের শুভ্র কাশফুল - দৈনিক যুগান্তর (২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪)
  2. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি" (PDF)। ৩ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০১৫ 
  3. http://assamplants.com/Alphabetical%20%20Order%20(Sc%20Name).htm
  4. "Pankaj Oudhia (2001-3)"। ২ মে ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০১৫ 
  5. http://assamplants.com/All%20Species/Saccharum%20spont.htm

বহিঃসংযোগসম্পাদনা