কন্যাকুমারী জেলা

তামিলনাডুর জেলা

কন্যাকুমারী জেলা ভারতের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণতম জেলা এবং তামিলনাড়ু রাজ্যের ৩৮টি জেলার অন্যতম। তামিলনাড়ুর জেলাগুলির মধ্যে জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক থেকে চেন্নাই জেলার পরেই এটি দ্বিতীয় সর্বাধিক নগরায়িত জেলা[১] এটি মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে তামিলনাড়ুর সবচেয়ে ধনী জেলা,[২] এবং মানব উন্নয়ন সূচকে (এইচডিআই), সাক্ষরতা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রেও এই রাজ্যের শীর্ষে রয়েছে। [৩][৪] জেলার সদর দফতর নাগেরকয়েল ।

কন্যাকুমারী জেলা
கன்னியாகுமரி மாவட்டம்
তামিলনাড়ুর জেলা
কন্যাকুমারীতে, তিরুক্কুলার-য়ের রচয়িতা প্রাচীন তামিল কবি তিরুবাল্লুবার-য়ের মূর্তি
কন্যাকুমারীতে, তিরুক্কুলার-য়ের রচয়িতা প্রাচীন তামিল কবি তিরুবাল্লুবার-য়ের মূর্তি
তামিলনাড়ুর মধ্যে কন্যাকুমারীর অবস্থান
তামিলনাড়ুর মধ্যে কন্যাকুমারীর অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ৮°১৯′ উত্তর ৭৭°২০′ পূর্ব / ৮.৩২° উত্তর ৭৭.৩৪° পূর্ব / 8.32; 77.34
দেশভারত ভারত
রাজ্যTamilNadu Logo.svg তামিলনাড়ু
জেলাকন্যাকুমারী
প্রধান দপ্তরনাগেরকয়েল
তালুকা
Agastheeswaram,
Kalkulam,
Thovalai,
Vilavancode,
Killiyur,
Thiruvattar
সরকার
 • জেলা শাসকM. Arvind, I.A.S
আয়তন
 • মোট১,৬৭২ বর্গকিমি (৬৪৬ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট১৮,৭০,৩৭৪
 • জনঘনত্ব১,১১০.৭/বর্গকিমি (২,৮৭৭/বর্গমাইল)
ভাষা
 • দাপ্তরিকতামিল
সময় অঞ্চলভারতীয় প্রমাণ সময় (ইউটিসি+5:30)
ডাক সূচক সংখ্যা629 xxx
টেলিফোন কোড04652 for নাগেরকয়েল & 04651 for মার্তন্ডম
যানবাহন নিবন্ধনটিএন-৭৪ নাগেরকয়েল-য়ের জন্যে এবং টিএন-৭৫ মার্তন্ডম-য়ের জন্যে
তটরেখা৭২ কিলোমিটার (৪৫ মা)
বার্ষিক বৃষ্টিপাত২,৩৮২ মিলিমিটার (৯৩.৮ ইঞ্চি)
ওয়েবসাইটwww.kanyakumari.tn.nic.in

কন্যাকুমারী জেলার ভৌগোলিক বৈচিত্র্য অতুলনীয়, জেলাটির তিন দিকে রয়েছে সমুদ্র এবং উত্তর পাশের সীমান্তে পশ্চিম ঘাট পর্বতমালা। কন্যাকুমারী শহরের পশ্চিমে কিছুটা অংশ বাদে প্রায় পুরো জেলাটিই পশ্চিম ঘাট এবং আরব সাগরের মধ্যে অবস্থান করে -এটিই তামিলনাড়ু রাজ্যের একমাত্র জেলা যা আরব সাগরের সাথে সীমান্ত গঠন করে।

ভূতাত্ত্বিকভাবে, জেলার জেলার ভূমিটি রাজ্যের অন্যান্য জেলার তুলনায় অপেক্ষাকৃত নবীন। মায়োসিনের সময় আড়াই মিলিয়ন বছর পরে ভূমিগঠন শুরু হয়েছিল, যার পরে অসংখ্যবার সমুদ্রের সীমালংঘন এবং প্রতিরোধের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পশ্চিম উপকূলের তটরেখা গঠিত হয় ।

ঐতিহাসিকভাবে, নানজিনাদ এবং ইদাইনাড়ু অঞ্চলদুটি, যা অধুনাতন কন্যাকুমারী জেলার অন্তর্ভুক্ত, বিভিন্ন তামিল এবং মালায়ালম রাজবংশ দ্বারা শাসিত ছিল: যেমন ভেনাদ রাজবংশ, পান্ড্য রাজবংশ, চেরা রাজবংশ, চোল রাজবংশ, আয় রাজবংশ এবং নায়ক রাজবংশ। প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের দ্বারা সেই যুগের বেশ কয়েকটি শিল্পকর্ম উদ্ধার করা হয়েছে। [৫] ভারতের স্বাধীনতার পূর্বে ঔপনিবেশিক কালে বেশ কিছুটা অংশ ত্রিবাঙ্কুর রাজবংশের অংশ ছিল। [৬] তিরুবনন্তপুরম জেলার আটটি তহসিলের মধ্যে চারটি পূর্ববর্তী ত্রিবাঙ্কুর রাজ্য থেকে আলাদা হয়ে কন্যাকুমারীর নতুন জেলা গঠন করা হয়েছিল এবং ১৯৫6 সালে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সুপারিশক্রমে তাদের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সীর অংশ করা হয়েছিল। পরে প্রেসিডেন্সীর নামকরণ করা হয়েছিল তামিলনাড়ু এবং কন্যাকুমারী, বর্তমানে তামিলনাড়ু রাজ্যের ৩৮টি জেলার মধ্যে অন্যতম।

ইতিহাসসম্পাদনা

 
১৮৭১ সালে ত্রিবাঙ্কুরের একটি মানচিত্র

বর্তমান কন্যাকুমারী জেলা নিয়ে গঠিত অঞ্চলটি ছিল প্রথম এবং দ্বিতীয় সংঘ যুগের পুরাতন আয় রাজ্যের একটি অংশ। আয় রাজ্যগুলির পতনের পরে, অঞ্চলটি ভেনাদের অংশে পরিণত হয়, যার রাজধানী ছিল বর্তমানের নাগেরকাইলের উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত পদ্মনাভপুরম , । নানজিলনাদুর সম্পদ উমাইম্মা রানির শাসনামলে নায়ক এবং পরবর্তীকালে ইসলামিক সৈন্যদলসহ অনেক আক্রমণকারীকে এই অঞ্চলে আকর্ষিত করেছিল। ১৭২৯ খ্রিস্টাব্দে মার্তন্ড ভার্মা সিংহাসনে আরোহণ করার আগে ভেনাদ অঞ্চল নৈরাজ্যময় ছিল। যাইহোক, মার্তন্ড ভার্মা, কাছাকাছি অঞ্চল সংযুক্তি, ভূস্বামীদের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ত্রিবাঙ্কুর রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি তদানীন্তন ভাইসরয়ের কাছ থেকে কন্যাকুমারীর কিছু অংশ কিনেছিলেন এবং দক্ষিণের সীমানা বানিয়েছিলেন। তার শাসনের অধীনে, জেলাটি একটি সামাজিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও উন্নত হয়েছিল। জেলায় কোলাচের বিখ্যাত যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে, ত্রিবাঙ্কুর মহারাজরা কর্ণাটিক রাজাদের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য আরামবোলিতে (আরালভাইমোজি) দুর্গগুলি তৈরি করেছিলেন। ভেলু ঠাম্পি দালওয়ার বিদ্রোহের মূল উপাদানগুলি এলাকায় এবং ইংরেজ পূর্ব ভারত কোম্পানির সেনাবাহিনীর কর্নেলের অধীনে হয়েছিল।

ভূগোলসম্পাদনা

অবস্থানসম্পাদনা

জেলাটি ৭৭°১৫' এবং ৭৭°৩৬' পূর্ব দ্রাঘিমা এবং ৮°০৩ 'এবং ৮°৩৫' উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত। জেলাটির উত্তর ও উত্তর পূর্বে তিরুনেলভেলি জেলা, পূর্বে মান্নার উপসাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পশ্চিমে আরব সাগর এবং তিরুবনন্তপুরম জেলা ( কেরল ) এর সীমানা রয়েছে।

আগ্রহের জায়গাসম্পাদনা

থিড়াপারপু জলপ্রপাত

ভাষাসম্পাদনা

কন্যাকুমারী জেলায় তামিল হ'ল সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা, যদিও মালায়ালামভাষী মানুষজন যথেষ্ট সংখ্যায় রয়েছেন। কন্যাকুমারী জেলাতে এমন একটি তামিল উপভাষা রয়েছে যা তামিলনাড়ুর অন্যান্য অংশ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, কারণ এর ওপর ব্যাপক মালায়ালাম প্রভাব রয়েছে। [৭] জেলার জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ জনগণ ইংরেজি ব্যবহার করতে সমর্থ। [৮]

জনমিতিসম্পাদনা

ঐতিহাসিক জনসংখ্যা
বছরজন.±%
১৯০১৩,৫৯,২৪৮—    
১৯১১৪,২২,২৬০+১৭.৫%
১৯২১৪,৯৪,১২৫+১৭%
১৯৩১৫,৮১,৮৫১+১৭.৮%
১৯৪১৬,৭৬,৯৭৫+১৬.৩%
১৯৫১৮,২৬,৩৮০+২২.১%
১৯৬১৯,৯৬,৯১৫+২০.৬%
১৯৭১১২,২২,৫৪৯+২২.৬%
১৯৮১১৪,২৩,৩৯৯+১৬.৪%
১৯৯১১৬,০০,৩৪৯+১২.৪%
২০০১১৬,৭৬,০৩৪+৪.৭%
২০১১১৮,৭০,৩৭৪+১১.৬%

নদীসম্পাদনা

 
নীচে প্রবাহিত পাহাড়ালী নদীর সাথে মাথুর ঝুলন্ত ব্রিজটি দেখুন।

জেলার প্রধান নদী হ'ল তামিরবরণী স্থানীয়ভাবে কুঝিথুরাই আড়ু (কুঝিথুরাই নদী) নামে পরিচিত। এই নদীর দু'টি বড় উপনদী রয়েছে, যথাক্রমে কোঠায়ারু এবং পারালিয়ারাু - পেচাইপাড়ী বাঁধ এবং পেরুঞ্চনি বাঁধের নির্মিত হয়েছে এই নদীদুটির ওপর।

বনসম্পাদনা

চিত্র:Pechiparai Reservoir, Kanyakumari District - with Western Ghats in the background.jpg
কন্যাকুমারী জেলা, পেচাইপাড়ায় পশ্চিম ঘাট

কন্যাকুমারী জেলার বন প্রায় ৭৫ মিলিয়ন বছর পুরানো। মোট ১৬৭১।৩ বর্গকিমি অঞ্চলের মধ্যে  ৫০৪।৮৬ বর্গকিমি এলাকা দখল করে রয়েছে বনভূমি, যা ভৌগোলিক অঞ্চলের প্রায় ৩০.২ শতাংশ। [৯] জেলার বনাঞ্চলগুলি কন্যাকুমারী বন বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যার সদর দফতর কন্যাকুমারী জেলার রাজধানী নাগারকোইলে রয়েছে।

উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতসম্পাদনা

কন্যাকুমারী জেলার উদ্ভিদ এবং প্রাণীজগত বিস্তৃত এবং বৈচিত্র্যময়। কন্যাকুমারী জেলায় মরুভূমি ছাড়া বাকি ৪ ধরনের ভূমিরূপই রয়েছে। যার মধ্যে, বনভূমি জেলার প্রাকৃতিক দৃশ্যে একটি উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করে রয়েছে। জেলার বনভূমির আয়তন ৪০২৩৯.৫৫ হেক্টর। জেলার বনাঞ্চলগুলি প্রচুর নদী এবং জলপ্রপাত দ্বারা বেষ্টিত। এছাড়া উল্লেখযোগ্য পর্বতমালাও রয়েছে। কালিক্সাম, বালামোর, আপার কোডায়ার, লোয়ার কোডায়ার, মুকাদল বনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা