কম্বোডিয়া–ফিলিপাইন সম্পর্ক

কম্বোডিয়া ও ফিলিপাইন রাষ্ট্রদ্বয়ের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

কম্বোডিয়া–ফিলিপাইন সম্পর্ক হল কম্বোডিয়া এবং ফিলিপাইনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। ১৯৫৭ সালে এ দুইদেশের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ১৯৯৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনঃস্থাপন ঘটে, এবং তখন থেকেই এ দুই দেশ পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। কম্বোডিয়ার দূতাবাস রয়েছে ম্যানিলাতে, পক্ষান্তরে ফিলিপাইনের দূতাবাস রয়েছে ফেনম পেনে[১]

কম্বোডিয়া–ফিলিপাইন সম্পর্ক
মানচিত্র কম্বোডিয়া এবং ফিলিপাইনের অবস্থান নির্দেশ করছে

কম্বোডিয়া

ফিলিপাইন

সম্পর্কসম্পাদনা

 
ফিলিপাইনের উপরাষ্ট্রপতি কার্লোস পি. গার্সিয়ার সাথে প্রিন্স নরোডম সিহানৌক, ম্যানিলা, ৩০ জানুয়ারি, ১৯৫৬।

ষষ্ঠ শতক থেকেই এ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের নজির পাওয়া যায়। সতের শতকে কম্বোডিয়া এবং স্প্যানিশ ম্যানিলার মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বিদ্যমান ছিল। ম্যানিলার জন্য কম্বোডিয়া একটি অসাধারণ নৌকানির্মাণ কেন্দ্র ছিল, কারণ কম্বোডিয়ার বন থেকে অসাধারণ কাঠ পাওয়া যেত। পরবর্তীতে ১৯৯২-১৯৯৩ সালের মধ্যে কম্বোডিয়া শান্তিরক্ষা মিশনেও ফিলিপাইনিরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।[২]

অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক, কৃষি ও কৃষিজাত ব্যবসার সমন্বয় এবং পর্যটন – ইত্যাদি ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি রয়েছে।[১] দুই দেশই কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনঃস্থাপন পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখত। ফিলিপাইন ও কম্বোডিয়া আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ ও জঙ্গিবাদ দমনে একসাথে কাজ করার চুক্তিও করে।[২][৩]

চীনের ঘনিষ্ঠ মৈত্র হওয়া সত্ত্বেও কম্বোডিয়া ও ফিলিপাইনের সম্পর্ক সর্বদাই উষ্ণ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ চীন সাগর সম্পর্কিত একটি আঞ্চলিক বিবাদে অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান ন্যাশনসের যৌথ বিবৃতি দিতে ব্যর্থ হবার ঘটনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা চলে আসে। কম্বোডিয়ার এমন অবস্থানের পিছনে মূল কারণ ছিল চীনের সাথে তাদের বন্ধুত্ব ও চীন থেকে আসা রাজনৈতিক চাপ। কিন্তু ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত ফেনম পেন, কম্বোডিয়ায় নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নো ওং বলেন, দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক "শক্তিশালী এবং চমৎকার" রয়েছে এবং দুই দেশই পারস্পরিক লাভের অবস্থানগুলি জোরদার করার চেষ্টা করছে।[৪]

ফিলিপাইনে নিযুক্ত কম্বোডিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত হোশ সেরেথন অভিযোগ করেছিলেন যে ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম দক্ষিণ চীন সাগর সম্পর্কিত বিবাদে "নোংরা রাজনীতি"র মাধ্যমে আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রসমূহকে একই স্থানে দাঁড়াতে বাধ্য করছে। এন মন্তব্যের পর কম্বোডিয়া হোশ সেরেথনকে দেশে ফিরিয়ে আনেন। ২০১৬ সালে কম্বোডিয়া আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের 'ফিলিপাইন, চীনের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছে' - এ অভিন্ন অবস্থান থেকে সরে আসে। কারণ ফিলিপাইনের সাথে চীনের ঘটনা এবং কম্বোডিয়ার সাথে থাইল্যান্ডের ঘটনা অনুরূপ। চীনের পক্ষে গেলে এটাই প্রমাণিত হয়, যে কম্বোডিয়া আর থাইল্যান্ডের মধ্যকার বিবাদমান অঞ্চলটিতে থাইল্যান্ডেরই অধিকার রয়েছে।[৫]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "National Day of Cambodia Wednesday"Manila Bulletin। নভেম্বর ৮, ২০১১। ৭ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০১৬ 
  2. "HISTORICAL CONTACTS"। ১৮ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০১৬ 
  3. "Philippines, Cambodia to sign agreement to combat transnational crime, terrorism"। নভেম্বর ১৬, ২০১২। ৭ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০১৬ 
  4. "PH-Cambodia relations excellent, says envoy"ABS-CBN। নভেম্বর ১৬, ২০১২। 
  5. "Cambodia recalls envoy to Philippines"Inquirer Global Nation। আগস্ট ১০, ২০১২। 

টেমপ্লেট:কম্বোডিয়ার বৈদেশিক সম্পর্ক টেমপ্লেট:ফিলিপাইনের বৈদেশিক সম্পর্ক